পূর্ববর্তী
পরবর্তী


আমরা আর সহ্য করবো না # মিটু মুভমেন্ট

আমাদের নতুন সময় : 04/10/2018

প্রিয়াংকা আচার্য্য

নারী সেই আদিকাল থেকেই নির্যাতিত হয়ে আসছে শরীরে-মানসে। বিছিন্নভাবে প্রতিবাদও হয়েছে। কিন্তু নারীর ওপর হওয়া যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে খুব কম নারীই সাহস করে তা প্রকাশ করতে পেরেছেন। একবিংশ শতাব্দীর সেই চিরাচরিত ধারা ভেঙ্গে দিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া একটি স্ট্যাটাস। সেই স্ট্যাটাসে গোটা পৃথিবীতে আলোড়ণ তুলে দিল। নারী-পুরুষ সকলের কণ্ঠ একত্র করে দিল নারীর বিরুদ্ধে হওয়া যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে।
জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলাে নার টুইটারের স্ট্যাটাসটি যুগ যুগ ধরে কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি হওয়া যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে নতুন এক মাত্রা সংযোজন করলো। ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর মিলানো টুইটে লিখেন- “#মিটু: আমরা আর সহ্য করবো না।” তিনি নিজেদের জীবনে হওয়া যৌন হয়রানীর ঘটনাগুলো হ্যাশট্যাগ মি টু সাইন ব্যবহার করে তা প্রকাশের আহ্বান জানান। ব্যস, বাকিটা ইতিহাস। একরাতেই ৫৫ হাজার রিপ্লাই পান অ্যলিসা। ৮৫টিরও বেশি দেশের ১০ কোটিরও বেশি নারী-পুরুষ এতে সাড়া দেন। তারপর থেকেই পৃথিবীজুড়ে শুরু হয় হ্যাশট্যাগ মি টু মুভমেন্ট। যৌন র্যিাতনের বিরুদ্ধে এক অভিনব প্রতিবাদ। বিভিন্ন দেশের নারীরা নিজেদের জীবনে হওয়া যৌন হয়রানীর কথাগুলো নিঃসংকোচে তুলে ধরতে থাকেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে জড়ো হন হাজারো নারী। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন হলিউড অভিনেত্রী থেকে শুরু করে মানবাধিকার কর্মীসহ সকলে। প্রসঙ্গত, হ্যাশ ট্যাগ মিটুর ব্যবহার প্রথম করেছিলেন আফ্রো-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী তারানা বার্ক।
সমাজের অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বের অন্ধকারের দিকটি ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে। কবি, বুদ্ধিজীবী, অভিনেতা, আইনজীবী, রাজনীতিক, যাজক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবী, এনজিও অধিকর্তা… কে নয়? একের পর এক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বড়পদে থাকা ব্যক্তিদের যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রকাশ হতে থাকে।
উল্লেখ্য, হলিউডের স্বনামধন্য প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেত্রী অ্যালিস মিলানো টুইটারে প্রতিবাদটি করেছিলেন। এ টুইটের পর তার বিরুদ্ধে ৮০ জন নারী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। হার্ভেকে তার প্রতিষ্ঠান মিরাম্যাক্স থেকে বহিস্কার করা হয়। এ বছরের ২৫ মে তাকে নিউ ইয়র্ক পুলিশ গ্রেফতার করে। ১০ লাখ ডলার জরিমানা দেয়ার পর তিনি মুক্তি পান।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]