প্রথমদিনেই সব টিকিট শেষ

আমাদের নতুন সময় : 04/07/2015

আনিসুর রহমান তপন : ঈদ উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথমদিনে দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে সব টিকিট। সেহরি থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে অনেককেই।

এদিকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রির কথা থাকলেও বেশিরভাগ কাউন্টার থেকে দুপুরের মধ্যেই জানানো হয় টিকিট শেষ। আবার কিছু কাউন্টার থেকে জানানো হয়, টিকিট থাকা সাপেক্ষে আজ ও কাল অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। যেমন হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রতন মিয়া বলেন, টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড় খুব। তবে সমস্যা নেই আরো চারদিন টিকিট বিক্রি করা হবে। আমাদের পর্যাপ্ত গাড়ি আছে।
সরেজমিন গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘুরে দেখা গেছে, হানিফ, শ্যামলী, টিআর, এসআর, কেয়া, নাবিল পরিবহনসহ প্রায় সব পরিবহন কাউন্টারে টিকিট ক্রয়ের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। এ অবস্থায় কাউন্টারগুলোর সামনে লাইনে নেই কোনো শৃঙ্খলা।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। তেমনই বেড়েছে ভোগান্তি ও অভিযোগের পরিমাণ। প্রতি বছরের মত এবারও আছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ। এবারও প্রায় সব কাউন্টারেই টিকিট প্রতি গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া। আর চেয়ার কোচগুলোতে পরিবহন ভেদে এর পরিমাণ আরও বেশি। অতিরিক্ত দামে টিকিট ক্রয় করা উত্তরবঙ্গের এক যাত্রী সানোয়ার জানান, গাইবান্ধার সাধারণ ভাড়া ৪শ থেকে সাড়ে ৪৫০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ৫২০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে।
ঈগল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ বশির জানান, ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে না। আমরা সরকারের নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছি। যাত্রীরা না জেনেই অভিযোগ করছেন। কারণ স্বাভাবিক দিনে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নেন। সরকারের বেঁধে দেয়া ভাড়া শুধু ঈদের সময় আদায় করা হয়। একারণে যাত্রীরা মনে করছেন বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
বিপরীত বক্তব্য বললেন, হানিফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ঈদে গন্তব্যস্থল থেকে খালি গাড়ি নিয়ে আসতে হয়। এ কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা শরিফুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। আমরা লাইনে থেকেও টিকিট পাচ্ছি না। টিকিট শেষ বলে কাউন্টার থেকে জানানো হচ্ছে। অথচ কাউন্টারের বাইরে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
নাবিল পরিবহনে নীলফামারী যেতে ইচ্ছুক ইমরান হোসেন সকাল সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়ে ১০টার সময় টিকিট পায়নি। অভিযোগ করে জানান, যারা টিকিট বিক্রি করছেন তারা অদক্ষ। এক একটি টিকিট দিতে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় নিচ্ছেন।
কল্যাণপুরের হানিফ কাউন্টারের যশোর যেতে ইচ্ছুক যাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী পারভীন সুলতানা জানান, এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছি। আগের চেয়ে টিকিটের দাম ১৭০ টাকা বেশি নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারপরও আমি খুশি। টিকিট নিতে আসা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ছাত্রী ফারহানা ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, মেয়েদের লাইনে পুরুষেরা ঢুকে পড়ছে। কেউ কোনো বাধা মানছে না। মেয়েদের জন্য আলাদা লাইনের দাবি করেন তিনি এসময়।
আবার কেউ কেউ টিকিট পেলেও অনেকেই কাক্সিক্ষত দিনের টিকিট পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ঈদের দু’দিন আগের টিকিট মিলছে না কোনো কাউন্টারেই। ১৪ ও ১৫ জুলাই ঘরমুখো যাত্রী চাপ থাকবে বেশি। আবার ১৬ জুলাই ঈদের আগে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্ম দিবস। কল্যাণপুরের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য ১৬ জুলাই রাতের কোনো সাধারণ বাসসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো বাসের টিকিট নেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]