নির্দষ্টিকরণ বিল অনুমোদিত
সমৃদ্ধির সোপান নিয়ে পাস হলো বাজেট

আমাদের নতুন সময় : 01/07/2015

 

bazet11_855802391 (1)নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ৪ লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে নির্দষ্টিকরণ বিল∏২০১৫ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে পাস হয় সমৃদ্ধির সোপান শীর্ষক ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন বাজেট।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চেৌধুরী সভাপতিত্বে গতকাল এই বিল পাস হয় সংসদে। এটি এই সরকারের দ্বিতীয় বাজেট। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই বাজেট পাস হয়। আগামীকাল বুধবার থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। বাজেট পাসের সময় ট্রেজারি বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা সাজেদা চেৌধুরী। এছাড়া বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মহম্মদ এরশাদসহ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, এবার বাজেটের ৯৫ দশমিক ৭ শতাংশই বাসি্তবায়িত হবে। এই বাজেটটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথ রচনা হবে বলে ও উলে্লখ করেন তিনি। পরে ২০১৬ সালের ৩০ জন সমাপ্ত অর্থবছরের কার্যাদি নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে বিভিন্ন        মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ৪ লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে নির্দষ্টিকরণ বিল∏ ২০১৫ উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

এই ব্যয় অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা সংসদে মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন। এসব মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা মিলে মোট ৫২৫টি ছঁাটাই প্রস্তাব আনেন। এসব ছঁাটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তি শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে নির্দষ্টিকরণ বিল ২০১৫ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের দফাগুলো সংসদে গৃহীত হওয়ার পর দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে নির্দষ্টিকরণ বিল কণ্ঠভোটে সংসদে পাস হয়।

নির্দষ্টিকরণ বিলই ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট। যদিও নির্দষ্টিকরণ বিলে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন করেছে সংসদ। তবে বাজেটে প্রকৃত ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এই টাকাই আগামী অর্থবছরজুড়ে সরকারের রাজস্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে। হিসাববিজ্ঞানের তত্ত্বানুযায়ী সংসদে গৃহীত এই অর্থ, গ্রস বাজেট। যা পুরোপুরি ব্যয় হয় না। শুধু আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী কিছু ব্যয় বাজেট বরাদ্দে দেখাতে হয়। যা পরে আয় দেখিয়ে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।

সংসদে গৃহীত ৪ লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হচ্ছে এক লাখ ৪৪ হাজার ১৭৬ কোটি ৯৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। যা সংসদে অনুমোদনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতা বলে সরাসরি এই অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দিতে পারেন। সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টে বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককের বেতন ইত্যাদি দায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অবশষ্টি ২ লাখ ৭১ হাজার ১৩১ কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা হচ্ছে সংসদে ভোটে গৃহীত ব্যয়। এই অর্থই ৫৬টি মঞ্জুরি দাবির মধ্য দিয়ে সংসদে গৃহীত হয়েছে।

সরকার ও বিরোধী দলের হুইপের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবির মধ্যে ৭টি মঞ্জুরি দাবি আলোচনার সদ্ধিান্ত হয়। এ দাবিগুলো হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুনর্ীতি দমন কমিশন। এসব মঞ্জুরি দাবির ওপর বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা তাদের আনীত ছঁাটাইয়ের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। যদিও আলোচনা শেষে এ ছঁাটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। সম্পাদনা : সানোয়ার




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]