নারীবাদ সমতার দাবি, মানবতার ডাক

আমাদের নতুন সময় : 04/10/2018

জেসমিন চৌধুরী

নারীবাদ এবং নারীবাদী শব্দ দুটিতে যাদের প্রচ- আপত্তি তারা ভাবেন নারীবাদী মানেই একজন উগ্র নারী যার মধ্যে কোনো মমতা নেই, যে গড়তে নয় শুধু ভাঙ্গতে জানে, যে স্বার্থপর এবং অন্যের মতামত বা অনুভূতির প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন।
শোনেন, কেউ নিজেকে নারীবাদী দাবী করলেই সে নারীবাদী হয়ে যায় না। নারীবাদ হ‘েছ সমতার দাবী, মানবতার ডাক। আমি একজন কট্টর নারীবাদী, নিজের অধিকারের প্রতি সদা সচেতন অথচ নিজের চারপাশের মানুষের প্রতি, তাদের প্রয়োজন এবং অনুভূতির প্রতি অত্যন্ত যতœশীল।
আমি অনেক নারীকে চোখের সামনেই দেখছি যারা নারীবাদ বিষয়টা বোঝেন না, নারীবাদীদের অমানুষ ভাবেন অথচ নারীবাদীদের কাজের সুবিধা তারাই ভোগ করেন সবচেয়ে বেশি। সমস্তদিন ভিডিও কল এবং টিভি সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, সারাদিন পরিশ্রমের পর ঘরে ফেরা স্বামীর কাছ থেকে সেবা গ্রহণ করেন, স্বামীর টাকায় মনের সুখে শপিং করেন। এদের মধ্যে যারা নিজে রোজগার করেন তারাও নিজের আয়ের টাকা সংসারে ব্যয় না করে মেকআপের পেছনে ব্যয় করেন।
আমরা প্রকৃত নারীবাদীরা কারো উপর একচেটিয়া নির্ভর করি না কিন্তু নিজের রোজগারের প্রতিটি টাকা সংসারে ব্যয় করি, সব কাজে সঙ্গীর পাশে দাঁড়াই, সবার ভালো মন্দের দিকে খেয়াল রাখি, যে কোনো অন্যায় দেখলে সো’চার হই, সর্বোপরি আপনাদের গালিগালাজ সহ্য করি।
আমার সঙ্গীটি আমার থেকে লম্বা সময় বাইরে কাজ করেন বলে বাসায় ফেরার পর আমি তাকে কোনো কাজই করতে দিই না। বাজার খরচ থেকে শুরু করে বাসার পরিষ্কার পরি‘ছন্নতা, রান্নাবাড়া, এমনকি বাগানের ঘাস কাটার কাজটাও নিজে করি। চোখের সামনে যখন অ-নারীবাদী কোনো নারীকে দেখি অফিস ফেরত স্বামীকে দিয়ে প্রানান্তকর পরিশ্রম করিয়ে নিতে তখন তার মাথায় একটা চাটি মারতে ইচ্ছা করে।
এইসব নারীরা যারা দুইহাত ভরে শুধু নেয়, বুক উজাড় করে দিতে জানে না তারা প্রাপ্তি অথবা দান কোনোটার আনন্দই কখনো জানবে না। এদেরকে দেখে নারীবাদ বিষয়টাকে ভুল বুঝবেন না। এরা নারীবাদী নয়, সুবিধাবাদী। সূত্র : ফেসবুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com