গাজীপুরে হেভিওয়েট দুই মেয়র প্রার্থী দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি

আমাদের নতুন সময় : 20/06/2018

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দুই দলের প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব প্রচারণায় এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে করছেন মতবিনিময়। গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মত দিনব্যাপী বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় চলে বিরামহীন প্রচারণা।
হাসান সরকারের প্রচারণা- ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোট মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার মঙ্গলবার পূর্বাহ্নে নগরির গাছা (পূর্ব) অঞ্চলের ৩২, ৩৩, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইশড্ডা, জাঝর, অ্যারাবিয়ান গার্মেন্ট, বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং অপরাহ্নে নগরির টঙ্গী (পূর্ব) এলাকার টিন্ডটি, শিলমুন, মরকুনসহ সংলগাœ এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন।
পথসভায় হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী অতিরিক্ত মাত্রায় ওয়াদা দিচ্ছেন। তিনি ডাবল রেল লাইন ও চলমান বিআরটি-সহ জাতীয় প্রকল্পগুলোকে স্থানীয় সরকারের প্রকল্প হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা, পরিধি ও স্থানীয় সরকার আইন সম্পর্কে ন্যুততম ধারণা থাকলে তিনি এসব ওয়াদা দিতেন না। তিনি এমন কিছু ওয়াদা দিচ্ছেন যা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকেও হার মানাচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম কথায় কথায় কেন্দ্রীয় সরকারের কথা বলছেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের মতো স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ নেই। নিজের যোগ্যতা বলেই স্থানীয় সরকার পরিচালনা করতে হয়। নিজের যোগ্যতা না থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার এসে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করবে না। স্থানীয় খাত থেকে রাজস্ব আহরণের যোগ্যতা ও ধারণা থাকতে হবে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। কারোর স্থানীয় সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে তাকে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করতে আসা মানেই জনগণের দুর্ভোগ ডেকে আনা।
এসব পথসভা ও গণসংযোগে হাসান উদ্দিন সরকারের সাথে ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, জেলা হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম-সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন, মোশরাফ হোসেন খান, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, মনিরুজ্জামান লাবলু, ফারুক হোসেন খান, ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস খান, জাহাঙ্গীর হাজারী, মোশারফ হোসেন ভূইয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। হাসান সরকারের গণসংযোগে জনতার ঢল নামে এবং প্রতিটি পথসভায়ই জনসভায় রুপ নেয়।
সকালে হাসান উদ্দিন সরকারের বাস ভবনের উঠানে টঙ্গীর ১২৫ ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য ও এজেন্টদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ¦ সালাহ উদ্দিন সরকার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এসময় তিনি সকল ধরণের গুজব ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সর্বাত্মকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিগত আন্দোলন সংগ্রামের কঠিন সময়েও আমরা ভয় পাই নাই। এখন নির্বাচনকালীন সময়ে গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কা নেই, তাহলে এখন আমরা ভয় পাব কেন। তিনি বলেন, আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের নেত্রীকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের পিছপা হওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। অতীতের সকল ভেদাভেদ ও ভুলভ্রান্তি ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে বিজয় ছিনিয়ে আনতেই হবে। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মাহবুবুল আলম শুক্কুর, প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদ, আরিফ হোসেন হাওলাদার, জসিম উদ্দিন বাট, আব্দুর রহিম খান কালা, কসিম উদ্দিন প্রমুখ।
অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ৫৭টি ওয়ার্ডে পৃথক পৃথক গণসংযোগ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হারিনাল এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এসময় তার সাথে ছিলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, রফিক শিকদার, মীর হালিমুজ্জামান ননী, সোহরাব উদ্দিন, ভিপি জয়নাল প্রমুখ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। এছাড়া কাউলতিয়া অঞ্চলে গণসংযোগ করেন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে শামা ওবায়েদ, ১ নম্বর ওয়ার্ডে গৌতম চক্রবর্তী, ২ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন।
আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আবারো আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, এদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের আবারো অভিযোগ করেছেন হাসান উদ্দিন সরকার। মঙ্গলবার তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে বলেন, আমি এ যাবত নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করে আসছি। অপরদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও তার সমর্থকেরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র পদপ্রার্থী বিধি বর্হিভূতভাবে রঙ্গিন ছবিযুক্ত ফোর কালার বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার, সাইনবোর্ড মহাসড়কের দুই পাশসহ নগরির বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করেছেন। যা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার ১নম্বর থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে স্কয়ার গেট, লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, তুরাগ ঈদগাহ মাঠ, হাতিমারা ঈদগাহ মাঠ, কালের ভিটা, মেঘলাল, নছার মার্কেট, মিতালী ক্লাব, নাদের স্কুলের পাশে, আমবাগ পূর্বপাড়া, মন্ত্রী মার্কেট, আনোয়ার মোল্লার বাড়ির পাশে, জেল খানা রোড, কেয়া স্পিনিং, নোয়াব আলী মার্কেটসহ ১৫টি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সকাল ১০টায় ৬নম্বর ওয়ার্ড কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করেন।
বেলা ১১ টায় মহানগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড সুরাবাড়ি ধানশিড়ি স্কুল মাঠে পথসভায় এসব কথায় বলেন, আমি বিশ^াস করি এবং ভোটারদের উপর আস্থা আছে, আগামী নির্বাচনে সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে আমাকে এবং নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। এখানে আমরা সবাই এক। কেউ যেন বিভ্রান্তিমূলক কোন কথা বা সংর্ঘষে না জড়ান বা কেউ কাউকে ছোট করে কথা বলবেন না। যারা কাউন্সিলর থাকবেন আপনাদের মূল্যায়িত করেই এখানে সব কাজ করা হবে। এটি স্থানীয় নির্বাচন, স্থানীয় মানুষ এবং ভোটারদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই অংশগ্রহন করবে এটাই আমার প্রত্যাসা। সবার সহযোগীতা এবং নৌকা মার্কায় ভোট চাই। দুপুরে ২ নম্বর ওয়ার্ড লোহা আলীর মাজারে জহুরের নামাজ আদায় করেন।
পথসভায় জাহাঙ্গীর আরও বলেন, কাশিমপুর এলাকা এখনো কম বসতিপূর্ণ। খুব সহজেই এখানে পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলা যাবে। এখানে রাস্তাঘাট হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার মুরব্বীদের নিয়ে একটি মাষ্টার প্লান করে সেই মোতাবেক কাজ করবো। তিনি সকল নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদের ঘরে ঘরে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান।
দুপুরে ১১ নম্বর ওয়ার্ড কালের ভিটা পথসভায় মহানগর সভাপতি আজমত উল্লাহ খান যোগ দেন। তিনি ৭,৮,৯ ও ১০ নম্বরে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলম একজন ভাল মানুষ। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিন। আপনাদের ভোট বিফলে যাবে না। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীতায় একটি পরিকল্পিত নগর উপহার দিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরের একার পক্ষে ১১ লাখ ভোটারের কাছে পৌছা সম্ভব না। নেতা কর্মীবৃন্দ প্রত্যেকেই এক একজন জাহাঙ্গীর হয়ে ভোটারের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। ইনশাআল্লাহ আগামী ২৬ জুন নির্বাচনে নৌকার বিশাল বিজয় সুনিশ্চিত।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে মোঃ রেজাউল করিম মন্ডল, আশরাফুল আলম আসকর, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ আক্কাছ আলী মোঃ শরবেশ আলী, আঃ রহমান মাষ্টার, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ রেজাউল করিম রাসেল, এড. মাহবুবুর রহমান, মোঃ জামাল উদ্দিন, শামসুল আলম গায়েন, সোহরাব উদ্দিন সরকার, মোঃ সায়মন সরকার, মোঃ মিজানুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ যাই থাকুক নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে এমনটাই চাওয়া ভোটারদের। সম্পাদনা: সিদ্ধার্থ দে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]