গৃহ মন্ডলিতে রোজারি প্রার্থনার সুপ্রভাব সুমন কোড়াইয়া

আমাদের নতুন সময় : 27/05/2018

মাতা মন্ডলিতে পালিত হচ্ছে মা মারিয়ার মাস। ক্যাথলিক মন্ডলিতে মে মাসকে রোজারি প্রার্থনার জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বর্তমানে টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে খ্রিস্টীয় পরিবার বা প্রতিটি গৃহ মন্ডলিতে আশংকাজনক হারে কমে গেছে সন্ধ্যা প্রার্থনা বা রোজারি প্রার্থনার চর্চা। যে সময় রোজারি প্রার্থনা করার কথা সেসময় টিভিতে চলতে থাকে ভারতীয় কোন সিরিয়াল, চাকুরেরা বসে থাকেন রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে, শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকে প্রাইভেট বা কোচিং এ। এ চিত্র অবশ্য সব পরিবারে নয়; আদর্শ ও প্রার্থনাশীল পরিবারগুলোতে নিয়মিত না হলেও প্রায়ই হয়ে থাকে সন্ধ্যা প্রার্থনা।
মে মাসে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার সন্ধ্যা প্রার্থনায় আন্তরিক হওয়া। প্রতিটি পরিবারে একজন অভিভাবক থাকেন। আমরা যদি ধরে নিই প্রতিটি খ্রিস্টীয় পরিবার নাজারেথের গৃহ মন্ডলির মত ‘গৃহমন্ডলি’ এবং সেই গৃহমন্ডলির পালক পরিবারের অভিভাবক বা কর্তা। আর সেই গৃহমন্ডলির পালক বা কর্তা যদি দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট প্রার্থনার জন্য বরাদ্দ রাখেন, প্রার্থনায় নিজে স্বয়ং উপস্থিত থাকেন, প্রার্থনায় নেতৃত্ব দেন, আমি বিশ্বাস করি সেই পরিবার আধ্যাত্মিকভাবে শক্তি লাভ করে অনেক বেশি।
পরিবারে এক সাথে প্রার্থনায় বসলে সকলের খোঁজ খবর নেওয়া যায়। শোনা যায় একে অপরের কথা। দুঃখ, বেদনা আনন্দ ভাগাভাগির এক মুখ্যম সময় প্রার্থনার আগে ও পরের সময়টুকু।
অনেক পরিবারে পিতা-মাতারা ব্যস্ত থাকেন চাকুরি, ব্যবসা, সমাজ সেবা বা অন্য কোন দরকারি বিষয় নিয়ে। কিন্তু তিনি খেয়াল রাখছেন না তার পনের বছরের কিশোর ছেলে তার ঘরের দরজা বন্ধ করে কি করছে। শুধু পড়াশোনা আর খাবার দিলেই সন্তানের পুন্য মানসিক বিকাশ হয় না, যদি না পরিবার থেকে আধ্যাত্মি ও নৈতিক খাদ্য না পায়।
একজন ফাদার বন্ধু আমাকে বলছিলেন, এখন পরিবার ভিজিটে গেলেও অনেকে বিরক্ত হয়, তাদের টিভিতে সিরিয়াল দেখায় ডিস্টার্ব হয়! আমি কথাগুলো শুনে থ হয়ে গেলাম। আমরা নিজেরা অতটা আত্ম-কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি।
ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি প্রার্থনার অনেক শক্তি। বাস্তবে তার প্রমাণও পেয়েছি অনেক। তবে আমার মনে হয় পরিবারে পারিবারিক প্রার্থনার গুণ অনেক। রোজারি প্রার্থনার চর্চা সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পরিবারে বয়স্কদের আশির্বাদ নেওয়ায় লাভ করা যায় আশির্বাদ। যারা নিয়মিত পরিবারে এক সাথে বসে প্রার্থনা করে তারা বড় কোন বিপর্যয়ে একতাবদ্ধ হয়ে সেই বিপদ থেকে রক্ষাও পান দ্রুত।
পরিবারে রোজারি প্রার্থনার ইতিবাচক আরো কিছু প্রভাব নিচে উল্লেখ করলাম: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একতা, ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি। সন্তানরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব কমে। ভুল বুঝা বুঝি দূর হয়। এক সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা যায়। স্বামী/স্ত্রীর, শ্বশুর/শ্বাশুরি সাথে সম্পর্ক জোরদার হয়। সম্মিলিত প্রার্থনার ফল পাওয়া যায়, আরো অনেক। পরিশেষে, আহ্বান জানাই: নিজের জন্যে, নিজের সন্তান, নাতি-নাতনির জন্যে হলেও আসুন আমরা পরিবারে রোজারিও প্রার্থনা বা সন্ধ্যা প্রার্থনা করি। বেশি বেশি আত্মিক খাদ্য সঞ্চিত করি। পুরানো একটি কথা বলে শেষ করি
ঘড় ঢ়ৎধুবৎ, হড় ঢ়ড়বিৎ. খবংং ঢ়ৎধুবৎ, ষবংং ঢ়ড়বিৎ. গড়ৎব ঢ়ৎধুবৎ, সড়ৎব ঢ়ড়বিৎ.
লেখক: প্রধান সম্পাদক, বিডি খ্রিস্টান নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]