ইস্তফাই পথ? সংসদ শুরুর আগে সমাধান চান মোদি

আমাদের নতুন সময় : 30/06/2015

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই সুষমা স্বরাজ এবং বসুন্ধরা রাজেকে নিয়ে সঙ্কটের নিষ্পত্তি চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এই কারণে তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে পুরো বিষয়টির উপর একটি নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালানোর জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। আনন্দবাজার

মনমোহন সিংহের জমানায় যে ভাবে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে Èক্রাইসিস ম্যানেজার’-এর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে, এখন মোদির জমানায় অরুণ জেটলি ঠিক সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেক বিজেপি নেতা। আজ রেডিওতে Èমন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চলতি বিতর্ক নিয়ে কিছু না বললেও বিষয়টি সমাধানের জন্য যে তিনি সক্রিয়, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এ নিয়ে অরুণকে দায়িত্ব দেওয়াতেই। বিতর্কটির শুরু ক্রিকেট রাজনীতি থেকে এবং গোটা বিষয়টিতে আইনি জটিলতাও বিস্তর। তার মধ্যে বিরোধী দলের অভিযোগ, অন্য রাষ্ট্র থেকে যঁাকে ফেরত পাঠানোর জন্য দিলি্ল সরকারি ভাবে আবেদন করছে, তখন কোনও মন্ত্রী তাকে সে দেশে বসবাসের জন্য সমর্থন করতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে এর আইনি ব্যাখ্যাটাও জানতে চাইছেন মোদি। এই অনুসন্ধান চালানোর জন্যই আজ জেটলি তার চিন সফর বাতিল করেছেন। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এখন তাইল্যান্ডে। তিনি ফিরছেন ৩০ জুন। সুষমা ফিরলে জেটলি তার সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করবেন।           কাল অরুণের বাড়িতে বসুন্ধরার মধ্যাহ্নভোজনের নিমন্ত্রণ ছিল। ঠিক ছিল, নীতি আয়োগের বৈঠক সেরে অরুণের কৃষ্ঞ মেনন মার্গের বাসভবনে যাবেন বসুন্ধরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী, জেটলি-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার বাড়ির সামনে সংবাদমাধ্যমের ভিড় দেখে বসুন্ধরা ফোনে অরুণকে জানিয়ে দেন, এই বৈঠক এখন না করাই ভাল। অরুণের কাছে বসুন্ধরা ইতিমধ্যেই তার সমস্ত কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। অরুণ যখন আমেরিকায় ছিলেন, তখনই নিতিন গডকড়ীর হাত দিয়ে ললিত মোদি সম্পর্কে একটি ফাইল তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের কাছেও পাঠান বসুন্ধরা। সে সব হাতে পেলেও মোদি অপেক্ষা করছিলেন জেটলির আমেরিকা থেকে ফেরার জন্য।

প্রাথমিক ভাবে অরুণ এই সব কাগজপত্র দেখেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে তার আইনি মতামত জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইনের চোখে বসুন্ধরাকে কোনও ভাবেই দোষী সাব্যস্ত করা যাচ্ছে না। এমনকী বসুন্ধরার পুত্র দুষ্মনে্তর শেয়ার কেনার বিষয়টিতেও বসুন্ধরাকে সমর্থনই জানিয়েছেন অরুণ। তার দাবি, কোনও ভাবেই বসুন্ধরার দুর্নীতি প্রমাণ হচ্ছে না। বিজেপির মধ্যে এখন বসুন্ধরা বনাম সুষমা রাজনীতি তীব্র হয়ে উঠেছে। জেটলি আইনি দিক থেকে বসুন্ধরাকে শংসাপত্র দিলেও সুষমা সম্পর্কে তিনি কিন্তু একই ভাবে Èক্লিন চিট’ দিতে রাজি নন। আইনি মত অনুসারে, সুষমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি বেশি জটিল। কারণ, তিনি বিদেশমন্ত্রী। দেশের ভিতরে অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তির জন্য সরাসরি অন্য দেশের হাইকমিসনারকে ফোন করে অভিবাসন চাইবেন, সেটি মন্ত্রীর আচরণবিধির পরিপন্থী। সুষমার আইনজীবী স্বামী স্বরাজ কেৌশল এবং তার কন্যা কী ভাবে ললিত মোদির সাহায্য পেয়েছেন, সেটাও দেখা হচ্ছে। যা অঁাচ করে বিদেশমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, জেটলি আসলে বসুন্ধরা নয়, সুষমাকেই সরাতে চাইছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]