• প্রচ্ছদ » আমাদের বাংলাদেশ » স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলায় পুলিশের ফাইনাল রিপোর্ট
    ‘হত্যা নয় আত্নহত্যা’: মায়ের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড


স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলায় পুলিশের ফাইনাল রিপোর্ট
‘হত্যা নয় আত্নহত্যা’: মায়ের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2018

গোলাম মাওলা মুরাদ: চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যামামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি। এতে তার মৃত্যুকে হত্যা নয়, বরং আত্নহত্যা হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাসফিয়ার মা নাঈমা খানমের দাবি, তার মেয়ে তাসফিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে তিনি নারাজি দিবেন বলে জানিয়েছেন।
আলোচিত স্কুল ছাত্রী তাসফিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যামামলার ৭ মাস পর সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ডিবি’র তদন্ত কর্মকর্তা স্বপন সরকার।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও হত্যামামলার ৬ আসামীকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে রিপোর্টে।
প্রেমের মাসপুর্তি উদযাপন করতে গত ১ মে নিজ ঘর থেকে প্রেমিক আদনানের সাথে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরেননি স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া। পরদিন ভোরে পতেঙ্গা নেভাল বিচ থেকে তাসফিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের শরীরে তখন প্রচুর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়া আদনান ও তাসফিয়ার প্রেমকে তার মা নাঈমা ভালোভাবে নেননি বলে দাবি করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বপন সরকার বলেন, মায়ের শাসন আর লোকলজ্জার ভয়েই সম্ভবত আতœহত্যার পথ বেছে নেয় তাসফিয়া। তার মোবাইল ফোনটি মা কেড়ে নেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
তবে তাসফিয়ার মা নাঈমা খানম বলেছেন, তাসফিয়ার মৃতদেহের পাশেই মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়েছে প্রেমিক আদনান। মৃত্যদেহের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। তাসফিয়াকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার মা নাঈমা খানম।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ব্যাপক তদন্তে মনে হয়েছে তাসফিয়ার মৃত্যুর কারন ছিলো আত্মহত্যা। তিনি বলেন, এটি একটি আলোচিত ঘটনা হওয়ায় ছায়া তদন্তকারী হিসেবে কাজ করছে র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআই কাজ করেছে।
তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক আদনান মির্জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাসফিয়ার বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন। মামলার ফাইনাল রিপোর্ট আদালত গ্রহন করলে আসামীরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।
এ মামলার আসামী আদনান মির্জা, আসিফ মিজান ও ফিরোজ গ্রেফতার রয়েছে পুলিশের হাতে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক স্বপন সরকার বলেন, মামলায় ৭জন প্রত্যেক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্য, ভিসেরা রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং মাসখানেকের বেশিসময় ধরে ব্যাপক তদন্তের পর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ভিসেরা রিপোর্টে তাসফিয়ার শরীরে বিষক্রিয়ার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, ধর্ষণের কোন প্রমাণও নেই। ময়নাতদন্ত রিপোর্টও পানিতে ডুবে মৃত্যুর কথা বলে। তাছাড়া গ্রেফতার থাকা আসামীদেরকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে মনে হয়েছে এটি হত্যা নয়, আতœহত্যা।
প্রসংগত, গত ১ মে নগরীর গোলপাগাড় মোড়ের চায়না গ্রীল রেস্টুরেন্টে প্রেমিক আদনানের সাথে নাস্তা করে বেরিয়ে পাশ্ববর্তী এলাকায় বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন তাসফিয়া।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com