যেন কৃষকদের পেট পিঠ কিছুই নেই

আমাদের নতুন সময় : 05/06/2018

প্রভাষ আমিন

একবার বন্যায় ফসল তলিয়ে যাবে, একবার লসে ধান বেঁচতে হবে। তাহলে এই কৃষকরা বেঁচে থাকবে কিভাবে? ধান ফলাবে কেন? আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, ধান চাষটা কৃষকদের নেশার মত। নিশ্চিত লস জেনেও অনেকে যেমন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। কৃষকরা তেমনি নিশ্চিত লস জেনেও ধান চাষ করে। আমি খালি অবাক হই, বারবার পুঁজি খোয়ানোর পরও তারা টিকে থাকে কিভাবে? তারপরও কৃষকরা বছরের পর বছর ফসল ফলান কেন? কারণ তাদের আর কিছু করার নেই। একবছর কিছুটা লাভের মুখ দেখলে সেটা আকড়ে ধরেই স্বপ্ন দেখেন আগামী বছরের। কিন্তু পরের বছরই আবার ধাক্কা খায়। ফলে তারা কখনোই মাথা তুলে দাড়াতে পারে না। আমি ঠিক জানি না, আমরাই এই চক্রটা এভাবে সাজিয়ে রেখেছি, যে কৃষক খালি মাখার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের পেটের ভাত জোগাড় করবে, আর আমরা শহুরে বাবুরা খালি তাদের পেটে লাথি মেরে যাবো? বারবার এত ধাক্কা খাওয়ার পরও যে তারা ফসল ফলান, এ জন্য তাদেও প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। তাদের অদম্য মনোবলকে আমার নতমস্তক কুর্ণিশ। বাংলাদেশের জমি কম, মানুষ বেশি। আমাদের বিজ্ঞানীরা নানা জাতের উচ্চফলনশীল ধান আবিস্কার করেছেন। আর কৃষকরা মাঠে তা ফলিয়ে নিশ্চিত করছেন অতি জরুরী খাদ্য নিরাপত্তা। মানুষের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধানের উৎপাদন। ব্যাপারটি এত অনায়াস আর অবশ্যম্ভাবী মনে হয় যে আমরা ধরেই নিয়েছি বছরের পর তাদের পেটে লাথি মারবো, প্রান্তিক কৃষক আরো প্রান্তে চলে যাবে, আর আমরা আরাম করে খাবো। কিন্তু কৃতজ্ঞতার ঢেকুরটুকুও তুলবো না। আমরা শহরের মানুষেরা ‘এক মণ ধানে এক কেজি গরুর মাংস’ পড়ে, পত্রিকাটি পাশে রেখে অনায়াসে উঠে যাই। ভাবিই না, কিভাবে কৃষকদের বাঁচানো যাবে, কিভাবে বাম্পার ফলনের সুফলটা, মাঠের সোনালী ঢেউটা তাদের মুখেও ছড়িয়ে দেয়া যাবে। কিভাবে মজুদতার আর মধ্যস্বত্বভোগীদের কবল লাভের অঙ্কটা কৃষকের জেবে পুড়ে দিতে পারবো। পেটে খেলে পিঠে সয়, এই প্রবাদটা যে কৃষকের ক্ষেত্রেও সত্যি, এটা আমরা বুঝতেই চাই না। যেন কৃষকদের পেট পিঠ কিছুই নেই, থাকতে নেই।
পরিচিতি: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ/ ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]