সময়ের বিকল্প ভাবনা

আমাদের নতুন সময় : 28/10/2018

ফাদার সুনীল রোজারিও

 

খ্রিস্টান সমাজে এবং ধর্মপল্লীতে খ্রিস্টীয় নেতৃত্ব সেকালে ছিলো একালেও আছে। সে সময় নেতৃত্বের জায়গা সীমিত ছিলো। লোকসংখ্যা ছিলো কম- আজকের মতো চার্চে এতো প্রতিষ্ঠান ছিলো না। এখন চার্চের পরিসর ও পরিম-ল বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রও বেড়েছে। এছাড়া খ্রিস্টভক্তদের দ্বারা পরিচালিত কিছু স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। চার্চ, কর্মক্ষেত্র বা প্রতিষ্ঠান যেখানে যেটা যেভাবেই থাকুক না কেন- সবখানেই নেতৃত্বে প্রয়োজন রয়েছে।

খ্রিস্টান সমাজে নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে আজকাল অনেকেই কথা বলে থাকেন ভালো-মন্দ মিলিয়ে। এখনকার নেতৃত্বেও ভালো আছে তবে খ্রিস্টীয় শিক্ষার আলোকে যে নেতৃত্বের অভাব রয়েছে- এটা অনেকে বলতে ভুলেন না। অনেকে আবার তুলনা করেন সেকালের নেতৃত্ব একালের সঙ্গে। বলেন- আগেই ভালো ছিলো। এই যে আগে ভালো ছিলো এই নিয়ে যুক্তিতর্ক করা যেতে পারে। তবে তখনকার সময় আর আজকের মধ্যে যে অনেক তফাৎ রয়েছে সেটাকে মাথায় রেখে যুক্তিতর্কে নামতে হবে। তবে একটা বিষয় সত্য যে, যুগ ও কালের পরিবর্তন এলেও খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ ঠিক রেখে আজকের যুগ লক্ষণকে আমলে নিয়েই প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব দিবে।

খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ ধারন করে যে নেতৃত্বদান, আমরা সেটাকেই সংক্ষিপ্ত ভাষায় খ্রিস্টীয় নেতৃত্ব বলতে পারি। বাইবেলের ভাষায় খ্রিস্টীয় নেতৃত্ব হলো ডিভাইন ইলেকশন- বা ঈশ্বর কর্তৃক নির্বাচিত। সিলেকশন বা মনোনীত নয়। ইলেক্টেড বা নির্বাচিত। ঈশ্বর নির্বাচিত করে মনোনয়ন দেন। এখানে ইলেক্ট বা নির্বাচিত হওয়ার যে গুণাবলী তা হলো; প্রার্থনার জীবন, নিষ্ঠার জীবন, যাদের অন্তরে সম্ভম বিরাজ করে, যাদের সুনাম আছে, যাদের সুখ্যাতি আছে, যারা ঐশআত্মা ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ, যারা অনিন্দনীয়, যাদের উপর জনগণের আস্থা আছে, যাদের উদ্দীপ্ত অন্তর আছে, যাদের মধ্যদিয়ে ভালো কর্ম ঘটে। ঈশ্বর তার ভোটের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে মনোনয়ন দান করেন। এগুলো মেনে নিয়ে নেতৃত্ব আসলেই কঠিন তবে মানুষের পক্ষে সম্ভব।

প্রত্যেকের জন্যই দিনের আলো সমান। কোনোভাবেই কারো পক্ষে দিনের সময় বাড়ানো বা কমাতে সম্ভব নয়। দিন সবার জন্য সমান হলেও কর্মক্ষেত্রে সবাই দিনের সময়টাকে সমানভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এটা নির্ভর করে তার দক্ষতা, ইচ্ছা, মানুষের প্রতিকার করণীয় এবং কাজের প্রতি ভালোবাসা উপর। এমন নেতা আছেন যারা অনেক কাজ করতে পারেন এবং অন্যকে দিয়ে করাতে পারেন। আরেকজন অনেক কাজ করতে পারে না এবং অন্যকে দিয়েও কাজ করাতেও পারে না। তাহলে এখানে নেতা কে? একজন প্রকৃত নেতাকে যে কাজ করতে হবে তাও কিন্তু নয়। নেতার গুণ হলো অন্যকে দিয়ে কাজ করে নেওয়ার টেকনিক জানা। বা নেতা হলো সেইজন যে কাজ করতে জানে না কিন্তু অন্যকে দিয়ে কাজ করাতে পারে। আর একজন কর্মী হলো- যে নিজে কাজ করতে পারে কিন্তু অন্যকে দিয়ে করাতে পারে না।

আজকের দিনে চার্চ এবং চার্চ পরিম-লে সুষ্ঠ নেতৃত্বের বিষয় আলোচনা করতে গেলে বিস্তর সময়ের প্রয়োজন পড়বে। তবে সংক্ষেপে এটুকু বলতে হয় যে, আজকের নেতৃত্ব ব্যক্তি স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতার দন্ড তো আছেই এবং এই ক্ষমতার দন্ডের কারণে অনেকে হিংসাক্তক হয়ে উঠে। নেতৃত্বে ঢুকে গেছে রাজনৈতিক চরিত্র। ফলে বিভক্ত হয় সমাজ বাড়ে কোন্দল। অনেক সময় দেখা যায় নেতৃত্ব নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে বাইরের শক্তির আশ্রয় নিতে। খ্রিস্টীয় নেতৃত্বে অনেকে বিবেকের তাড়নাই বড় কিছু গড়ে। এখানে নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বিবেকের পরিচালনায়- অন্যের প্রতি ভালো করার দায় মাথায় নিয়ে এগিয়ে গেলে তার রায় দিবে জনগণ- আদালতের সিদ্ধান্তে নয়। সাধারণ খ্রিস্টভক্ত এগুলো বুুঝেন, শুধু বুঝেন না জ্ঞানীরা। পবিত্র বাইবেলে লেখা আছে, ‘এই সমস্ত কথা তুমি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান লোকদের কাছে গোপন রেখেছো, আর প্রকাশ করেছো নিতান্ত শিশুদেরই কাছে।’ পাঠকদের প্রতি রইলো প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

লেখক: পরিচালক, রেডিও জ্যোতি

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]