অনিশ্চিত জীবনে আমরা অনেক কিছু করি

আমাদের নতুন সময় : 26/08/2018

এলড্রিক বিশ্বাস

 

মানুষ মরণশীল। এ জগতে অমরত্বের দাবীদার কেউ হতে পারবে না। একমাত্র মানব জাতির মুক্তিদাতা প্রভু যীশু খ্রিস্ট মৃত্যুর পর পুনরুত্থান করে চল্লিশ দিন পৃথিবীতে থেকে প্রমাণ করেছেন তিনিই মৃত্যুঞ্জয়ী। মানুষকে একদিন মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শ পেতে হবে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতায় এ জগৎকে নিয়ে লিখেছেন ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি, বাঁচিবারে চাই।’

মানুষ চায় বহুদিন যেন সে এ জগতে বাঁচতে পারে। মানুষ বাঁচার আকাংখায় খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করাসহ শারীরিক করসত, বিশ্রাম ও নানাবিধ কর্মসূচী ও নতুন নতুন চিন্তা নিয়ে বেঁচে থাকার মহান ব্যর্থ দায়িত্ব পালন করে চলছে। স্বয়ং খ্রিস্টযীশু আমাদের জন্য বাণী রেখেছেন- ‘আমিই পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমার উপর বিশ্বাস করে, সে মরলেও জীবিত হবে’। যোহন: ১১; ২৫-২৬ পদ। ঢাকার রমনা পার্কে একদিন একটি ব্যানার দেখেছিলাম- শতায়ু সংসদ এর কর্মকর্তার মৃত্যুতে শোক জানানো বিষয়ক। শতায়ু সংসদের সকলের ইচ্ছা জীবনের শতবর্ষ সমাপ্ত করবে কিন্তু সৃষ্টিকর্তা পিতা ঈশ্বরের পরিকল্পনা কার জন্য কি আছে তা কি আমরা জানি?

আমাদের এই সীমাবদ্ধ ও ক্ষণিকের জীবনযাত্রায় জীবনধারা অবশ্যই হওয়া উচিত খ্রিস্ট প্রেম ও ঈশ্বরপ্রেম ভিত্তিক। তাহলে আমাদের জীবনে সকল অনৈতিকতা কেটে গিয়ে খ্রিস্টের বাণীকে আমরা অন্তরে স্থান দিতে পারবো। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে যে কোন সময় সৃষ্টিকর্তা পিতা ঈশ্বরের ডাক শোনার জন্য। আধ্যাত্মিক অনুশীলন মানুষের মনকে করে ঈশ্বর ভীতি এবং মানুষ সকল প্রকার অন্যায্যতা, অপকর্ম থেকে বিরত থাকে। সবসময় পিতা ঈশ্বরকে স্মরণ করে। প্রাত্যহিক প্রার্থনা জীবনে স্থান পায়। এজন্য একজন ধর্মভীরু মানুষ সবসময় প্রস্তুত থাকে পিতা ঈশ্বরকে স্তুতি ও ধন্যবাদ জানাতে। সামাজিক জীবনে আমরা হই হিতে বিপরীত। সমাজে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টিসহ ক্ষমতার লোভে অপকর্মকে স্থান দেই। নিজেদের বলয় তৈরী করি, যারা আমাদের অপকর্মের সঙ্গী, তাদের দেই ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা।

আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য কি! সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করা, তাঁর স্তুতি করা, তাঁর একমাত্র পুত্র প্রভু যীশু খ্রিস্টেতে বিশ্বাস ও তাঁর বাণী বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা। এবাবে আমরা এ মর্তের রাজ্য থেকে ঐশ্ব রাজ্যে প্রবেশের পথ সুগম করতে পারি। পবিত্র বাইবেল বলে- ‘খ্রিস্টের সঙ্গে যদি আমরা মরে থাকি, তবে তার সঙ্গে আমরাও জীবিত থাকবো।’ তিমথি : ২:১১ পদ।

আমরা দেখি স্বাভাবিক মৃত্যু ও অস্বাভাবিক মৃত্যু। স্বাভাবিক মৃত্যুর চেয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের, বেশী কষ্ট দেয়। কিভাবে মৃত্যু হতে পারে। স্বাভাবিক মৃত্যু, বয়স হয়ে মৃত্যু, অসুখ হয়ে মৃত্যু, হঠাৎ মৃত্যু (স্ট্রোক) এছাড়া এক্সিডেন্ট, অপমৃত্যু, আন্দোলনে দেশের জন্য মৃত্যুসহ আমাদের জন্য পিতা ঈশ্বরের কি পরিকল্পনা আছে তা আমরা জানি না। আগামীকাল মানুষের জন্য পিতা ঈশ্বরের কি চিন্তা, তা মানুষ জানে না। মানুষ কি সৃষ্টিকর্তাকে সবসময় স্মরণ করতে প্রস্তুত? সাধারণ মৃত্যুর গ্যারান্টি সকলেই চায় যেহেতু মরণশীল মানুষকে একদিন এ জগতের মায়া ত্যাগ করতে হবে সেহেতু প্রতিটি মানুষের উচিত সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করা। পবিত্র বাইবেল বলে- ‘টাকা পয়সা, জমা-জমি, সৌন্দর্য্য ও ভোগ বিলাসিতা এখন আর কাজের নয়। তারা সবই ছেড়ে গেছেন; সঙ্গে শুধু নিয়েছেন তাদের কর্মফল, স্বর্গসুখ নয় শাস্তি।’ প্রত্যাদেশ: ১১:১৩ পদ।

