কেজরির বায়নায় দিল্লি গরম

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2015

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দলটা আম আদমির। দাবিটা খাস। বাড়ি ‘নেব না’, ‘নেব না’ করে অরবিন্দ কেজরিবালের এখন ৫ হাজার বর্গমিটারজুড়ে ৫ কামরার বাংলো। তাতে ৩টি বাগান। এসি ‘চাই না’ বলেও এখন ৩০টি ‘এসি’। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ বিল আসে ১ লাখ টাকার বেশি! আগের ছোট গাড়ি এখন বড় হয়েছে।
সরকারের প্রচারের বাজেটই তৈরি হয়েছে ৫০০ কোটি টাকার। ফলাও করে তা প্রচার হচ্ছে গণমাধ্যমে। তার মধ্যেই কেজরিবালের দলের বিধায়করা এবার দাবি জুড়েছেন, ৮৪ হাজার বেতনে আর কুলোচ্ছে না। আরও চাই। ‘আম আদমিদের’ এই খাস দাবি নিয়েই তুলকালাম দিল্লি। বিজেপি বিধায়করা বলছেন, এক টাকা বেতনেও আমরা কাজ করতে রাজি। মানুষের সেবা করতে নিজের পকেট ভারী করতে হয় নাকি? আম আদমির বিধায়করা কি ভোটের আগে জানতেন না তাদের মাইনে কত? ভোটের পরই কেন ভোলবদল?
দিল্লি বিধানসভায় নেই কংগ্রেসের একজন বিধায়কও। আনন্দবাজার
বিধায়কের মাইনে বাড়লে বা কমলেও কংগ্রেসের কিছু এসে যায় না। তাতে কী? কেজরিবধে আসরে তারাও। অজয় মাকেনের অভিযোগ, ‘শুধু কি মাইনে বাড়ানোর দাবি! দলের লোককে সরকারে ঢুকিয়ে তাদের এখন দেদার লালবাতি দেওয়া হচ্ছে। বড় মুখ করে কেজরিবাল বলেছিলেন, নিরাপত্তা নেবেন না। বড় বাড়ি নেবেন না। লালবাতি মিটিয়ে দেবেন। এখন কী হলো?’ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তার কটাক্ষ, ‘সব কথায় তো আগে রাস্তায় বসে জনতার রায় নিতেন। বিধায়কদের দিয়ে মাইনে বাড়ানোর দাবি তোলার সময় কি সে রায় নিচ্ছেন?’
কিন্তু আম আদমি পার্টির বিধায়করা তাদের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। আপ সূত্রের খবর, একজন বিধায়ককে অনেক সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে হয়। বিধায়কদের নিজেদের সচিব রাখতে হয়। আমজনতার অভাব-অভিযোগ শুনতে হয়। তাদের দাবিও মেটাতে হয়। বাড়ির পাশাপাশি একটি দফতর চালাতে হয়। মাইনে তো মাত্র ১২ হাজার টাকা। ভাতা মিলিয়ে ৮৪ হাজার টাকা তারা হাতে পান। আপ বিধায়কদের তাই প্রশ্ন, সততার সঙ্গে কাজ করতে গেলে এ টাকায় কী করে সবদিক সামলানো সম্ভব? বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে
রোজ যেসব আমআদমি আসেন, তাদের অন্তত এক কাপ চা-তো খাওয়াতে হবে। আমাদের তো আর অন্য রোজগার নেই।
বিরোধীদের নিশানায় কেজরিবালের বাড়ির বিদ্যুতের বিলও। তাদের কটাক্ষ, এই কেজরিবালই তো ক্ষমতায় এসে পূর্ত দফতরকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, তার বাড়ি থেকে এসি হটিয়ে দিতে। বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে দিল্লির উপকণ্ঠে যেখানে তিনি থাকতেন, সে বাড়িতে ছিল মাত্র একটি এসি। তা-ও বাবা-মায়ের ঘরে। আগের বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়ও নিয়েছিলেন একটি মাত্র এসি। এখন তারই বাড়িতে কিনা ৩০টি এসি! আমআদমিদের সেই নেতার বাড়ির বিদ্যুৎ বিলই কিনা ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা!
এক্ষেত্রেও একই যুক্তি দিচ্ছেন আপের নেতাকর্মীরা। তারা জানাচ্ছেন, ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিল শুধু তো কেজরিবালের বাড়ির বিদ্যুতের খরচ নয়। এর সঙ্গে বাড়ির লাগোয়া দফতরও রয়েছে। সেখানেও রোজ শত শত লোক আসেন। দলের কাজ হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]