এবার কেবল আসতে দাও, ২০২১এর পরে রিজাইন করে নতুন জেনুইন ইলেকশান দেব

আমাদের নতুন সময় : 01/11/2018

যায়নুদ্দিন সানী
সো, সংলাপ হচ্ছে। ভেনু গণভবন। অনেকেই দেখলাম বেশ টেনসড। যাকে বলে, ফিঙ্গারস ক্রসড। কেবল আমার কেন যেন ২০০৬ মনে পড়ে যাচ্ছে, সেই মান্নান সাহেব আর জলিল সাহেবের কথা চালাচালি। সেবার আওয়ামীদের প্রায় প্যাঁচে ফেলেই দিয়েছিল বিএনপি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। হোয়াট অ্যাবাউট দিস টাইম। ২০১৩তেও একবার নৈশভোজ হতে হতে হয়নি। সেই ফাঁস হওয়া ফোনালাপ অ্যান্ড অল দ্যাট। সেবার খালেদা জিয়া যে মেজাজে ছিলেন, এবার সম্ভবত সেই মেজাজে নেই। উনার অধীনস্তদের জন্য কি নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটা খুব ভাল জানা না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে, সেই অ্যাগ্রেসিভ ভাব নেই। আলাপটা কোমল স্বরেই হবে। অবশ্য আলোচনায় বিএনপি লিড করবে বলে মনে হয় না। ডা. কামাল হোসেনই ডিল করবেন।
আওয়ামী এবং বিএনপি উভয় দলেরই ফেসবুকার গ্রুপ ব্যাপারটাকে খুব ভালভাবে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। বিএনপি গ্রুপ এটাকে ট্র্যাপ বলছে আর আওয়ামীরা বোঝাতে চাইছে, ‘শুধু শুধু সময় নষ্ট’। ইভেন দেন, আওয়ামীদের নেত্রী যেহেতু এই সংলাপে সম্মতি দিয়েছেন, আওয়ামী ফেসবুকাররা চাইলেও খুব বেশি বকতে পারছে না। তবে বিএনপি ক্যাম্পে সে সমস্যা নেই। উনাদের নেত্রী কি চান, সেটা সম্পর্কে ওপেন কোন স্টেটমেন্ট আসেনি। তাই, বেশ কিছু নিউজ পোর্টাল দেখলাম, ‘বিএনপি নেত্রী নাখোশ’ এমন হেডলাইন করেছে। কেউ কেউ আবার ‘ফখরুল সাহেব বরখাস্ত’ এমন রিপোর্টও করে ফেলেছে।
যাই হোক, পাবলিক এসব নিয়ে এখন মাথা ঘামাচ্ছে না। সংলাপের পুরনো ইতিহাস যা-ই থাকুক, কমবেশি সবাই চাইছে, সংলাপটা হোক। আশাবাদী হয়ে এমনটা বলছে, তা বোধহয় না। কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলছে। ক্লিফ হ্যাঙ্গার সিচুয়েশানটা কারোরই খুব বেশি ভাল লাগছে না। ‘একটা কিছু সমাধা হোক’ টাইপ অ্যাটিচুড সবারই।
এনিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও আছে। কেউ বলতে চাইছেন, বিএনপিতে মাইনাস টু হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন দাবী মানলেও নেত্রীর মুক্তির দাবী মানা হবে না। সো ইন ডিসগাইজ, কামাল হোসেন সাহেবই বিএনপি হেড করবেন। উনাদের হাইপোথিসিস হচ্ছে, কিছু কিছু দাবী মানার পরে যে ইলেকশান হবে, সেটায় কারচুপি হবেই। আর সেখানে বিএনপি বৃহৎ বিরোধী দল হবে। সেই পরিস্থিতিতে বিএনপি নেত্রী বাইরে বেরোতে পারছেন না। সো, মাইনাস ওয়ান কমপ্লিট।
এদিকে ফেসবুক এখন ভাসছে, ‘চাচাকে জিজ্ঞেস করো, উনি কি খাবেন’ বা ‘বিকল্পধারার সাথে ২রা নভেম্বর সংলাপ’ এসবে। কেমন একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। কেউ কেউ যেমন এই সংলাপে বসাকে আওয়ামী নেত্রীর বুদ্ধিমত্তা বলতে চাইছেন, কেউ কেউ আবার এটাকে আন্তর্জাতিক চাপ বলতে চাইছেন। কেউ বলছেন, মান্নান এবং জলিল গল্পের রিপিটেশান হবে, কেউ বলছেন অসম্ভব।
কেউ দেখলাম খাবারের মেনু নিয়ে টিপ্পনী কাটছেন। কেউ আবার আক্ষেপ করছেন, ‘ইস, আমার যদি একটা রাজনৈতিক দল থাকতো! আমিও একটা দাওয়াত পাইতাম।’ সুযোগটা দেখলাম এরশাদ সাহেবও নিতে যাচ্ছেন। দেখা যাক, লিস্ট কত লম্বা আর আনন্দদায়ক হয়।
ইন অ্যা নাট শেল, সংলাপ এই মুহূর্তের টক অফ দ্যা টাউন। শুধু তা ই না, এনিয়ে সবাই কমবেশি একটা তত্ত্ব আছে। তার চেয়েও বড় কথা, নিজের তত্ত্বে এখন পর্যন্ত সবাই অনড়।
কাহিনী কি হবে, সেটা নিয়ে আমি তেমন কোন স্পেকুলেশান করতে সাহস পাচ্ছি না। কাহিনী যেকোনো পথে হাঁটতে পারে। আওয়ামী লীগ শেষ কদিনে কয়েকটা কাজ করেছে। তার একটা হচ্ছে ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশবর্ষ পূর্তি নিজে ক্ষমতায় থেকে করতে চায়, এই ইচ্ছেটা জানিয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক, নাঈমুল ইসলাম খান এমনই একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ইচ্ছেটা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেটা করার জন্য আওয়ামীরা কতোটা ছাড় দেবে।
জেনুইন ইলেকশানে আওয়ামীরা ফেরত আসতে পারবে কি না, সেটা ডাউটফুল। সে রিস্ক আওয়ামীরা নেবে কি-না। আবার অ্যানাদার ৫ই জানুয়ারী করার ঝুঁকি তারা নেবে কি না, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। মুখে কঠোর কথা বললেও গত কদিনে কিছু নমনীয়তা আওয়ামীরা দেখিয়েছে।
সো, দ্যা বটমলাইন ইজ, নিজেরা ক্ষমতায় থেকে দেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান করাটা তাদের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু। স্পেশালি আওয়ামী নেতৃত্বে যেহেতু স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল। এরপরে তাদের ক্ষমতায় থাকা কিংবা না থাকা ততোটা প্রেস্টিজ ইস্যু না। এমন একটা হিন্ট নাঈমুল ইসলাম খানের সেই স্ট্যাটাসেও ছিল। আর ব্যাপারটা একজিকিউট করতে চাইলে, বিএনপি বা ঐক্যকে রাজী করাতে হবে আরেকটি কারচুপি টাইপ ইলেকশানে আসতে। ‘এবার কেবল আসতে দাও, ২০২১এর পরে রিজাইন করে নতুন জেনুইন ইলেকশান দেব।’ এমন কোন প্রস্তাব আওয়ামীরা করবে কি না কিংবা তেমন কোন প্রস্তাবে ঐক্য সাড়া দেবে কি না। সেটাই দেখার বিষয়। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com