নির্বাচন, না আন্দোলন?

আমাদের নতুন সময় : 08/11/2018

মহিউদ্দিন খান মোহন : শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল সরকার পক্ষের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ। গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন ১৪ দল এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু হওয়ার পর এর পরিণতি বা ফলাফলের জন্য উৎসুক ছিলেন সবাই। কেননা, এ সংলাপের সাফল্য-ব্যর্থতার ওপর আগামী দিনের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করছে। দেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, নাকি অরাজকতা আবারো ঘিরে ধরবে এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন সবাই। সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন তার বেইলী রোডের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা সংলাপের মাধ্যমে দাবি দাওয়া উত্থাপন করেছি। আমরা চেয়েছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায় করতে। এখন বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। এরপর যা ঘটবে তার দায় সরকারের।’ সংবাদমাধমের খবরে বলা হয়েছে, সংলাপে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেছিল ঐক্যফ্রন্ট। সেগুলি হলো, দশজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের জামিনে মুক্তি। সরকার পক্ষ এসব দাবির কোনোটিই মেনে নেয়ার কথা বলেনি। এ বিষয়ে সংলাপ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দশ উপদেষ্টার সমন্বয়ে সরকার গঠন সংবিধানবিরোধী তাই এ দাবি সরকার মেনে নিতে পারে না। তবে অন্যান্য দাবির অনেকটাই মেনে নিতে সম্মত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য কোনো দাবি কীভাবে মেনে নেয়া হবে তা পরিষ্কার করেননি ওবায়দুল কাদের। আজ প্রধানমন্ত্রী তার নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ কী বলবেন তা অনুমান করা না গেলেও এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ প্রক্রিয়া ভেঙে গেছে। ফ্রন্টের পক্ষ থেকে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, সরকার সেগুলোকে মেনে নেয়নি। সংলাপের পর ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যেও তা স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি। সরকার পক্ষ তাদের একগুয়েমী ত্যাগ করেনি।’ আলোচনা ও আন্দোলন একসঙ্গে চলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে, আন্দোলনকে তারা কোন পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তারা কি আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে পারবেন, নাকি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন যে, ড. কামাল হোসেন বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে বললেও তাদের কোর্টে যে বলটি আছে সেটি তারা কীভাবে খেলবেন তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আছেন অনেকেই। কারণ, আন্দোলন করে দাবি আদায়ের সুযোগ এখন কতটুকু আছে তা বিবেচনায় রাখতে হবে। তেমনি নির্বাচন প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা ঐক্যফ্রন্টের আছে, এটাও মনে হয় না। ফলে, যে কোনো অজুহাতে নির্বাচনে অংশ নেয়াই তাদের জন্য মঙ্গলজনক, এ কথাও বলছেন কেউ কেউ।

এদিকে আজ নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জাতির উদ্দেশে বেতার ও টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করবেন। এর মধ্যদিয়ে সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা না করার যে দাবি ঐক্যফ্রন্ট করেছিল, তাও নাকচ হয়ে গেল। আর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা পথও যে আর খোলা থাকে না তা বলাই বাহুল্য। কারণ, তফসিল ঘোষণার পর সরকার কার্যত নির্বাচনকালীন সরকারে পরিণত হবে, নির্বাচন বা অন্য কোনো নীতি নির্ধারণী বিষয়ে তাদের কিছুই করার থাকবে না।

তাহলে ঐক্যফ্রন্ট এখন কী করবে? ইতিপূর্বে তারা ঘোষণা করেছিল, সংলাপ ব্যর্থ হলে কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন। এমনকি, দ্বিতীয় দফা সংলাপ ব্যর্থ হলে পরদিনই তারা রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ করবেন এবং আগামীকাল সেখানে সমাবেশ করবেন। কিন্তু সে কর্মসূচি সম্পর্কেও কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। এ নিবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত ওই কর্মসূচির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে, খবরে জানা গেল, পরবর্তী করণীয় নিয়ে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বৈঠক করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

