তার কোনো তুলনা নেই

আমাদের নতুন সময় : 04/07/2018

প্রভাষ আমিন

প্রিয় মুক্তি শিকদারের বিয়েবার্ষিকী । সংসার জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ করলেন তিনি। এবারের বিয়েবার্ষিকীর সবচেয়ে বড় উপহারটা তিনি পেয়েছেন কাল রাতে ব্রাজিলের দারুণ জয়ে। তবে তার আরো পুরস্কার পাওনা। ২৩ বছর আগে এই ভদ্রমহিলা যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তার কোনো তুলনা নেই। ১৩ ভাইবোনের ১২ নাম্বার, ৭ বোনের সবার ছোট মুক্তি শিকদারের জীবন ছিল রাজকন্যার মত। তার হুকুম তামিল করার জন্য সবাই এক পায়ে দাড়িয়ে থাকতো। তার আবদারের, জেদের কোনো শেষ নেই।
সবাই হাসিমুখে তা মেনে নিতো। মারামারিতে পাড়ায় তার নাম ছিল। ভলিবল আর ব্যাডমিন্টন খেলতো জেলা পর্যায়ে। সামনের কাতারে থাকতো রাজনীতির মিছিলেও। সেই মেয়ে কিনা সমস্ত সম্ভাবনাকে পায়ে দলে পালিয়ে বিয়ে করলো এক চালচুলোহীন, উড়নচন্ডী দুই টাকার সাংবাদিককে। চারদিকে ছি ছিক্কার পড়ে গেল। মুক্তি শিকদার যে রান্না-বান্না করে খেতে পারবে বা তাকে যে রান্নাঘরে গিয়ে রাধতে হবে, এটা কেউ ভাবেনি। মুক্তি রান্না-বান্না কোত্থেকে শিখেছে, এটা একটা রহস্য বটে। পালিয়ে আসার আগে সে কোনোদিন রান্নাঘরে উঁকি দিয়েছে, এমন বদনাম কেউ শোনেনি। মুক্তির মা অনেকদিন পরও বলতেন, আহারে মাইয়াডা রানতো টানতো পারে না, কী না কী খায়। সেই মুক্তি শিকদার কিন্তু কুমিল্লা পালিয়ে ঢাকায় আসতে আসতেই নিজেকে বদলে ফেললো।


সংসারের উত্তাল সমুদ্রের জীবনের হাল ধরলো শক্ত হাতে। সেই হাল মুহুূর্তের জন্যও আলগা হয়নি। রাজকন্যা স¤্রাজ্ঞীতে বদলে গেলেন তিনি। তার সংসারে তিনিই একচ্ছত্র শাসক। শুধু শাসক নয়, কড়া শাসক। আমি দুই মুক্তিকেই চিনি। দেখি আর অবাক ভাবি, এমন পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব। মেজাজী বলে আমিসহ চারপাশের অনেকেই তাকে ভয় পায়। কিন্তু মুক্তি হলো নারকেলের মত। ওপরটা শক্ত, ভেতরটা ভালোবাসার সুশীতল জলে ভরা। অনেকে শক্ত খোসা দেখেই ভয় পায়, দূরে সরে যায়, ভালোবাসার দেখাই পায় না। আমরা পাই, তাই চারপাশে ঘুরঘুর করি।
২৩ বছর ধরে সংসারের হাল ধরে রাখার জন্য, এক উড়নচন্ডী সাংবাদিককে সহ্য করার জন্য মুক্তি শিকদারকে নতমস্তক অভিনন্দন। তার জন্য একটা জোরে তালি হবে।
পরিচিতি: হেড অব নিউজ, এটিএননিউজ/ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]