ঈশ্বর জননী মা মারিয়া সর্বদা আমাদের সহায় থাকেন

আমাদের নতুন সময় : 28/10/2018

এলড্রিক বিশ্বাস

 

ক্যাথলিক ম-লিতে মা মারীয়ার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি আমাদের মুক্তিদাতা প্রভু যীশু খ্রিস্টের মাতা। মা মারীয়া পবিত্র আত্মার প্রভাবে গর্ভস্থ হয়ে প্রভু যীশু খ্রিস্টেকে জন্ম দিলেন যা ছিল ঈশ্বরের মহাপরিকল্পনার অংশ। প্রভু যীশু খ্রিস্ট ক্রুশীয় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিজের মূল্যবান জীবনকে উৎসর্গ করে এ জগতের মানুষকে পাপমুক্ত করলেন।

অক্টোবর মাসকে জপমালা রাণীর মাস হিসেবে ক্যাথলিক ম-লিতে মালা প্রার্থনা করা হয়। এই মাসে গ্রটোতে, গির্জায়, প্রতিটি গৃহে মালা প্রার্থনা করা হয়। সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের প্রতি পিতা ঈশ্বরের কি পরিকল্পনা ছিল। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একজন মুক্তিদাতা পাঠাবেন, যেন মানুষ আদিপাপ থেকে মুক্তি পায়। আমাদের আদি পিতা মাতা আদম হবা এদেন উদ্যানে সদাশয় জ্ঞান দায়ক ফল খেয়ে যে পাপ করেছিলেন, ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিলেন তা থেকে মুক্তি দিতে ঈশ্বর প্রতিশ্রুতি করেছিলেন মুক্তিদাতাকে পাঠাবেন বলে। সেই মুক্তিদাতাকে পিতা ঈশ্বরের পরিকল্পনায় জন্ম দিলেন মা মারীয়া। যীশু খ্রিস্টকে বড় করলেন, যতœ নিলেন ও ঈশ্বরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করলেন। সেই মুক্তিদাতা মা মারীয়া আমাদের সবার মা। তিনি আমাদের সবার প্রিয়জন ও তাঁর কাছে প্রার্থনা করলে আমরা ফল পাই। তিনি আমাদের প্রার্থনা শুনেন ও গ্রাহ্য করেন। তিনি আমাদের একজন সহায়ক। তাঁর কাছে প্রার্থনা ফলবন্ত হয়।

মা মারীয়া যুগে যুগে এ পৃথিবীতে অনেকবার দেখা দিয়েছেন, যেন মানুষ প্রার্থনাশীল হয়। মানুষ ধর্মের প্রতি অনুরাগী হয় এবং সৃষ্টিকর্তা পিতা ঈশ্বরকে ভুলে না যায়। তাঁর গৌরব ও প্রশংসা করে। পিতা ঈশ্বরকে ভক্তি শ্রদ্ধায় সবসময় স্মরণ করে। মা মারীয়া মানুষের মন পরিবর্তনের জন্য, প্রার্থনাশীল হওয়ার জন্য দেখা দেন ও বাণী দেন। তিনি বহুবার দেখা দিয়েছেন।

১. মেক্সিকো গোয়াডালুপের রাণী ডিসেম্বর ৯, ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দ

২. ভারত, কোলকাতা ব্যান্ডেল, পশ্চিমবঙ্গ ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ

৩. প্যারিস, ফ্রান্স আশ্চর্য মেডেলের রাণী ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দ

৪. ল্যা স্যালেট, ফ্রান্স অশ্রুময়ী রাণী ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দ

৫. লুর্ড, ফ্রান্স লুর্দের রাণী ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ

৬. ফ্রান্স, পোন্ট মেইন উদ্ধারকারিণী রাণী ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দ

৭. আয়ারল্যান্ড নকের রাণী ২১ আগস্ট, ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দ

৮. ফাতেমা, পর্তুগাল বিজয়িনী মা জপমালার রাণী ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ

৯. বেলজিয়াম, স্বর্ণ হৃদয়ের রাণী ২৯/১১/১৯৩২ ও ০৩/০১/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ

