জেলখানা ও ভেঙে যাওয়া জাহাজ

আমাদের নতুন সময় : 26/08/2018

খ্রিস্টীয় দর্পণ ডেস্ক

 

পৌল যিরূশালেমে এসেছেন বেশী দিন হয় নি, কিন্তু এরই মধ্যে পৌলকে নিয়ে আরেকটি হুলস্থুল শুরু হয়ে যায়। যিহূদীরা ভেবেছিল তিনি তার অযিহূদী বন্ধুদের নিয়ে মন্দিরে ঢুকছেন। (এটা কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ছিল)। ঠিক সেই সময় রোমীয় সৈন্যরা এসে পৌলকে যিহূদীদের হাত থেকে বাঁচালো।

জেলখানাতেও পৌলের জীবন নিরাপদ ছিল না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতে লাগল। তাই তাকে কৈসরিয়াতে নিয়ে যাওয়া হল। যিহূদীরা সেখানে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। সেখানে রোমীয় শাসনকর্তা ফিলিক্স তার কথা শুনলেন কিন্তু তিনি কোন বিচারের আদেশ দিলেন না। দু’বছর পরে ফিলিক্সের জায়গায় যখন ফিষ্ট শাসনকর্তা হলেন তখনও পৌল সেখানকার জেলে ছিলেন।

ফিষ্ট বললেন, ‘আপনি কি বিচারের জন্য যিরূশালেমে যেতে চান?’

পৌল ছিলেন একজন রোমীয় নাগরিক। তাই সম্রাটের কাছে তার বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল। পৌল বললেন, ‘না, আমি যিরূশালেম যাব না। আমি সম্রাটের কছে আপিল করি।’ উত্তরে ফিষ্ট বললেন, ‘তবে আমি আপনাকে রোমে পাঠিয়ে দেব।’

যখন রোমের উদ্দেশ্যে তাদের জাহাজ ছেড়ে গেল তখন সময়টা ছিল সেপ্টেম্বর মাস। জুলিয়াস নামে একজন রোমীয় সেনাপতি পৌল ও অন্যান্য বন্দিদের নিয়ে যাচ্ছিল। ক্রীট দ্বীপের পর জাহাজ আর ঠিক পথে চালানো যাচ্ছিল না এটা উল্টা পথে চলছিল। সাগরে তখন প্রচন্ড ঢেউ। তাই জাহাজের পালগুলো সব নামিয়ে ফেলে বাতাসের কাছেই জাহাজকে ছেড়ে দেওয়া হল। পরের দিন জাহাজের ওজন কমানোর জন্য তারা জাহাজের অনেক মালপত্র ও সাজ-সরঞ্জাম ফেলে দিল। এভাবে চৌদ্দ দিন পার হয়ে গেল। এরমধ্যে তারা সূর্যের আলো বা আকাশের তারা দেখতে পেল না। তাই তারা জানত না যে, তারা কোথায় আছে। তারপর একদিন রাতে নাবিকরা বুঝতে পারল যে, তারা কোন এক শুকনা জায়গার কাছে এসে পড়েছে। পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে জাহাজ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা তাদের সব নোঙ্গর সেখানে ফেলে দিল। খুব ভোরে কিছু খাওয়ার জন্য পৌল তাদের সবাইকে উৎসাহ দিলেন।

তিনি বললেন, ‘এই জাহাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের জীবন রক্ষা করার জন্য ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন।’ দিনের আলো দেখা দিলে পর তারা জাহাজটিকে একটি বালুর চরে উঠিয়ে দিল আর ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটির পিছন দিক ভেঙ্গে যেতে লাগল। তখন সৈন্যরা তাদের বন্দিদের মেরে ফেলতে চাইল কিন্তু তাদের সেনাপতি জলিয়াস তা করতে দিল না। সে পৌলের জীবন রক্ষা করতে চাইল। যারা সাঁতার জানে তাদেরকে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে, আর বাকীরা ভাঙ্গা জাহাজের টুকরা ধরে তাদের পিছনে পিছনে যেতে আদেশ দেওয়া হল। এতে সবাই নিরাপদে তীরে গিয়ে উঠল। পরে তারা বুঝতে পারল যে, তারা মাল্টা দ্বীপে এসেছে!

বসন্তকাল না আসা পর্যন্ত তাদের সেখানেই থাকতে হল। সময়টা তাদের সেখানে ভালই কাটল। এরপর পৌল রোমে এসে পৌঁছালেন। যারা পৌলকে দেখতে আসত তাদের সকলকেই তিনি স্বাগতম জানাতেন। তিনি তাদের কাছে যীশুর সুখবরের বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। যীশুর সুখবর যিরূশালেম থেকে অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সুখবর সিরিয়া দেশের আন্তিয়খিয়া থেকে শুরু করে গ্রীস ও রোমেও ছড়িয়ে পড়েছিল। রোম সাম্রাজ্যের সব জায়গায় খ্রিস্ট বিশ্বাসীরা যীশু খ্রিস্টের বিষয়ে সুখবর তাদের বন্ধুদের কাছে প্রচার করেছিল। পৌলের মতই তারা তাদের বিশ্বাসের জন্য অত্যাচার সহ্য করত, এমনকি, মৃত্যুবরণও করত। এরপরে কি ঘটেছিল তা আরেক কাহিনী- এই দু’হাজার বছর ধরে সেই সুখবর সারা পৃথিবীতে প্রচার হচ্ছে। এখনও তা শেষ হয়নি। কিন্তু যীশু যখন ফিরে আসবেন তখন এই কাজ শেষ হবে। তখন নতুন পৃথিবী ও নতুন স্বর্গ সৃষ্টি করা হবে আর স্বর্গের ঈশ্বর পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে চিরকাল বাস করবেন। প্রেরিত ২১-২৮ পদ। সূত্র: ক্রাইষ্টবিডি

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]