‘যারা প্রভুকে জেনে ও প্রভুতে বিশ্বাসী হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তাদের জীবন অমরত্বে পূর্ণ, তাদের পুরষ্কার তারা পাবেই অনন্তধামে।’ প্রজ্ঞা: ৩:১ পদ।

পিতা ঈশ্বর মানুষকে (আদমকে) শাপ দিলেন যা আমরা আদিপুস্তকে পাইÑ ‘যে গাছের ফল সম্বন্ধে তোমাকে বলেছিলাম তুমি তা খাবে না, তোমার স্ত্রীর কথা শুনে তুমি তার ফল খেয়েছো বিধায় তোমার কারণে ভূমি অভিষিক্ত হোক। তোমার সমস্ত দিন ধরে তুমি ক্লেশেই তা ভোগ করবে। এই ভূমি তোমার জন্য কাঁটাগাছ ও শিয়ালকাটা ফলাবে, মাঠের উদ্ভিদ হবে তোমার খাদ্য। তুমি মাথার ঘাম পায়ে ফেলেই আহার করবেÑ যতদিন না তুমি মাটিতে ফিরে যাও। যেহেতু মাটি থেকেই তোমাকে তুলে নে’য়া হয়েছে; কেননা তুমি ধূলো আর ধূলাতেই আবার ফিরে যাবে।’ পবিত্র বাইবেল (পুরাতন নিয়ম) আদিপুস্তক: ৩:১৭-১৯ পদ।

মন্ডলির নিয়মের মধ্যে থেকে আমাদের ধর্মীয় অনুশীলনের চর্চা করে আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট হই। এসময় আত্ম সচেতন হওয়া, প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করা, পিতা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের গভীরতা বাড়ানো, নিজেকে আতœশুদ্ধি করা, আধ্যাত্মিক স্পর্শে নিজেকে বিকশিত করা, ত্যাগ ও সেবার মনোভাবে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ খ্রিস্টভক্ত হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা। আমাদের মনকে প্রস্তুত রাখতে হবে সবসময় যেন পিতা ঈশ্বরের নির্দেশিত পথে চলতে প্রস্তুত থাকি।

আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত ঐশ্ব জগতের জন্য। আমরা সবসময় মনে করি জীবনের আরো অনেক সময় আছে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য। তাঁর প্রশংসা করার জন্য। কিন্তু আমাদের জীবনে প্রতিটি দিনই প্রস্তুতির দিন, অনুগ্রহ লাভের দিন। যীশু খ্রিস্টের উপর অগাধ বিশ্বাস ও তাঁর বাণী পালনের মাধ্যমে আমরা হতে পারি খ্রিস্টের একান্ত অনুসারী। শেষ কথা, আমাদের সকলেরই ব্যক্তি জীবনে আছে অহংকার, লোভ, ক্ষোভ, রাগ, ক্ষমতার প্রতিপত্তি আরো অনেক কিছু, আছে টাকা পয়সা ও সম্পদের প্রাচুর্যময় জীবন এবং প্রতিনিয়ত যে যেই অবস্থান আছি তার থেকে আরো উন্নতিতে ও উৎকর্ষতায় জীবনকে সুন্দর করার অবিরাম প্রয়াস। কিন্তু যেদিন পিতা ঈশ্বরের ডাকে এ মর্তের মায়া ত্যাগ করতে হবে-সেদিন সকল দম্ভ ও সম্পদের প্রতিপত্তি থেকে যাবে শুধু আমাদের এ নশ্বর দেহটি মাটির ঘরে স্থান পাবে। অনেকে কান্না করবে বেদনার্ত হবে, তাও একদিন শেষ হবে। তবুও কথা থেকে যায়, জীবদ্দশায় আমাদের আচরণ, কাজের স্বীকৃতিই মৃত জীবনে নিয়ে বয়ে বেড়ায় নানা কথা, সেই কথার বেড়াজালে যেন একটি কথা প্রাধান্য পায় যে কথা আমাদের জীবদ্দশার স্মৃতিকে বারংবার জন্য, খ্রিস্টের বাণীকে অন্তরে স্থান দেয়ার জন্য, বাণীকে কাজে পরিণত করার জন্য, তা হল মৃত ব্যক্তি ভাল লোক ছিলেন। সূত্র: বিডি খ্রিস্টান নিউজ

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]