‘আল্লাহর ৯৯ নাম কাফেরদের দেবতাদের নাম’

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2015

নিজস্ব প্রতিবেদক : আল্লাহর ৯৯ নাম কাফেরদের দেবতাদের নাম এবং নারীর পর্দা ও আরবি ভাষা নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কলাম লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। নিউইয়র্কে গত ৩ জুলাই বিকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ‘বাংলাদেশ : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় করা এ মন্তব্যে প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, ‘আজকের আরবি ভাষায় যেসব শব্দ এর সবই কাফেরদের ব্যবহƒত শব্দ। যেমন- আল্লাহর ৯৯ নাম, সবই কিন্তু কাফেরদের দেবতাদের নাম। তাদের ভাষা ছিল আর-রহমান, গাফফার, গফুর ইত্যাদি। সবই কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম এডাপ্ট করেছিল।’ এদিকে, নিউইয়র্কের ওই আলোচনা সভা নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অন্য এক প্রতিবেদনে জানায়, গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই, সারা বিশ্বে গণতন্ত্র এবং সেক্যুলারিজমের প্রতীক হয়ে আছেন শেখ হাসিনা। অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে একটি মশাল ধরে রেখেছেন শেখ হাসিনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ যাবত ৯ বার তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু তিনি সে মশাল ছাড়েননি। যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পতন ঘটলেই পৃথিবী থেকে দুটি রাষ্ট্র নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এ দুটি হচ্ছে পাকিস্তান আর ইসরাইল।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাক-ভারত উপমহাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে জঘন্য অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের কূটচালে এরা এহেন অপকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ১ মাস একঘরে থাকার অভিজ্ঞতায় তার ভূমিকাও তুলে ধরেন গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কখনও আমি তাকে যুদ্ধ করতে দেখিনি। সব সময় দেখতাম সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। আর স্ত্রী খালেদা জিয়া কেন পাক বাহিনীর ক্যাম্প ছেড়ে তার কাছে আসছেন না, সে চিন্তায় থাকতেন। এজন্য আমি সবসময় জিয়াকে ঘৃণা করি।’
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কটূক্তি না করার আহ্বানও জানান গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর খালেদা জিয়ার সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সংসার বাঁচিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। সে সময় বঙ্গবন্ধুকে তিনি অভিভাবক হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন। তাই খালেদা জিয়ার উচিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে কোনো কটূক্তি না করা।’
শীর্ষ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের বোরকা ও হিজাব নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে এটা হচ্ছে ওহাবিদের লাস্ট কালচারাল ইনভলব। আমি অবাক হচ্ছি। ক্লাস টুয়ের মেয়েরা হায়েজ-নেফাজ পড়বে! এটা আমাদের ধর্ম শিক্ষা হতে পারে?’
তিনি বলেন, ‘মুসলমান মেয়েরা মনে করে হিজাব, বোরকা হচ্ছে ইসলামের আইডেন্টিটি। আসলে কী তাই? বোরকা পরে যাচ্ছে কিন্তু প্রেম করছে। আবার ইন্টারনেটেও প্রেম করছে। আচরণ ওয়েস্টার্ন কিন্তু বেশভূষা ইসলামিক করে আত্মপ্রতারণা করছে তারা।’
গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, ‘এখন যুগ পাল্টেছে। এখন বাংলাদেশে বোরকা পরার বিপক্ষে অনেকেই জেগে উঠেছে। এসব ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’ রাসুল আর রসুলুল্লাহ শব্দটি এক নয় দাবি করে গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, ‘রসুল মানে দূত, অ্যাম্বাসেডর। রসুলে সালাম মানে শান্তির দূত। রসুল বললেই আপনারা মনে করেন হযরত মুহম্মদ (সা.), তা কিন্তু নয়। যখন রসুলুল্লাহ বলবেন তখন মনে করবেন আল্লাহর প্রতিনিধি। এখন মোমেন ভাই আমেরিকায় থেকে যদি বলেন কিংবা আমি নিজেকে রসুল দাবি করলে কল্লা যাবে।’
কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়ার কথা উল্লেখ করে গাফ্ফার চৌধুরী আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি হাদিস সংগ্রহকারী আবু হুরায়রা নামের অর্থ হচ্ছে বিড়ালের বাবা। আবু বকর নামের অর্থ হচ্ছে ছাগলের বাবা। কাফেরদের মধ্যে যারা মুসলমান হয়েছিল পরবর্তীতে তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘পুরো দেশ এখন দাড়ি-টুপিতে ছেঁয়ে গেছে। সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টুপি আর দাড়ির সমাহার। অথচ তারা ঘুষ খাচ্ছেন। এত বড় দাড়ি, এত বড় টুপি, কিন্তু ঘুষ না পেলে ফাইলে হাত দেন না- এটা কী ইসলামের শিক্ষা?’
ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে মন্ত্রিত্ব হারানো আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে সাফাই গান তিনি। তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী কী এমন বলেছিল? তাকে বিপদে পড়তে হয়েছে। তার জন্য আজকে দেশে আন্দোলন হচ্ছে। এসবই হচ্ছে ওহাবীয় মতবাদ ও মাওলানা মওদুদীর চাপিয়ে দেয়া সংস্কৃতি, যা আমাদের বাংলা ভাষার মধ্যে ঢুকে পড়েছে।’
গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের মগজ ধোলাই করে জামায়াত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। তারা প্রকৃত ইসলামী অনুশাসনে বিশ্বাসী নয়। এরা দীনে মোহাম্মদী নয়, দীনে মওদুদী। আবদুল ওহাব নামে কট্টর এক ব্যক্তির ধারায় এ অঞ্চলে ওহাবি মতবাদ চাপিয়ে দেয় সৌদি আরব।’
বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে এ লেখক বলেন, ‘আমেরিকা তালেবান সৃষ্টি করে বিপদে পড়েছে। আর ব্রিটিশরা ভারতবর্ষকে ভেঙে টুকরো করার পাশাপাশি ইসলামী মতবাদকেও বিভক্ত করেছে পাকিস্তানকে দিয়ে।’ তিনি জানান, পরবর্তীতে যা সৌদি ও ইরানের অর্থায়নে এ অঞ্চলে ওহাবি মতবাদ মাওলনা মওদুদীকে দিয়ে জামায়াতের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এ পাকিস্তানই ৫০ হাজার কাদিয়ানি হত্যার দায়ে মাওলানা মওদুদীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল। পরবর্তীতে যদিও ফাঁসি কার্যকর করতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘এভাবে মুসলমানে মুসলমানে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন ওহাবিইজম। আমি তো মনে করি, শেখ হাসিনার শত ভুলত্র“ট থাকলেও আজকে সিম্বল অব সেক্যুলারিজমের জনক হচ্ছেন তিনি। সে শক্ত হাতে এসব দমন না করলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যেত।’
গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, ‘যত দিন আমাদের মনে তিনটি প্রাচীর থাকবে, ততদিন বাংলাদেশ নিরাপদ। বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু। এ তিনটি প্রাচীর থাকলেই তালেবানরা বাংলাদেশকে দখল বা ধ্বংস করতে পারবে না।’ আলোচনায় মূল বিষয়ের বাইরে গিয়ে আল্লাহ ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই বিব্রতবোধ করেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ডের আহ্বায়ক আবদুল মুকিত চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা যে দল কিংবা মতের হই না কেন, আল্লাহ, নবী, ইসলাম ও নারীর পর্দা নিয়ে এসব কথা বলা উচিত নয়।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক-কলামিস্ট বেলাল বেগ, সাংবাদিক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ, আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান, সাজ্জাদুর রহমান, ড. নূরন্নবী, নূরনবী কমান্ডার, ইমদাদ চৌধুরী, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, জাসদ নেতা আবদুল মোসাব্বির, নূরে আলম জিকু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সেক্রেটারি ফখরুল আলম, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসান, সেক্রেটারি দর্পণ কবীর, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের নেতা টমাস দুলু রায় প্রমুখ।
ভারতে ওয়াহাবিবাদ ছড়াতে ত্তফর
(প্রথম পৃষ্ঠার পর) খুব স্পষ্ট যে, ইংরেজদের সাহায্য ছাড়া ওয়াহাবি বা সৌদি রাজপরিবার কারোরই আজ অস্তিত্ব থাকত না। এটি হচ্ছে ইসলামে ইংরেজ-অনুপ্রেরিত মৌলবাদী আন্দোলন। সৌদি রাজপরিবারের পক্ষে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওয়াহাবিবাদের সমর্থক, ৯/১১-র জঙ্গি হামলা সত্ত্বেও। ওয়াহাবিবাদ চরম হিংস্র, ডানপন্থী, উগ্ররক্ষণশীল, অনমনীয়, কট্টর, প্রতিক্রিয়াশীল, নারীবিদ্বেষী এবং অসহিষ্ণু।’
উইকিলিকসের এ নথিকে ভারতের মিডিয়াও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তারা সাদা-ঈ-সুফিয়া হিন্দ বা সুফী ভয়েসের প্রধান সৈয়দ বাবর আশরাফের একটি অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকার নিয়ে ওয়াহাবিবাদ ইস্যুটির অনুধাবনের চেষ্টা করেন।
উইকিলিকসের তথ্যে বলা হয়েছেÑ সৌদি আরব চাইছে, ভারতের ওপর তাদের প্রভাব ইরানের সমান পর্যায়ে চলে আসুক। শিয়ানেতা বাবর আশরাফ জানান, বাস্তবতা হচ্ছে ভারতের ওপর ইরানের কোনোই প্রভাব নেই।
উইকিলিকস ডকুমেন্ট সৌদি আরব সম্পর্কে কোনো উদ্বেগ ছড়িয়েছে কিনাÑ এ প্রশ্নের জবাবে বাবর আশরাফ বলেন, ‘সৌদি আরবের মনে একটাই এজেন্ডা। আর তা হচ্ছে প্রতিটি সুন্নি মুসলিম ওয়াহাবিবাদ অনুসরণ করুক। তারা ভারতে ওয়াহাবি-সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়। এক্ষেত্রে তারা ইরানকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এটা শিয়া-সুন্নির যুদ্ধও নয়। এটা হচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে যতটা সম্ভব ওয়াহাবিবাদ চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল।’
উইকিলিকস মতে, সৌদি রাজপরিবার ভারতের কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত ওয়াহাবিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারতে সৌদি অর্থায়নে পরিচালিত ৮টি ফোরাম রয়েছে, যারা মুসলিমদের টাকার জোগান দেয়। সৌদি আরব চাইছে, ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে তা জিইয়ে রাখা যাতে ভারত একটি সংঘাতময় জোন হিসেবে আবির্ভূত হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]