দেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 30/06/2015

নিUntitled-5জস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাব। সবাই সহযোগিতা করুন, আমরা এ বাজেটও বাস্তবায়ন করতে পারব। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে রাখতে গিয়ে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন,  দেশবাসী ও সব সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করতে চাই যে বাজেট আমরা দিয়েছি হয়তো ৫% ঘাটতি আছে। এটা কোনো সমস্যা না। জনকল্যাণমুখী এই বাজেট দেশের জনগণের উন্নয়নের পথকে সুগম করবে। আর্থসামাজিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। বাংলাদেশকে আমরা  বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদর্্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জ্বালাও-পোড়াও হরতাল অবরোধের ঘটনা যদি না থাকত তাহলে আমরা আমাদের জিডিপি আমাদের যেটা লক্ষ্য ছিল ৭ ভাগে উন্নীত করতে পারতাম। বিশ্ব মন্দার পাশাপাশি আমাদের দেশে কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের জ্বালাও-পোড়াও মানুষ হত্যা, নানা ধরনের কর্মকাণ্ড শত বাধা অতিক্রম করেও আমরা আমাদের জিডিপি ৬.৫১ ভাাগে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ উন্নত হোক এটা অনেকেরই পছন্দ হয় না। আমাদের দেশে একটি গোষ্ঠী ও দল রয়েছে যারা মানুষকে পুড়িয়ে মেরে আত্মতুষ্টি পায়। পোড়া মানুষের লাশ নিয়ে বীভত্স্য উল্লাসে মেতে ওঠে। তবে আমরা বাংলাদেশকে কোনোভাবেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসের চারণভূমি করতে দেব না, বাংলাদেশের মাটিকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকারের অবস্থান Èজিরো টলারেন্স’।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে বিরোধী দলের অভিযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজরের সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নয়। অনেকেই হয়তো দেশে নেই,  দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। দেশে ফিরলেই যে মুহূর্তে আমরা তাদের পাব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদু্যত্ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বিদু্যতের মারাত্মক সঙ্কট ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৬ বছরে দেশে এখন ৭০ ভাগ মানুষ বিদু্যত্ সুবিধা পাচ্ছে। বিদু্যত উত্পাদনে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ এখন ১৩ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদু্যত্ উত্পাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চুক্তি হয়েছে, এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে বৃদ্ধি পাবে। ভুটান থেকে জলবিদু্যত্ আমদানিরও পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনা যাতে না হয় তার সব ব্যবস্থা রেখেই রূপপুরে পারমাণবিক বিদু্যত্কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদু্যত্কেন্দ্র স্থাপনে বিরোধীদলের নেতাসহ কিছু ব্যক্তিবর্গের বিরোধিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় কয়লাভিত্তিক বিদু্যত্কেন্দ্র চলছে। সেখানে প্রাকৃতিকসহ কোনোকিছু সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা কেউ বলতে পারেনি। এটা আমাদের দেশ। তাই এই দেশ ও সুন্দরবন রক্ষার ব্যাপারে আমাদের থেকে বেশি দরদ কারো বেশি থাকবে, তা বিশ্বাস করি না। এটা মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশির মতোই। কোথায় সুন্দরবন আর কোথায় রামপাল। সুন্দরবনের সামান্য ক্ষতি হলে আমরা এ প্রকল্প করতে দিতাম না। আসলে বাংলাদেশের উন্নতি অনেকেরই পছন্দ হয় না, এটাই বাস্তবতা।

অবৈধভাবে মানবপাচার সম্পর্কে বিরোধীদলের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া নতুন কিছু নয়। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ বাংলাদেশি অবৈধভাবে ছিল। ‘৯৬ সালে আমরা প্রথম ক্ষমতায় আসার পর কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, শুধু সেৌদি আরবে ৮ লাখ এবং মালয়েশিয়ায় সাড়ে ৬ লাখ অবৈধ বাংলাদেশ ছিল। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সেৌদি আরব ও মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সবাইকে বৈধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব। এমনকি ক্রীড়াক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে।  সম্পাদনা : সানোয়ার




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]