ব্যবহার নেই ফুট ওভারব্রিজের

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2018

রাজু চৌথুরী, চট্টগ্রাম : নগরীর ফুটওভার ব্রিজগুলো পথচারীদের পারাপারে ব্যবহৃত হয় না। দিনের শুরু থেকে এগুলো থাকে হকারদের দখলে। সূর্য ডুবতে ডুবতে ব্রিজের দখল নেয় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতারা। আর রাত নেমে এলে ভ্রাম্যমাণ পতিতা ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় ওভারব্রিজগুলো। অনেকে পাবলিক টয়লেট বানিয়ে ব্রিজের যত্রতত্র প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে থাকে। পথচারীদের পারাপারের জন্য নির্মিত ফুটওভারব্রিজগুলোর অপব্যবহারের কারণে পথচারীরা পারাপারের জন্য ব্যস্ততম সড়ক ব্যবহার করছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানি। নগরীতে গত এক মাসে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করার বিষয়টিও উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অদক্ষ চালক, যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক সিগন্যাল না মানা, যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করানোর পাশাপাশি নগরবাসীর অসচেতনতা ও পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করার প্রবণতা অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, বহু টাকা খরচ করে ফুটওভার ব্রিজগুলো নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ইপিজেড এর ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার হলেও নগরীর নিউমার্কেট, রেল স্টেশন ও কাট্টলীর ফুটওভারব্রিজ পথচারীরা ব্যবহার করছে না। ব্যবহার বন্ধ হওয়ার কারণ একাধিক। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেখানে কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবং কিছু অবৈধ কার্যক্রমও চলছে। আমরা চাইছি পথচারীরা যেন নিরাপদে পারাপার করতে পারে। সিটি মেয়র আরো বলেন, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নগরীতে আরো কিছু ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা সিটি কর্পোরেশনের আছে। আমাদের ইচ্ছে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ করার। যেমন ইপিজেড মোড়ে আরো দুইটা ফুটওভারব্রিজ, সরকারি মহিলা কলেজের সামনে একটা, চান্দগাঁও হাজেরাতুজ কলেজের সামনে একটা ফুটওভারব্রিজ করবো। এছাড়াও নিউমার্কেট মোড় ও স্টেশন এলাকার ফুটওভারব্রিজ দুটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা, সবুজায়নসহ নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। পাশাপাশি নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা আরো বেশি সচেতন হবেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরীতে ফুটওভারব্রিজের সংখ্যা পাঁচটি। এর মধ্যে ইপিজেড এলাকায় দুইটি এবং স্টেশন রোড, নিউমার্কেট ও ফকিরহাটে বাকি তিনটির অবস্থান। ইপিজেড এলাকার ওভারব্রিজ দুটি পথচারী পারাপারে কিছুটা ব্যবহৃত হলেও অন্য তিনটি বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বছর তিনেক আগে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ফুটওভারব্রিজগুলো চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। কিন্তু পথচারীদের অনীহার কারণে আবারো সেগুলো চলে যায় হকার, মাদকসেবী আর ছিনতাইকারীদের দখলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের চারপাশের সিঁড়ির অর্ধেকটা জুড়ে হকার বসেছে। এছাড়া মিউনিসিপাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজের পাশের সিঁড়িটা স্কুল চলাকালীন অভিভাবকদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। পথচারীদের অভিযোগ ফুট ওভার ব্রিজগুলোর উচ্চতা বেশি, নোংরা পরিবেশ, হকার, ভিক্ষুক, বখাটে ও মাদকসেবীদের দখলে থাকার কারণে রাস্তা পারাপারে এগুলো ব্যবহারে অনীহা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী। পথচারীরা বলছেন, সময় বাঁচাতে ও কষ্ট কমাতে তারা উঁচু ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছেন না। আবার এগুলো ব্যবহার করা অনিরাপদ মনে করেন তারা। ব্রিজের উপর যেখানে সেখানে ছড়িয়ে আছে মলমূত্র। ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ির গোড়ায় বিক্রি হচ্ছে শার্ট, প্যান্ট, বেল্ট থেকে শুরু করে মাথার টুপি। স্টেশন রোড এলাকার ওভারব্রিজটির রেয়াজউদ্দিন বাজারের দিকের সিঁড়ি দুটির পুরোটাই ফল ব্যবসায়ীরা বাক্স-প্যাঁটরা, খড় এবং অন্যান্য জঞ্জালে পূর্ণ করে রেখেছে। রেল স্টেশন প্রান্তের একটি সিঁড়ির সামনে বসানো হয়েছে চায়ের স্টল। আশেপাশে টুল, পানির বড় ড্রামসহ অন্যান্য জিনিসপত্র রাখা। ফুটপাতে চোরাই মোবাইল বিক্রির দোকানতো আছেই। পথচারীরা ঠিকই মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে।
সম্পাদনা : হিরন হিরা




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]