আমাদের দেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার বহু নজির আছে। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সেসব সংলাপের কোনোটিই সফলতার মুখ দেখতে পারেনি। অনেক আশা-প্রত্যাশার জন্ম দিয়ে শেষ পর্যন্ত তা বিফলে পর্যবসিত হয়েছে। আর তার ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয়েছে পরিস্থিতি। এবার অনেকেই আশা করেছিলেন যে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন। কিন্তু সব আশাকে হতাশার চোরাবালিতে দাবিয়ে দিয়ে তারা যে যার অবস্থানে অনড় রইলেন, আর দেশবাসীর সামনে ছড়িয়ে দিলেন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার কালো মেঘ। এ অনিশ্চিত অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।প্রধানমন্ত্রী আজ কী বলবেন তা অনুমান করা না গেলেও এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ প্রক্রিয়া ভেঙে গেছে। ফ্রন্টের পক্ষ থেকে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, সরকার সেগুলোকে মেনে নেয়নি। সংলাপের পর ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যেও তা স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি। সরকার পক্ষ তাদের একগুয়েমী ত্যাগ করেনি।’ আলোচনা ও আন্দোলন একসঙ্গে চলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে, আন্দোলনকে তারা কোন পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তারা কি আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে পারবেন, নাকি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন যে, ড. কামাল হোসেন বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে বললেও তাদের কোর্টে যে বলটি আছে সেটি তারা কীভাবে খেলবেন তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আছেন অনেকেই। কারণ, আন্দোলন করে দাবি আদায়ের সুযোগ এখন কতটুকু আছে তা বিবেচনায় রাখতে হবে। তেমনি নির্বাচন প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা ঐক্যফ্রন্টের আছে, এটাও মনে হয় না। ফলে, যে কোনো অজুহাতে নির্বাচনে অংশ নেয়াই তাদের জন্য মঙ্গলজনক, এ কথাও বলছেন কেউ কেউ।

এদিকে আজ নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা জাতির উদ্দেশে বেতার ও টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করবেন। এর মধ্যদিয়ে সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা না করার যে দাবি ঐক্যফ্রন্ট করেছিল, তাও নাকচ হয়ে গেল। আর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা পথও যে আর খোলা থাকে না তা বলাই বাহুল্য। কারণ, তফসিল ঘোষণার পর সরকার কার্যত নির্বাচনকালীন সরকারে পরিণত হবে, নির্বাচন বা অন্যকোনো নীতি নির্ধারণী বিষয়ে তাদের কিছুই করার থাকবে না।

তাহলে ঐক্যফ্রন্ট এখন কী করবে? ইতিপূর্বে তারা ঘোষণা করেছিল, সংলাপ ব্যর্থ হলে কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন। এমনকি, দ্বিতীয় দফা সংলাপ ব্যর্থ হলে পরদিনই তারা রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ করবেন এবং ৯ নভেম্বর শুক্রবার সেখানে সমাবেশ করবেন। কিন্তু সে কর্মসূচি সম্পর্কেও কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। এ নিবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত ওই কর্মসূচির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে, খবরে জানা গেল, পরবর্তী করণীয় নিয়ে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বৈঠক করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

আমাদের দেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার বহু নজির আছে। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সেসব সংলাপের কোনোটিই সফলতার মুখ দেখতে পারেনি। অনেক আশা-প্রত্যাশার জন্ম দিয়ে শেষ পর্যন্ত তা বিফলে পর্যবসিত হয়েছে। আর তার ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয়েছে পরিস্থিতি। এবার অনেকেই আশা করেছিলেন যে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন। কিন্তু সব আশাকে হতাশার চোরাবালিতে দাবিয়ে দিয়ে তারা যে যার অবস্থানে অনড় রইলেন, আর দেশবাসীর সামনে ছড়িয়ে দিলেন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার কালো মেঘ। এ অনিশ্চিত অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com