১০. বেলজিয়াম, দরিদ্রদের রাণী ১৫/০১/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ

১১. স্পেন, গ্যারাব্যান্ডেল কার্মিলের রাণী ১৯৬১ ও ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ

১২. ইতালী সান ডামিয়ানো গোলাপের রাণী ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ

১৩. যুগোশ্লোভিয়া, মেডুপোরিজ শান্তির রাণী, প্রেরিতগণের রাণী ১৫/০৮/১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

১৪. ভারত, ভেলাঙ্কিনী (দক্ষিণ ভারত) স্বাস্থ্যের রাণী  ৮/০৯/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ মা মারীয়া বহুবার দেখা দিয়েছেন, তার মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা আমাদের নাড়া দেয়। তিনি ফ্রান্সের লুর্ডসে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ১৮ বার বার্ণাডেটকে দেখা দিয়েছেন। কেভ নদীর তীরে গুহায় মা মারীয়া বার্ণাডেটকে দেখা দিয়েছিলেন। বহু ভক্ত যাঁরা মা মারীয়ার প্রতি বিশ্বাসে অটুট তারা তাদের বিশ্বাসের ফলে রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে। মা মারীয়া চিহ্ন স্বরূপ ঝর্ণার জল ও ঘাসপাতা ভক্তদের জন্য দিয়েছিলেন, দীর্ঘ ১৬০ বছর যাবৎ সেই ঝর্ণার জল পান করে, সেই পানি দিয়ে স্নান করে লক্ষ লক্ষ ভক্ত নিরাময় লাভ করেছে। ম-লির আশ্চর্য ঘটনা এবং ক্যাথলিক শব্দটি নিওন প্রদীপের ন্যায় লুর্ডে অবস্থিত। সেখানে বাণী ছিল পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত কর। পাপীদের জন্য প্রার্থনা কর।

এছাড়া পর্তুগালের ফাতিমায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে মা মারীয়া লুসিকে দর্শন দেন। পর্তুগালে মা মারীয়ার অনেকগুলো বাণীর মধ্যে একটি বাণী ছিল রাশিয়ায় ধর্ম বিশ্বাস যেন জাগ্রত হয়। বিশেষভাবে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে নাস্তিকতার বদলে ধর্ম বিশ্বাস দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি সংবাদ এসেছে পোপ ফ্রান্সিস আগামী বছর উত্তর কোরিয়ায় পালকীয় সফর করতে পারেন। ফাতিমায় বাণী ছিল প্রতিদিন জপমালা প্রার্থনা কর, পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত কর। উপরোক্ত দুটি ঘটনাই মা মারীয়ার দর্শন বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অন্যান্য দর্শনের বিষয়ে পরবর্তীতে আলোকপাত করা হবে।

আমাদের বাংলাদেশে উপরোক্ত দর্শনের আলোকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আর্চডায়োসিসের অধীন দিয়াং ধর্মপল্লীতে প্রতি বছর মা মারীয়ার তীর্থ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের চতুর্থ সপ্তাহে ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বারোমারী ধর্মপল্লীতে মা মারীয়ার তীর্থ হয়। ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের মঠবাড়ী ধর্মপল্লীর অধীন ভাসানিয়া উপ ধর্মল্লীতে ভেলেঙ্কিনী মা মারীয়ার পর্ব পালিত হয়। মা মারীয়ার তীর্থে বা পর্বে হাজার হাজার ভক্ত অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রার্থনা করে, মানত করে, প্রায়শ্চিত্ত করে, মা মারীয়ার নিকট আকুতি জানায়, মনের কথা জানায়। প্রার্থনায় ফলবন্ত হয়। মা মারীয়া আমাদের সহায়, তিনি আমাদের রক্ষাকর্তা। জগৎ ত্রাতার মাতা তুমি মা মারীয়া, ভক্তজনে ডাকে তোমায় হৃদয় ভরিয়া।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: মা মারীয়ার দর্শন, (অনুবাদ) চিত্তরঞ্জন হাওলাদার ।

 

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]