আকাশগঙ্গার মধ্যভাগে দানবীয় কৃষ্ণগহ্বর প্রত্যক্ষ করলেন বিজ্ঞানীরা

আমাদের নতুন সময় : 02/11/2018

নূর মাজিদ : মহাকাশ একটি অপার রহস্যের বিপুল প্রসারিত স্থান, যেখানে মানবিয় সাধ্যের বাইরেই অবস্থান করে এমনসব বিস্ময়কর বস্তুর অবস্থান-যাদের কাছে প্রচলিত প্রযুক্তির বিকাশ অব্যাহত থাকলেও সেখানে পৌঁছতে মানুষের হাজার বা লাখ লাখ বছর সময়ের প্রয়োজন হবে। তবে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এসব অসাধ্য বস্তুর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে ব্যবহার করেন ¯েপস টেলিস্কোপ। বিশ্বজুড়ে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এমন কিছু মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে কাজ করেন, যার সঙ্গে রেডিও-ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ সংযুক্ত থাকে। এরকম একটি মহাকাশ গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হলো চিলিতে স্থাপিত ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির চারটি সুবৃহৎ টেলিস্কোপ। এই চারটি টেলিস্কোপের রেডিও ইনফ্রারেড সিগন্যালের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যকে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে আমাদের ছায়াপথের মধ্যভাগে অবস্থিত স্যাগিটিয়ারাস-এ নামের সর্ববৃহৎ কৃষ্ণগহ্বরের পরিষ্কার চিত্র দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।  মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা নামে পরিচিত আমাদের ছায়াপথের সর্ববৃহৎ কৃষ্ণগহ্বর এটি। এর আকার এতটাই বিশাল যে বিজ্ঞানীদের ধারণা আমাদের সূর্যের মতো কয়েক কোটি নক্ষত্র এবং তাদের সৌরমন্ডলকে গ্রাস করেছে স্যাগিটিয়ারাস-এ।

তবে একটি ব্লাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরকে কখনোই সরাসরি প্রত্যক্ষ করা সম্ভব নয়। তবে বিজ্ঞানীরা স্যাগিটিয়ারাস-এ এর আকর্ষণে কেন্দ্রীভূত হওয়া গ্যাসপুঞ্জকে প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত এর সবচাইতে পরিষ্কার চিত্র প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষ্ণগহ্বরের তুলনামূলক নিকটে অবস্থিত এসকল গ্যাসীয় মেঘমালা তীব্র মধ্যাকর্ষণের চাপে প্রচন্ড উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। এই গ্যাসপুঞ্জের তাপমাত্রা কয়েক বিলিয়ন ডিগ্রী, যার উজ্জলতা অনেক বৃহৎ নক্ষত্রের চাইতেও অনেকগুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা এই গ্যাসীয় মেঘমালার এমন পরিষ্কার চিত্র এবার পেয়েছেন যার মাধ্যমে তারা কৃষ্ণগহ্বরটির বলয়ের পরিধিও অনুমান করতে পারবেন।

মহাশূণ্যের সবচাইতে রহস্যজনক মহাজাগতিক বস্তুর মাঝে একটি হলো কৃষ্ণগহ্বর। এমনকি বিজ্ঞানী আইনস্টাইনও এর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও তার আপেক্ষিকতার তত্ত্বে কৃষ্ণগহ্বরের থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। কৃষ্ণগহ্বর হলো এমন একটি মহাজাগতিক শক্তি যার কেন্দ্রে সময় এবং বস্তু তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব হারিয়ে লীন হয়ে যায়।  সায়েন্টিফিক আমেরিকান, সম্পাদনা : শরিফ উদ্দিন আহমেদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com