তরুণদের অংশগ্রহণে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে

আমাদের নতুন সময় : 29/07/2018

খ্রিস্টীয় দর্পন ডেস্ক

জুয়েল আরেং, সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-১ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। বাবা প্রমোদ মানকিন আড়াই দশকের বেশি সময় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক সমাজসেবা প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জুয়েল আরেং। পারিবারিক রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শিক্ষাজীবন শুরু করেন প্রত্যন্ত গ্রামে। নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে, বিবিএ সম্পন্ন করেন ভারতের সিলং থেকে। বাবার অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিতে মানুষের জন্য রাজনীতি করছেন জুয়েল আরেং। আমাদের এবারের প্রজন্মে তিনি তার বিভিন্ন ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা গ্রামের অন্য দশটা ছেলের মতো। বন্ধুদের নিয়ে পুকুরে সাঁতার কাটা, গাছে ওঠা, ক্রিকেট-ফুটবল খেলা নিয়ে সবসময় দুষ্টামিতে মেতে উঠতাম। পারিবারিক কারণে ছোটবেলা থেকে বাবার রাজনৈতিক জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাবার কারণে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম, কিন্তু কখনো কোনো দলীয় পদে যাইনি। তবে বাবার অবর্তমানে এলাকায় দলের সেতুবন্ধক হিসেবে কাজ করতাম। বাবার মৃত্যুর পর তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে ফুলটাইম রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছি।
আগে আমাদের এলাকায় ‘মারামারি-কাটাকাটি’ অবস্থা ছিল। এটা সময় এলো যখন সারা দেশের পরিবেশ খারাপ থাকলেও হালুয়াঘাটে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতো না। বাবা ছিলেন হালুয়াঘাটের এই সুস্থ ধারার রাজনৈতিক পরিবর্তনের নায়ক। বাবার সততা, মানুষকে আপন করে নেওয়ার মানসিকতা, সাধারণ জীবনযাপন আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। বাবা পাঁচবার নির্বাচিত এমপি ছিলেন, তিনবার মন্ত্রী ছিলেন, তবুও কোনো সম্পদের পাহাড় গড়েননি। বাবার কাছে শিখেছি কিভাবে ক্ষমতায় থেকেও সৎ থাকা যায়। বাবার মতো সাধারণ জীবনযাপন করার চেষ্টা করি।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে উন্নত হয়েছে, সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। এ দেশে এখন আর ভাতের অভাবে কেউ মরে না। তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আমরা মানবিকতায় ও নৈতিকতায় অনেক পিছিয়ে আছি। যতদিন আমাদের নৈতিকতা ও মানবিকতায় ঠিক হবে না, ততদিন পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারব না। আমি সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছি। অর্ধেক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছি, বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। কারণ আমাদের সমাজের বড় একটি অংশ তরুণ। আর তরুণদের বড় একটি অংশ রাজনীতি থেকে দূরে থাকে। রাজনীতিতে অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, পজেটিভ তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছি। এখন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবকেরা সরকারি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিতে পারছে। দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে সিএনজি, সেলাই মেশিন ও নগদ অর্থ। আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি শিক্ষার ওপর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সকল শিক্ষার্থীদের আমরা বৃত্তি ও উপবৃত্তির আওতায় এনেছি। রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবা করে যেতে চাই। জনগণের জন্য কতটুকু করতে পারব জানি না, তবে জনগণের কল্যাণে কাজ করা আমার দায়িত্ব। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]