৩ সিটি নির্বাচন: এজেন্ট-তালিকা বিএনপি আগেই প্রকাশ করুক

আমাদের নতুন সময় : 09/07/2018

মাসুদা ভাট্টি

দেশের তিন বৃহৎ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন যতোই ঘনাচ্ছে ততোই আলোচনা ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র কর্মকা- একটি বৃহৎ জাতীয় ঐক্য নির্মাণে ব্যস্ত বলে বোঝা যাচ্ছে। যে কারণে প্রেসক্লাব ও দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন বা আলোচনা অনুষ্ঠানেই সাধারণতঃ বিএনপি-নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখছেন। যদিও তাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ যে, বিএনপি-নেতাকর্মীদের সরকার রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না কিংবা হামলা-মামলায় জর্জরিত দলটি একপ্রকার বিধ্বস্ত। এই বিধ্বস্ততা নিয়েই স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দলটি তৃণমূলে তাদের অবস্থানকে ধরে রাখতে চাইছে, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
অতি সম্প্রতি খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও বিএনপি’র প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করে। ২০১৩ সালের মতোই বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করে সরকারের বিরুদ্ধেই অভিযোগের কামান দাগাতে শুরু করে। সেসব অভিযোগের সকলই মিথ্যে সে কথা নয়, কিন্তু সাধারণ মানুষ একথা এখন সরাসরিই বলে যে, নির্বাচন এলেই দিনে অন্ততঃ কয়েক দফা সংবাদ-সম্মেলন করে অভিযোগনামা পেশ করার চেয়ে দলটি সাধারণ ভোটার ও দলীয় সমর্থকদের নিয়ে যদি নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নেয়ার পথ বেছে নিতো তাহলে আরো ভালো ফল করতে পারতো। খুলনা বা গাজীপুর নির্বাচনে অনিয়ম যতোটুকু হয়েছে তা বাংলাদেশের নির্বাচন-ব্যবস্থার সার্বিক ত্রুটি। এই ত্রুটি একদিনে দূর হওয়া নয়। একথাও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকগণও স্বীকার করছেন। কিন্তু বিএনপি’র পক্ষ থেকে সেই গতবাধা কিছু অভিযোগ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম ঠেকাতে গণ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
অপরদিকে বিএনপি ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল এটাই যে, নির্বাচনী কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের থাকতে দেওয়া হয়নি বা ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। অপরদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা বিএনপি’র পক্ষ থেকে কোনো এজেন্টের তালিকাই পায়নি। সরকারি দলও একথা জোর দিয়ে বলছে যে, বিএনপি-প্রার্থীর কোনো এজেন্ট ছিল না। প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রে কে সত্য বলছে কে মিথ্যে বলছে তা যাচাই করার সবচেয়ে সহজ তরিকা হলো বিএনপি’র পক্ষ থেকে দুই সিটি নির্বাচনেই দেওয়া এজেন্টদের তালিকাটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা। এতোদিন পরেও সে কাজটি বিএনপি করতে পারেনি। এ কারণেই সন্দেহটি আরো ঘনীভূত হয় যে, আসলেই এই দুই নির্বাচনেই বিএনপি আদৌ কোনো এজেন্ট দিয়েছিল কিনা? নির্বাচনে পরাজয় বরণ করলেই যে নির্বাচনটি বিতর্কিত হবে এবং জনগণ সেটা মেনে নেবে সে দিনতো বাংলাদেশ পেরিয়ে এসেছে। এখন জনগণকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিয়ে তবেই পক্ষে টানা যায়। কারণ, যারা ভোট দিচ্ছেন তারা প্রত্যেকেই মোটামুটি সচেতন। নিজের ভোটটিই তার সম্পদ। কেউ এটি ছিনিয়ে নিতে চাইলে যেমন তারা বাধা দেন তেমনই কেউ একে বিতর্কিত করলেও তারা ফুঁসে ওঠেন। গাজীপুরে এরকমটিই হয়েছে। ১১ লাখের ওপরে ভোটারসংখ্যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভোটার যারা ভোট দিয়েছেন তারা এখন এই প্রশ্ন তুলছেন যে, ভোট বিতর্কিত করে বিএনপি তাদের অপমান করছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলিতেও একই রকম অভিযোগ আসবে কিংবা অভিযোগের নতুন কোনো পরিচয় পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে বিএনপি’র কাছে এই দাবিটি করা নিশ্চয়ই অসঙ্গত হবে না যে, নির্বাচনের অন্ততঃ এক সপ্তাহ আগে থেকেই যাতে দলটি তাদের এজেন্টদের তালিকা নির্বাচন কমিশন, পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। যাতে মানুষ লক্ষ্য রাখতে পারে এই এজেন্টদের কাকে সরকার গ্রেফতার করলো, কাকে গুম করলো বা কাকে নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে বের করে দিলো বা ঢুকতেই দিলো না। তাহলে নির্বাচন-শেষে বিএনপি’র পক্ষে অভিযোগ প্রমাণ করাটা সহজ হবে এবং তাতে সাধারণ মানুষও খুলনা বা গাজীপুরের মতো দলটিকে অবিশ্বাস করবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অন্ততঃ এটুকুতো বিএনপি করতেই পারে বা করা উচিতও, নয়?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]