আজ প্রবারণা, কাল থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব

আমাদের নতুন সময় : 24/10/2018

 

পিপুন বড়ুয়া

আজ শুভপ্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উৎসব প্রালন করেন। সেই থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা বর্ষাবাস শেষে দিবসটি পালন করে আসছেন। পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এপ্রবারণা তিথি। বৌদ্ধধর্ম মতে প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধির ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান।
বিশ্বের অপরাপর থেরবাদী বৌদ্ধের মতো বাংলাদেশের সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী মহাসাড়ম্বরে মহামহিমান্বিত পূতপবিত্র এ আশ্বিনী পূর্ণিমা বা প্রবারণা পূর্ণিমাকে বুদ্ধের ধর্ম-দর্শনসম্মত নানাবিধ বহু বর্ণিল অনুষ্ঠান সাজিয়ে প্রতিটি বৌদ্ধমন্দির ও প্যাগোডায় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সকালে বৌদ্ধ নর-নারী শুচি শুভ্র হবে, পরিষ্কার পোশাকে বৌদ্ধ বিহার সমবেত হয়ে বুদ্ধকে পূজা, ভিক্ষুদের আহার্য দান, অষ্টশীল ও পঞ্চশীল গ্রহণ, দুপুরে বিহারে বিহারে ভাবনা অনুশীলন, বিকেলে ধর্ম সভার আয়োজন করা হয়েছে
দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ- সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো উৎসব আয়োজন হচ্ছে দেশের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধদের ঘরে ঘরে।
প্রবারণা পূর্ণিমার প্ররদিন ১৬ আক্টোবর, রবিবার থেকে দেশের প্রতিটি বিহারে মাসব্যাপী দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হবে।
প্রবারণার পালি শব্দ ‘পবারণা’। থেরবাদী বৌদ্ধ বিশ্বে আশ্বিনী পূর্ণিমাকে ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ বলা হয়। এ প্রবারণা পূর্ণিমা থেরবাদী বৌদ্ধদের কাছে একটি উল্লেখযোগ্য পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ইতিহাসে এ পূর্ণিমার তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম।
প্রবারণা শব্দের অর্থ হলো আত্মনিবেদন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ব্যাপী সময়ে বর্ষাব্রত প্রালন করেন। সে সময়ে তাদের মধ্যে ভুলভ্রান্তি হতে প্রারে। তাই বর্ষাব্রত প্রালন শেষে তারা আশ্বিনী পূর্ণিমায় প্রবারণা করে। সেদিনে তারা যদি গোচরে এবং অগোচরে কোন ভুল করে থাকেন তার জন্য জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে তা জানান এবং তা সংশোধনের আহ্বান জানান। তেমনিভাবে জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুরাও নবীনদের কাছে তাদের ভুলের কথা জানাবেন। এজন্য এটি হলো ভিক্ষুদের আত্মসমর্পন ও আত্মনিবেদনের অনুষ্ঠান
প্রবারণার পর মহাকারুণিক বুদ্ধের শিক্ষাকে মানব কল্যাণে প্রচারের জন্য ভিক্ষু সংঘ, বহুজনের হিতের ও মঙ্গলের জন্য দিকে দিকে ধর্মপ্রচারের বের হবেন।
শুভপ্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর বাড্ডা এবং বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির বৌদ্ধ মন্দির ও বিহারগুলোতে পূজা-পার্বণ, প্রদীপপ্রজ্বলন, ফানুস উড়ানোসহ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক নানান কর্মসূচি পালিত হবে। এই তিথিতে বিহার গৃহশীর্ষে আকাশপ্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা পঞ্চশীল গ্রহণ করেন এবং বুদ্ধমূর্তির সামনে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন। এই দিনে নবীনেরা প্রবীণদের প্রনাম করে, প্রবীণেরাও নবীনদের আশীর্বাদ করেন।
এছাড়া প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে বড় ছাদাং নামেও পরিচিত। এর অর্থ বড় উপোস দিবস।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]