বায়ুম-লের রহস্য উদঘাটনে নাসার নতুন মিশন

আমাদের নতুন সময় : 08/11/2018

এ.আর.ফারুকী : পৃথিবীর সাথে মহাশূন্যের সংযোগস্থল আবিস্কারের জন্য নতুন মহাকাশ যান প্রেরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। গত বুধবার এই মহাকাশ যান প্রেরণ করা হয়। গতকাল প্রেরণ করলেও এটি প্রেরণ করার কথা ছিলো গত অক্টোবরে। তবে নাসা চেয়েছে রকেট উৎক্ষেপনের আগে পর্যাপ্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে।  আইকন বা আয়নোস্ফেরিক কানেকশন এক্সপ্লোরার মিশনের কাজ হলো মহাশূন্য থেকে ভূপৃষ্ঠের ৩৫০ মাইল   উপরে বায়ুমন্ডল কোন অংশে গিয়ে শেষ হয়েছে তা নির্ণয় করা। এছাড়া এক্সপ্লোরার সেই অঞ্চলে কি পরিমান মৌলিক কণিকা আছে এবং তাদের আচরণ কেমন তা জানার চেষ্টা চালাবে। এসময় আইকন এয়ারগ্লো নামক আলোক বর্ণালী পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করবে।

এয়ারগ্লো হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে আয়নোস্ফিয়ারে অবস্থিত অণু-পরমাণুসমূহ সূর্য থেকে আলো শোষণ করে বিপুল পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে। যার ফলে আয়নোস্ফিয়ারে লাল-সবুজ কিংবা রক্তিম-হলুদ আলোক  বর্ণালী তৈরী হয়। এয়ারগ্লো মেরুজ্যোতির মতো ক্ষণস্থায়ী নয় বরং সার্বক্ষণিক। কেননা আয়নোস্ফিয়ারের অণু-পরমাণুগুলো সর্বদা আলো শোষণ করে শক্তি বিকিরণ করতেই থাকে। যার ফলে সবসময় পৃথিবীর চারদিকে একটি উজ্জ্বল বলয় তৈরী হয়। এই বলয় সাদা চোখে দেখা যায় না। কেবল মহাশূন্যের আর্ন্তজাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে এবং পরিষ্কার রাতে আলোক সংবেদী ক্যামেরা ব্যবহার করলে এই বলয় দেখা যায়। আয়নোস্ফিয়ারে প্রত্যেক গ্যাসের জন্য আলাদা আলাদা বর্ণালী আছে। কেননা প্রত্যেক গ্যাসের অবস্থান এবং আয়নিকভাবে উত্তেজিত হওয়ার ধরন আলাদা। একারণে আমরা বায়ু মন্ডলের নানা স্তরের বিষয়াদি পরীক্ষার জন্য এয়ার গ্লো পদ্ধতি ব্যবহার করবো । বলছিলেন। রবার্ট গডার্ড স্পেস সেন্টারের জ্যোতির্পদার্থবিদ ডাগ রোল্যান্ড বলেন, আমরা এয়ার গ্লো নিয়ে কোন গবেষণা করছিনা বরং এয়ার গ্লো পদ্ধতিকে গবেষণার উপাদান হিসাবে ব্যবহার করছি। এই মিশনটি নাসার অন্য একটি মিশন, মিশন গ্লোবাল-স্কেল অবজারভেশন অব দ্য লিম্ব এন্ড ডিস্ক বা গোল্ডের সাথে একত্রে কাজ করবে। গোল্ড মিশনের কাজ হলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডল এবং মহাশূণ্যের মধ্যকার অংশের রহস্য উন্মোচন। এছাড়াও, গোল্ড মিশন উর্ধ্ব বায়ুমন্ডলের ম্যাগনেটোস্ফিয়ার, আয়োনেস্ফিয়ার এবং নি¤œ বায়ুমন্ডলে সূর্যের শক্তি সংক্রান্ত দিক নিয়ে কাজ করছে। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে সবসময়ই গ্যাসের পরমাণুগুলো শক্তি শোষণ করে ইলেকট্রন এবং আয়নে পরিণত হয়। এই আইকন মিশন আমাদের পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের আয়োনেস্ফিয়ারের ব্যাপারে বিশদ তথ্য জানতে সহায়তা করবে। সিএনএন

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com