জালনোট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ৯ সিন্ডিকেট!

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2015

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিবারের মতো এবারো ঈদের বাজারে ছাড়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকার জালনোট। এরমধ্যে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটই বেশি। জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে রাজধানীতে ৯টি সিন্ডিকেট জড়িত বলে গোয়েন্দাদের দাবি। এরা মৌসুমি ব্যবসায়ী।

বিশেষ বিশেষ দিনে এই চক্র বাজারে জালটাকা ছাড়ে। র‌্যাব ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত কয়েকদিনে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার জালনোট উদ্ধার করেছে। তবে বাজারে চলে যাওয়া জাল নোট শনাক্ত করা যাচ্ছে না। প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। র‌্যাব ও ডিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও অভিজাত বিপণিবিতানে দেখা গেছে, ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে তা যদি হয় কড়কড়ে নতুন, তাহলে তো কথাই নেই। সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই নোটগুলো নেড়েচেড়ে দেখেন। তুলে ধরেন সূর্যের দিকে অথবা আলোর দিকে মুখ করে। কতক্ষণ ঘষেও দেখেন। তারা নিশ্চিত হতে চান, নোটটি আসল না নকল। কারণ, ইতোমধ্যেই তারা জেনেছেন, বাজারে জাল টাকার ছড়াছড়ি। বিশ্বাস-আস্থা কমে গেছে একে অন্যের ওপর থেকে। উভয় পক্ষের ধারণা যেকোনো সময় জালটাকা চালান করে দিতে পারে। আর রাতে এই আতঙ্ক আরো বেশি।
র‌্যাব ও পুলিশ গত এক মাসে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার জালনোট উদ্ধার করেছে। এ সময় জালটাকা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। আর আটক করা হয়েছে ৩০ জনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা জাল টাকার অধিকাংশই ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট। মহানগর গোয়েন্দাদের দাবি, এই চক্রটি বাজারে ১০ কোটি টাকার জালনোট ছেড়েছে। যা হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটি গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, জাল টাকার আবার নানা ধরন আছে। সাধারণ আর্ট পেপারে তৈরি ১ লাখ জাল টাকা ২৫,০০০ টাকায় বিক্রি হয়। আরো উন্নত কাগজে তৈরি ১ লাখ জালটাকা ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকায় বিক্রি হয়। আরেক ধরনের জালটাকা আছে, যাকে বলে ‘ওয়াশ নোট’। ১টি প্রকৃত ১০০ টাকার নোটকে কেমিক্যাল দিয়ে সাদা করে ৫০০ টাকার নোট তৈরি করা হয়। তাই প্রকৃত ১০০ টাকার নোটকে ৫০০ টাকা বানিয়ে ১ লাখ টাকা তৈরি করতে ২০০টি ১০০ টাকার আসল নোটের প্রয়োজন হয়। তাতেই লেগে যায় ২০,০০০ টাকা। তাই এক লাখ টাকার জাল ‘ওয়াশ নোট’ বিক্রি হয় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকায়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ১০-১২টি চক্র জালটাকা নিয়ে সক্রিয় আছে। তিনি জানান, তিন ধাপে জালটাকা বাজারে ছাড়া হয়। প্রথম ধাপে যারা জালটাকা তৈরি করে, তারা পাইকারি হিসেবে জালটাকা বিক্রি করে। অন্যদিকে, যারা পাইকারি হিসেবে জালটাকা কেনে, তারা আবার একটু বেশি দামে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে। এরপর তা সরাসরি কৌশলে হাতে-হাতে ছড়ানো হয়। সম্পাদনা : সানোয়ার




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]