আমি যেন আমার সন্তানের মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ না হই

আমাদের নতুন সময় : 05/06/2018

ওয়াহিদ তুষার

জীবন ধ্বংসকারী রঙিন নেশা মাদকদ্রব্য। দেশের অসংখ্য তরুণ, তরুণী, যুবক যুবতি এ নেশায় আসক্ত। সমাজের রন্ধে রন্ধে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছে এই মরণ নেশা। এই মরণ নেশার আসক্তি থেকেই যুব সমাজ আজ নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। মাদকজাত দ্রব্য কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে আর এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা কাজে তাদের ব্যবহার করতে থাকে। মাদকের এই নেশার জালে একবার জড়িয়ে পড়লে কেউ আর সহজে এ জাল বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে মাদকসেবীরা দিনে দিনে আরো বেপরোয়া ওঠে। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাদের সমাজে এমনও চোখে পড়ে সংসারের কর্তা/বাবা নিজেই মাদকাসক্ত। তাহলে সেই বাবার তার ছেলে/মেয়ে কি শিক্ষা গ্রহণ করবে? আমি মনে করি অনেক মাদকাসক্তই তার নিজ পরিবার থেকেই মাদকের প্রথম সবক গ্রহণ করে থাকে। তাই আমাদের অভিভাবকদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, আমি যেন আমার সন্তানের মাদকাসক্ত হবার কারণ না হই। আমাদের দেশে মহিলাদের মধ্যেও মাদকাসক্তদের সংখ্যা বাড়ছে। এটা উদ্বেগের কারণ, নারী আসক্তদের ৯০ ভাগের বয়স ১৫-৩৫ বছরের মধ্যে। বাদবাকি ৩৫-৪৫ বছরের মধ্যে। মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা পাঁচজন নারী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রী, গৃহিণী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাদকাসক্তদের ৩০ শতাংশই শুধু নেশার খরচ জোগান দিতেই নানা অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে। যে তথ্যটি সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ও ভয়ের কারণ, তা হচ্ছে দেশে মাদকাসক্তদের ৯১ শতাংশই কিশোর তরুণ ও যুবক বয়সী। মাদকের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে আরও সোচ্চার হতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে গণআন্দোলন গড়তে হবে। মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে হবে। সবশেষে বলতে চাই, মাদক মুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়াই হোক যুব সমাজের অঙ্গীকার। জয় বাংলাদেশ !
পরিচিতি : প্রচার সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন / মতামত গ্রহণ : মো. এনামুল হক এনা / সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]