‘নারীবাদ’ শব্দটির অস্তিত্ব বিলীন হোক

আমাদের নতুন সময় : 04/10/2018

রাসেল রায়হান

নারীবাদ। সবচেয়ে বেশি টিটকিরি যেসব শব্দ নিয়ে ইদানিং চোখে পড়ে, তার মধ্যে একটা। অথচ আমরাও এর গুরুত্ব জানি; যারা এর পক্ষে বলেন, তারাও; যারা বিপক্ষে তারাও। আমাদের সমস্যা হলো সব কিছু নিয়েই আমরা বড় আক্রমণাত্মক। পক্ষে হলে সরাসরি বিপক্ষের লোককে আক্রমণ করি, বিপক্ষে হলে পক্ষের লোকজনকে।
নারীবাদী মানুষগুলি দেখা যায় সব কিছুতেই নারীবাদিতা টেনে আনেন। আর আমরাও চান্সে পেলে নারীবাদীর ‘গুষ্টি উদ্ধারে’ লেগে পড়ি। বাসে ৯টা সিট নারী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত রাখা নারীবাদ নয়। আবার পুরুষ সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে, বসলে আমার দুর্বলতা প্রকাশ পাবে বলে দাঁড়িয়ে থাকাও নারীবাদ নয়। সিটে বসা আমি একজন নারী দাঁড়িয়ে থাকলে সিট ছেড়েই দেবো। বাসে একজন নারী বসে থাকতে একজন সমর্থ পুরুষের দাঁড়িয়ে থাকা মানায় না, যেমন মানায় না একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকলেও একজন সমর্থ নারীর সিটে বসে থাকা। নারী শারীরিকভাবে পুরুষের তুলনায় দুর্বল (অনেকটা আমাদের রীতিনীতি, সামাজিক অভ্যস্ততাও দায়ী এজন্য। বাসে প্রথম ওঠা পুরুষটির তুলনায় একশ সাতাশিবার ওঠা নারীটি দেখা যাবে এই ক্ষেত্রে বেশি সামর্থের পরিচয় দিতে পারে) বলে আমি তার জন্য দাঁড়া‘িছ না, দাঁড়ানোর আরও বহু কারণ আছে। যেমন একজন নারী ভীড়ে দাঁড়িয়ে থাকলে নামার আগে বেশ কয়েকজন পুরুষ ই‘ছা করে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত-কনুই-কাঁধ ঘসে যাবে। কেউ না কেউ যাবেই। সত্যি কথা হলো, একজন দুর্বলের উপরেও অত্যাচার হবে না, এটা মানলেই একজন নারী তো নির্যাতিত হবেনই না, একজন পুরুষও নির্যাতিত হবেন না অন্য একজন নারী কিংবা পুরুষ দ্বারা। দেখা যায় বিয়ের পরে একজন নারী বেশি নির্যাতিত হ‘েছ শাশুড়ি কিংবা ননদের দ্বারাই। কিংবা গৃহকর্ত্রী দ্বারা ছোট ছোট কাজের ছেলে-মেয়ে নির্যাতনের ঘটনাও কম ঘটছে না। সুতরাং, শেষ পর্যন্ত সবগুলিই আসলে দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার। যেকোনো দুর্বলের সর্বো’চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আসলে নারী-পুরুষ সবারই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। তখন কোনো ইজম আনতে হবে না। ওমেন চ্যাপ্টারের প্রদর্শিত কোনো ক্ষোভও আমাদের দেখতে হবে না, আবার তাদের প্রতিও কেউ ক্ষোভ দেখাবে না!
নারীকে আমিশ্রদ্ধা করি, আমার মা-ও একজন নারী বলে, নারীকে আমি ভালোওবাসি, আমার স্ত্রী একজন নারী বলে। একই যুক্তি পুরুষের বেলায়ও সত্যি। একজন পুরুষও তো কারও না কারও পিতা, সন্তান, ভাই, অর্ধাঙ্গ। নারীবাদকে টিটকিরি মারার কিছু নেই। যেকোনো ‘বাদ‘-এর জন্যই সমস্ত মানুষ কোনো না কোনোভাবে দায়ী, আমরা দায়ী। কামনা করি, কোনো একদিন নারীবাদ শব্দটির আর প্রয়োজন না পড়ুক। শব্দটির অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলুপ্ত হোক। লেখক : কবি ও সাংবাদিক। সূত্র : ফেসবুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]