ছাত্রলীগ সরকারবিরোধী কর্মকা- করছে সংযত করার তাগিদ বিশ্লেষকদের

আমাদের নতুন সময় : 09/07/2018

আশিক রহমান: ছাত্রলীগ সরকারবিরোধী কর্মকা- করছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেকেরা। তাদের মতে, ২০১৮ সাল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর। বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার অবকাঠামো, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করলেও ছাত্রলীগের বিশৃঙ্খল আচরণে মানুষ বিরক্ত। ছাত্রলীগের কারণে সরকারের অনেক অর্জন ম্লান হয়ে গেছে। ভাবমূর্তিও বিপণœ হচ্ছে সরকারের। তা থেকে পরিত্রাণে ছাত্রলীগকে সংযত করার তাগিদও দিয়েছেন তারা। এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা যে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিল, সেটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা জানতে চাইতেই পারে যে কোটা সংস্কারের জন্য কত সময় লাগবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া দরকার যে, কত দিনের মধ্যে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হবে। তাতে করে আন্দোলনকারীরা কোনো অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে না।
সিপিবির সভাপতিম-লীর সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকর্মীদের উপর ছাত্রলীগেরর হামলা, পুলিশি হয়রানি খুবই নিন্দনীয় ও জঘণ্যতম কাজ। এমন আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন, সমাধান এখন তার হাতে। সুষ্ঠু সমাধানের ব্যাপারে আমরা এখনো আশাবাদী।
শিক্ষাবিদ যতীন সরকার বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনেকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। তারা তাদের কথা বলছে বা বলার চেষ্টা করছে। এটা তারা করতেই পারে। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, মারধর অগণতান্ত্রিক। সরকার ছাত্রলীগকে সংযত না করলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ছাত্রলীগের যেসব কর্মী কোটা সংস্কার আন্দোলনকর্মীদের উপর আক্রমণ করেছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ কাউকে মারধর করার অধিকার কারও নেই। কেউ অন্যায় করলে তার আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করার বিধান আছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। কেন তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আইনগত সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকর্মীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতে তাদেরকে আইনগত সহায়তা দিতেই আইনজীবীরা সম্মত হয়েছেন। প্রফেশনাল জায়গা থেকে আমাদের মনে হয়েছে যে, সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো ব্যক্তি আইনগত সহায়তা পাওয়ার এখতিয়ার রাখে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের পরিবার যেভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল তাতে যতটুকু বুঝেছিলাম, তাতে মনে হয়েছে, আইনগত সহায়তাটা হয়তো তারা ঠিকমতো পাবে না। সেজন্যই তাদেরকে আইনি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছি আমরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]