কী ভীষণ বিভীষণ, অচিরেই টের পাবে জনগণ!

আমাদের নতুন সময় : 08/11/2018

অসীম সাহা : আসম আবদুর রব আর সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। কী ভীষণ বিভীষণ! যাদের একজনকে বঙ্গবন্ধু পেলেপুষে ইতিহাসের একনায়কে পরিণত করেছিলেন, তিনি এখন জগাখিচুড়ি জোটের ‘জগা হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হুমকি দিচ্ছেন। আর একজন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। যাকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনে বঙ্গবন্ধুকন্যা ডাকসু নির্বাচনে ভিপি-পদে দাঁড় করিয়ে জিতিয়ে এনেছিলেন, ‘মিলে সুবিধে হয়নি বলেই অমিলের আশ্রয়’ নিয়ে তিনি এখন তার সেই মূল নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর জন্য খালেদা জিয়াকে ‘আম্মাজান’ ডাকতে শুরু করেছেন। এর নামই বোধহয় বেঈমানি। রাজনীতিতে সব সময় যে একই দলের সারথি হয়ে পথ চলতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আর মতের ভিন্নতায় দলবদলের ইতিহাসও নতুন নয়! কিন্তু রাজীতিতে যে ন্যূনতম নৈতিকতা ও সভ্যতা-ভব্যতা থাকতে হয়, তার অভাব যদি কোনো রাজনৈতিক নেতার মধ্যে দেখা যায়, তা হলে তাকে করুণা করা ছাড়া আর কী-ই বা করা যেতে পারে? কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনুসর বোধহয় করুণা পাওয়ারও অযোগ্য। ঐক্যফ্রণ্টে যোগ দিয়েই তিনি আগ্বাড়িয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার নামে এমন সব ভাষা প্রয়োগ করছেন, যাতে বিএনপির প্রেতাত্মার কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে!

আর আসম রবের বিশ্বাসঘাতকতা তো শুরু হয়েছিলো একাত্তরে কলকাতায়। হঠাৎ বামপন্থি বনে যাওয়া ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পথ প্রশস্ত করার মধ্য তিনি যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন, এখনো সে ষড়যন্ত্রের শেষ হয়নি। তার ফনায় আগের মতো বিষ না থাকলেও ছোবল দেবার ইচ্ছেটা তীব্রই আছে। আমার ভাবতে লজ্জা লাগে, তিনি ’৭১ সালে কিছুদিন বাংলা বিভাগে আমার সহপাঠী ছিলেন! তিনি তো আরো ১০ কাঠি সরেস। তিনি বলেছেন ‘৭ দফা না মানলে খবর আছে’! কী খবর আছে, তা তিনি স্পষ্ট না করে বললেও সে পথ যে সহজ নয়, পঙ্কিল; তা বুঝতে সামান্য মগজেরও দরকার হয় না! গর্ত থেকে হুট করে বেরিয়ে আসা এই কূম-ুক নিরবে-নিভৃতে বেশ আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করছিলেন। যেই দেখলেন নিজের মুরোদে কুলোবে না, অমনি ড. কামালের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভূত হয়ে চেপে বসলেন। লোভ যখন আকাশচুম্বী হয়, তখন সে উন্মাদ হয়ে ওঠে, কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তখন কৃষকের গরু হারিয়ে গেলে বৌকে ‘মা’ ডাকার মতো পাগলামির প্রবণতা তীব্র হতে থাকে। অর্থাৎ মগজ তখন আর ঠিকমতো কাজ করে না। আসম রবের মাথাও এখন ঠিকমতো কাজ করছে না। তা না হলে রব এতো লম্ফঝম্ফ করছেন কিসের জোরে? কথায় বলে, ‘ম্যারা কাঁদে খুঁটির জোরে’। আসম আবদুর রব এখন বিএনপির খুঁটি পেয়ে লাফাচ্ছেন। লাফিয়ে তিনি  শেখ হাসিনা সরকারের খবর করে দেবেন; আর শেখ হাসিনা এবং বাংলার তৃণমূল-মৃত্তিকায় যে দলের শেকড় প্রোথিত, তারা সকলে বসে বসে বুড়ো আঙুল চুষবেন? বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতে একবার তার নেতৃত্বে জাসদবাহিনী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের গুলি খেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছিলেন, সেই ইতিহাস কি তিনি এতো দ্রুতই বিস্মৃত হয়ে গেছেন?

জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের মধ্যে এখন পর্যন্ত আমি কথাবার্তায় শুধু দুজন ভদ্রলোককে দেখতে পাচ্ছি। একজন ড. কামাল আর একজন মাহমুদুর রহমান মান্না। তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা সত্ত্বেও অন্তত কথাবার্তায় তাদের রাজনীতিকসুলভ আচরণ লক্ষ করছি। বাকি সবগুলো শুধু অসভ্য নয়, অশ্লীল। আর বিএনপির লোকজনদের কথাবার্তা যে ইতরশ্রেণির হবে, সেটা ধরে নিয়েই তাদের সম্পর্কে কথা বলা দরকার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে যাবার আগে চামচিকে নেতা মির্জা আব্বাস বলেছেন, “সরকারকে জায়গামতো পাঠিয়ে দেবো।” ‘জায়গামতো’ মানে কী? মির্জা আব্বাসদের জায়গা মানে তো বেহেশত বা দোজখ। এটা বলে তিনি কি ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করলেন? তা হলে সরকারের উচিত অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞেস করা, তিনি কোন্ ‘জায়গামতো’র কথা বলেছেন? সব কথাকে হেলাফেলা করে দেখার মতো মানসিকতা সরকারের জন্য শুভ নাও হতে পারে। এ-জাতীয় দুরভিসন্ধিমূলক কথাবার্তার শেকড় গোড়া থেকে উৎপাটন করে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।

আসলে আমাদের দেশের রাজনীতি এখন শুধু প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে। কে কাকে ল্যাং মেরে এগিয়ে যাবেন, প্রয়োজনে খুন করবেন, তারপর ক্ষমতা দখল করবেন, তারই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় জনগণ এখন নাস্তানাবুদ। যে খুনের রাজনীতি শুরু হয়েছিলো ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে মর্মান্তিক বর্বরতায় হত্যার মধ্য দিয়ে, তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি বহুবার মাননীয় দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলাসহ ১৯বার হত্যার চেষ্টা চালিয়ে এদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করার যে রেকর্ড তৈরি করেছে, তার তুলনা বিশ্বে বিরল। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তাদের সঙ্গে হাসিমুখে সংলাপে বসছেন, তা দেখে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাচ্ছি। কতোটা রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রজ্ঞা এব ঔদার্য থাকলে এটা করা সম্ভব, হুমকিদাতারা বোধহয় তা একবার ভেবে দেখবারও প্রয়োজনবোধ করেননি। আসলে বিশ্বাসঘাতক বিভীষণ আর খুনিদের সম্পর্ক তো পারস্পরিক। তার প্রধানতম উদাহরণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আর তার নব্যচামচা আসম আবদুর রব এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এরা যে কী ভীষণ বিভীষণ, অচিরেই টের পাবে জনগণ।

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com