বাংলাদেশ এমডিজিতে সাফল্য অর্জন করেছে

আমাদের নতুন সময় : 06/06/2018

মো: মাহবুব হাসান জুয়েল

পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে পানি দূষণ রোধ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশের কাতারে শামিল হওয়া বাংলাদেশ সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে চারটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে জিডিপিসহ মাথাপিছু জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, উচ্চতর আয়ের সুফল সাবর্জনীন করা, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বাংলাদেশ এমডিজিতে মিলেনিয়াম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সাফল্য অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসডিজিতেও টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা সাফল্য অর্জন করবে। এসডিজির বিষয়গুলোর সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের তথা জনগনের ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ১৭ টি গোল রয়েছে। বাংলাদেশে নদী দূষণের মাত্রা ব্যাপক। গুগোলে যদি পৃথিবীর দূষিত নদী বা পানি দূষণ চিত্র সার্চ দেয়া হয় তাহলে যে ছবি গুলো আসে তা অধিকাংশ বাংলাদেশের। ছবিতে যে প্লাস্টিক সামগ্রী পানিতে ভাসমান দেখা যায় তার নাম ,লোগো একটু লক্ষ্য করলে বোঝা যায় সে পণ্যগুলো বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় কাক্সিক্ষত সাফাল্য অর্জন করতে হলে এই জায়গা গুলোতে আমাদের যাদুকরী উন্নতি করতে হবে। কঠিন কথা হল পরিবেশবিদরা শুধু বুড়িগঙ্গার পানি মোটামুটি মানে নিয়ে আসার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। উন্নত বিশ্বের তকমা লাগাতে হলে রাষ্ট্রকে হতে হবে পরিবেশ বান্ধব। পদক্ষেপ ছোট হলেও এর ফলাফল ব্যাপক ও সুদূর প্রসারী। এবং উন্নত বিশ্বে স্বপ্নযাত্রার পথে বিরাট পদক্ষেপ হবে। আর এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হতে পারে সারা পৃথিবীর পানি পথ যেখানেই মানুষের যাতায়াত আছে। তবে আপাদত, জাহাজ পরিবহণ সেবায় এটিকে বাস্তবায়ন করাই প্রাথমিক লক্ষ্য। আবার জেনে নেয়া যাক বাস্তব সমস্যা ও পরিস্থিতি কী? ঢাকা টু দক্ষিণবঙ্গ প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী লঞ্চে ভ্রমণ করেন। তারা প্রচুর পলিথিন, প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে ফেলেন। কেবিনে ডাস্ট বাকেট থাকলেও অজ্ঞতাবশত কেবিন যাত্রীরাও পলিব্যাগ, পেট বটল, অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে ফেলেন। আর ডেকের যাত্রীদের জন্য তো বর্জ্য সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থাই নেই। তাদের সকল বর্জ্যই নদীতে ফেলে থাকেন। লঞ্চে যা অবশিষ্ট্য থাকে ঘাটে গেলে লঞ্চ স্টাফরা লঞ্চ পরিষ্কারের সময় সেগুলো সবই সবই নদীতে ফেলে থাকে ঢাকা সদর ঘাটেও একই চিত্র। নদীতে ফেলে দেয়া এসকল বর্জ্যরে কিছু কিছু নদীতে থাকে আর বড় অংশ ধিরে ধীরে সমুদ্রে চলে যায়। সমুদ্রে গিয়ে এই বর্জ্য সামুদ্রিক পানি সম্পদের ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটায়। সামুদ্রিক প্রাণি, পাখি সম্পদ ও ইকোসিস্টেম রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখবে। কেমন সহায়তা দরকার? নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে দক্ষিণ বঙ্গের জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা পুলিশ সুপারবৃন্দ, সাংবাদিক, লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের লোকজন মিলে সভা করিতে হবে । এখানে কাইজেন করতে হবে কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করা যায়। আমার দিক থেকে বিস্তারিত শেয়ার করার ইচ্ছা আছে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গঠনের যে প্রয়াস তার জন্য একটি ভাল উদ্যোগ শুরু হোক লঞ্চ যাত্রীদের পক্ষ থেকে তারপর ছড়িয়ে সারা বিশ্বে এই প্রত্যাশা রাখছি।
পরিচিতি : প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ/ মতামত গ্রহণ : নৌশিন আহম্মেদ মনিরা/ সম্পাদনা :আবদুল অদুদ

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]