বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা খ্রিস্টীয় দর্পণ ডেস্ক

আমাদের নতুন সময় : 27/05/2018

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জাটি অবস্থিত আইভরিকোস্টের রাজধানী ইয়ামোসুক্রুতে। এর নাম- ‘ ইঅঝওখওঈঅ ঙঋ ঙটজ খঅউণ ঙঋ চঊঅঈঊ ঙঋ ণঅগঙটঝঝঙটকজঙ ’ কেউ আইভরিকোস্টে এসে এই গির্জাটি না দেখে গেলে পরে তাকে ভীষণ মর্মপীড়ায় ভুগতে হবে।
গির্জাটি দূর থেকে দেখতে যত সুন্দর, ভেতরের সৌন্দর্য বেশি তারচেয়ে কয়েকশ গুন। গির্জার ভেতরে প্রবেশ করলে এর ভেতরের শৈল্পিক কারুকার্য, অবকাঠামোগত নির্মাণশৈলী আর আয়তনের বিশালত্ব আপনাকে বিমোহিত করবেই। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স হুফে বাউনি ১৯৮৩ সালে তার নিজ জন্মভূমি ইয়ামোসুক্রুকে দেশের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেকে চিরস্বরনীয় করে রাখতে নিজ জন্মস্থানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা নির্মাণের সাধ জাগে তার মনে। ফলশ্রুতিতে ১৯৮৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৮৯ সালে। ভ্যাটিকান সিটিতে অবস্থিত সেন্ট পিটার্স গির্জার আদলে তৈরি করা হলেও এটি পুরোপুরি সেন্ট পিটার্স এর রেপ্লিকা নয়। এ গির্জা নির্মাণে ব্যয় করা হয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার! ১৯৯০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তারিখে পোপ জন পল এর শুভ উদ্বোধন করেন। জনশ্রুতি আছে গির্জাটির সাথে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েই পোপ জন পলকে গির্জা উদ্বোধনে রাজী করানো হয়। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি।
৩০,০০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত গির্জাটির উচ্চতা ৫১৮ ফুট। এ থেকে অনুধাবন করা যায় এর বিশালত্ব। ফরাসী কোম্পানি ‘ উঁসবু ’ কে গির্জা নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ৩০ একর এলাকা মার্বেল পাথরে মোড়ানো যা আনা হয়েছিল ইটালি থেকে। আর দরজা জানালায় ব্যবহৃত চোখ ধাঁধানো ৭,০০০ বর্গ মিটার রঙ্গিন কাঁচ আসে ফ্রান্স থেকে। এ বিশাল স্থাপনায় শতাধিক অবকাঠামোগত ছোট ছোট স্তম্ভ ছাড়াও আছে ১২টি বড় স্তম্ভ। এ স্তম্ভ গুলোর ভেতরে লিফটের ব্যবস্থা আছে যা দিয়ে উপরে উঠা যায়। এছাড়া ছাদে জমা হওয়া বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কাজেও ব্যবহৃত হয় এ বড় স্তম্ভ গুলো। উপরের ছাদ এবং আশে পাশের কারুকার্য দেখে মুগ্ধ হবার মত। এত বিশাল হল রুমের পুরো এরিয়া ঘুরে আসতে অনেক সময় লেগে যাবে। বাইরে বিশাল বড় ছাদ- রীতিমত ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। গির্জার ছাদে দাঁড়িয়ে চারিদিকের সৌন্দর্য দেখা যায়। গির্জার ভিতরে রয়েছে বেশ কিছু সুন্দর বাঁধাই করা গির্জার আলোকচিত্রের প্রদর্শনী। গির্জার একটা ছোট রেপ্লিকাও আছে। গির্জার আসল অংশ অর্থাৎ নীচতলায় মূল হল রুম। লিফটে চড়ে নেমে আসা লাগে। হল রুমটা আয়তনে বিশাল। এর ধারণ ক্ষমতা ১৮,০০০; এর মধ্যে ৭০০০ লোক বসে এবং ১১,০০০ লোক দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে পারে। হল রুমের ভেতর রঙ্গিন কাঁচে যীশু খ্রিস্টের প্রতিকৃতির পাশাপাশি ফেলিক্স হুফে বাউনির প্রতিকৃতি ও রাখা রয়েছে। হল রুমের ইন্টেরিয়র ডিজাইন সত্যি দেখার মত। ব্যাসিলিকার মূল ভবন ছাড়াও আরও দুটি একই ধাঁচের ভবন আছে এই চত্বরে। এদেরকে একটাকে বলা হয় ‘জবপঃড়ৎু’ এবং অন্যটিকে ‘চৎরাধঃব ঢ়ধঢ়ধষ ঠরষধ’ গির্জা উদ্বোধন করতে এসে পোপ জন পল এর যে কোন একটাতে অবস্থান করেছিলেন। এরপর ভবন দুটি আর কোন কাজে আসেনি। ৩০০ মিলিয়ন ডলারের এ গির্জা নির্মাণ করতে গিয়ে আইভরিকোস্টের জাতীয় ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই ঋণ তারা এখনো শোধ করে চলেছে। আইভরিকোস্ট বাসী এ গির্জা নিয়ে বেশ গর্ব করে থাকে। অবশ্য এ মনোলোভা স্থাপনার জন্য গর্ব করাটাই স্বাভাবিক।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]