সময়ের বিকল্প ভাবনা

আমাদের নতুন সময় : 24/06/2018

ফাদার সুনীল রোজারিও

মিডিয়ার ভূমিকা হলো তথ্য আদান প্রদান, শিক্ষা এবং সুস্থ্য বিনোদন। এই যুগটা হলো মিডিয়ার। তথ্য প্রযুক্তির মহসরণী ধরে মিডিয়া যে লাগামহীনভাবে এগিয়ে চলেছে- তার কতোটুকু তথ্য আদান প্রদান, শিক্ষা ও বিনোদন? মিডিয়ার কাজ যদি হয় তথ্য আদান প্রদান, শিক্ষিত করে তোলা এবং বিনোদন, তাহলে বিজ্ঞজনেরা বলছেন, আজকের দিনে মিডিয়া মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট বদলে দিচ্ছে। কিন্তু কীভাবে?
গণমাধ্যমের ভাইওলেন্স- সেটা অ্যান্টি স্যোসাল বিহেভিয়্যও বা সামাজিক চরিত্র বিরোধী। ছোটোদের নজর ঐ দিকেই বেশী। দোকানে খেলনা কিনতে গেলে ওরা সব বাদ দিয়ে প্রথমে পিস্তলটা বাছাই করে। খেলনা পিস্তল দিয়ে বড়দের দিকে তাক করে খেলে। মিডিয়াতে প্রচারিত ভাইওলেন্স দৃশ্যগুলোই কী সন্ত্রাসের একটা বড় কারণ?
পশ্চিমা পাওয়াফুল মিডিয়ার প্রভাবে আমাদের যুব সমাজ যেনো আগের চেয়ে বেশী উপনিবেশীক শক্তির কবলে পড়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা মিডিয়াই বলে দিচ্ছে কি খাবে, কি কাপড় পরবে, কি পান করলে শক্তি বাড়বে। এছাড়া তাদের কালচার, তাদের পণ্য, তাদের গান, সিনেমা যুব সমাজের কাছে তুলে ধরছে। মিডিয়া খুব কমই থার্ড ওয়ার্ল্ডের যুব সমাজের বাস্তব চিত্রকে তুলে ধরে। প্রায় ৪৫০ কোটি মানুষ বাস করে এশিয়া মহাদেশে যা বিশ্বের মোট জন সংখ্যার ৬০ ভাগ। এশিয়ার এই ৪৫০ কোটি মানুষের মধ্যে ৬০ ভাগ যুবক। অথচ মিডিয়া থেকে সঠিক দিক নির্দেশনা এই যুবসমাজের জন্য নেই। বর্তমানে সবচেয়ে প্রভাবশালী শিক্ষক হলো মিডিয়া। মিডিয়া হলো যুব সমাজের মডেল। মিডিয়া হলো একটা অন্য ঈশ্বর। একটা বাচ্চা প্রথমদিন স্কুলে প্রবেশ করার আগে শতশত ঘন্টা টেলিভিশনের সামনে কাটায়। স্কুলের প্রথম দিন দিদিমণি বা সিষ্টার পড়াতে শুরু করে, কে তোমাকে সৃষ্টি করেছে ? ঈশ্বর কে ? এক ঈশ্বরের কয় ব্যক্তি ? ইত্যাদি। কোথায় টম এন্ড জেরী- শিক্ষা জীবনের প্রথম পাঠেই শিশুদের বসতে হয় নীতি শিক্ষার আসরে।
হাই স্কুল পাশ করলে শিক্ষিত হয়ে গেলাম, এটা বলার দিন শেষ হয়ে গেছে। হাই স্কুল পাশ মানে শিক্ষার জগতে দীক্ষামাত্র। এখন পেশাগত শিক্ষার কদর বেশী। এখনো শিক্ষার টার্গেট হয়ে আছে পাশ করে অফিসে চাকুরী করবো। সে জন্য গার্জিয়ানরা চান ছেলে মেয়ে গোল্ডেন পাক, এ প্লাস পাক। কিন্তু আজকের দিনে শিক্ষার যে প্রয়োজন সেখানে অফিসের চাকুরী একটা খুব ছোটো চাহিদা মাত্র। একজন কৃষিবিদ বা ডাক্তার হয়ে গ্রামে অনেক কাজ করতে পারে এবং ভালো উপার্জন করতে পারে। আজকের দিনের যে শিক্ষা তা হওয়া উচিৎ মূলত উৎপাদন মূখী। আজকে লেখাপড়া শিখে কেউ আগের দিনের মতো পন্ডিত হবে তা সম্ভব নয়- পেশাদারী হতে হবে। এখনকার বিশ্বে বহুমূখী শিক্ষার প্রয়োজন। আজকে অগোচরে থেকে যাচ্ছে অনেক বিশ্বখ্যাত লেখক। এখন ডিজিটাল যুগ। কম্পিউটার ও সোস্যালমিডিয়ার অ্যাপসগুলো জানা না থাকলে তাকে শিক্ষিত বলবে না। মিডিয়ার মাথ্যমে যুব সমাজকে সঠিকভাবে প্রভাবিত করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই নেপথ্যের বাণী হলো প্রকৃত শিক্ষা। সেই ব্যক্তি হলো প্রকৃত শিক্ষিত যিনি সত্যেও উপাসক। যিনি ন্যায়ের ধারক। তিনি মানুষের সেবক। একজন শিক্ষিতের সাথে যদি প্রকৃত কর্ম যোগ না হয়, সৃষ্টি করার সাধনা যোগ না হয়, তা হলে আমি তাকে শিক্ষিত বলবো না। ‘যে শিক্ষার কর্ম নাই সেই শিক্ষার মুখে ছাই।’ অর্থ সম্পদ বিতরণ করলে বা ভোগ করলে কমে আসে। কিন্তু একজন যতো শিক্ষাগ্রহণ করে তা তো বেড়ে উঠে। একজন যতো শিক্ষা বিতরণ করে শিক্ষা ততো বৃদ্ধি পায়। আজকের মিডিয়া কিন্তু এসব বিষয়ে খুব কম অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে। মিডিয়ার প্রভাব ধর্মের উপর পড়তে যে শুরু করেছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। পোপ বলেছেন, ডব ধৎব ষড়ংরহম ঃযব ঘড়ঃরড়হ ড়ভ ঝরহ. পাপের মূল অর্থ বদলে যাচ্ছে। আমরা ছোটো কালে যেটাকে পাপ মনে করতাম এখনকার তরুণ সেটাকে পাপ মনে করছে না। এই যে পাপের ব্যাখ্যা বদলে যাচ্ছে বা পাপকে আর পাপ মনে করছে না, এতে করে কী ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বদলে যাবে না কী নষ্ট হয়ে যাবে, না কী ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নতুন করে স্থাপিত হবে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা উদ্ধার করতে হবে। উইলিয়াম পেন বলেছেন, ‘তোমার জীবনে যে শিক্ষা কাজে আসেনি, ঐ শিক্ষা কাউকে দিও না।’ লেখক: পরিচালক, অনলাইন রেডিও জ্যোতি, বগুড়া সিটি, বাংলাদেশ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]