পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্জন নিয়ে সংশয়

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2015

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পোশাক রপ্তানি খাতে ৫০ মিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ওই বছরই পোশাক রপ্তানিতে ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বর্তমান বাজারমূল্যে এটা ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার সমান।
কিন্তু দেশের বর্তমান বিনিয়োগমন্দা পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন, অতিরিক্ত ব্যাংক সুদ হার, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন (এসইজেড) প্রতিষ্ঠায় বিলম্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের পোশাকের দাম কমে যাওয়া, কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অসন্তোষ বিষয়ে ক্রেতাদের নেতিবাচক ধারণা, পোশাক খাত সম্পর্কে অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ বেশ কয়েকটি কারণে এ লক্ষ্য অর্জন করা যাবে কি-না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
বিজিএমই মতে, এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি দরকার ১৩ শতাংশ। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আগের বছর যেখানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশ, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরের বছর প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে হলে রফতানি প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ করতে হবে।
সংগঠনের সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়লে, সব কারখানায় বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিশ্চিত ও ঢাকা-চট্টগ্রামের চারলেনের কাজ দ্রুত শেষ করা হলে টার্গেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রতিবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই-তিন বিলিয়ন করে বাড়ালে ২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্জন সম্ভব।
রফতানিকারকদের সংগঠন ইএবির সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, দিন দিন এটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে। শেয়ারবিল্ডিং থেকে কারখানা আলাদা করতে হলে প্রতিটি ছোট কারখানায় কম পক্ষে ৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। যা উদ্যোক্তাদের পক্ষে অসম্ভব। এছাড়া বায়াররা সিন্ডিকেট করে পণ্য কেনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের দাম কমছে। সব মিলিয়ে এ লক্ষমাত্রা অর্জন হোঁচট খেতে পারে। তবে সরকার দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ যাবতীয় সুবিধা দিলে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্জন সম্ভব।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমান বিশ্ববাজারে অন্যান্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘাটতি পূরণ করে রফতানি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো কঠিন হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পোশাক খাতে বড় বাজারের সঙ্গে অন্যান্য বাজারের গুরুত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, জাপান, রাশিয়া এবং আফ্রিকায় বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া সাপ্লাই চেইনে ফরওয়ার্ড লিংকেজ ইনভেস্ট বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি জটিলতা দূর করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, কারখানাগুলোতে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন আমাদের আলাদা কিছু করে দেখাতে হবে; যাতে অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স অপপ্রচার চালাতে না পারে।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে স্থিতিশীলতা (যা আমাদের ইমেজ নষ্ট করছে) ও অবকাঠোমোগত উন্নয়ন-এ দুটি বিষয়ে উন্নয়ন দরকার। পাশাপাশি জ্বালানি-বিদ্যুৎ সুবিধা বাড়াতে হবে এবং বন্দর তৈরি করতে হবে। এছাড়া গত ১০ বছরে পোশাক খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন আইএলওকে সাথে নিয়ে সরকারকে তা প্রচার করতে হবে। কিন্তু এসব করা না গেলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। সম্পাদনা : আলাউদ্দিন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]