ভারতের প্রকৌশলীদের দুর্দশা

আমাদের নতুন সময় : 08/11/2018

এম রোকনুজ্জামান : প্রতি বছর ভারতে ১৫ লাখ স্নাতক প্রকৌশলী তৈরি হয়।  দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদের আশি শতাংশই ভালো চাকরি পায় না। কিছু স্নাতকের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু আইআইটির (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি) স্নাতকদেরও একই দশা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে যেখানে আইআইটি স্নাতকদের জয়জয়কার, সেখানে ভারত কেন তার নিজের উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে তার প্রকৌশলীদের কাজে লাগাতে পারছে না? ব্যাপারটা ভালো করে বুঝতে হলে কয়েকটা বিষয়ের দিকে চোখ ফেরাতে হবে। ১. কোনো দেশ প্রকৌশলী তৈরি করে মূলতঃ তিনটি উদ্দেশ্যে। ক. বিভিন্ন কোম্পানি ও সংগঠনের প্রয়োজনে ;  খ. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনে এবং গ. বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠান বা ছোট পরিসরে শুরু হওয়া তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানে ভূমিকা রাখতে। কেবলমাত্র বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের ওপর গুরুত্ব দেয়া আইআইটি মূলতঃ প্রথম ক্যাটাগরি তথা, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করার যোগ্য কর্মী তৈরি করে থাকে। আইআইটির উদ্দেশ্য শুধু সেসব প্রযুক্তি শিক্ষা দেয়া, যা পৃথিবীর কোথাও না কোথাও আগেই পড়ানো হয়েছে।  বড়জোর প্রতিষ্ঠিত সেসব জ্ঞানের সামান্য প্রসার ঘটাতে অল্প কিছু গবেষণা হয় সেখানে। আর ভারতের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী খাতের সঙ্গে এসব পড়াশুনার সম্পর্ক খুবই সামান্য।

২. ভারত সরকার নতুন প্রযুক্তি তৈরিতে নেতৃত্ব না দিয়ে প্রযুক্তি আমদানীর নীতি অনুসরণ করে থাকে।

৩. ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরোত্তর উদ্ভাবনের দক্ষতায় অনেক পিছিয়ে। কারণ, তাদের ব্যবসা সফল হয় মূলতঃ  সরকারের দেশীয় শিল্প সুরক্ষা  নীতির কারণেই। কোন একটা পণ্য তৈরিতে সফল হলে তারা তার পুনরাবৃত্তি করে যেতে থাকেন। একারণেই ভারতীয় পণ্যগুলো বছরের পর বছর কার্যত একই রকম থেকে যায়।

৪. শুধু জার্নালে লেখা ছাপানো বা প্যাটেন্ট পাবার উদ্দেশ্যে গবেষণা চালানো হয় বলে গবেষণায় যে বিনিয়োগ করা হয়, তা থেকে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না। ভারতকে এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।  জোর দিতে হবে পণ্যের মান বাড়ানো আর খরচ কমানোর গবেষণায়।

৫. প্রতিযোগিদের পরাস্ত করতে অন্যায্যভাবে কম দাম নির্ধারণ, সরকারি প্রণোদনা এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষা নীতি, ভারতের  উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের পথে বড় বাধা। টেলিকম খাতে ভারতের অন্যতম শীর্ষ এক ধনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিদের ঘায়েল করতে অন্যায্যভাবে সেবার দাম কম রেখে  লক্ষ কোটি টাকা ভর্তূকি দিয়েছেন। উন্নত আর সস্তা টেলিকম সেবা নিশ্চিত করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে প্রযুক্তি গবেষণায় তিনি কত টাকা খরচ করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন করা যেতেই পারে।

৬. ঝুঁকিবিহীন মুনাফা তৈরির বাতিক ভারতের জন্য আরেকটি অভিশাপ। কারণ প্রযুক্তি গবেষণায় ব্যর্থতায় ঝুঁকি সবসময় বেশি থাকে।

৭. টাটা ন্যানোর মত অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের সস্তা প্রযুক্তি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

এক্ষেত্রে, জাপানের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে ভারতের। মেরামতি দক্ষতা আর অনুকরণে পারদর্শিতা কাজে লাগিয়ে, জাপান এখন শিল্পায়িত অর্থনীতির দেশ। তারপরও, পণ্যের ক্রমান্বয় উন্নতির জন্য ধারাবাহিক উদ্ভাবনী প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দেয়ায় জাপানী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্ববাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।  জাপানের সাফল্যের পেছনে আছে, জ্ঞান সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে তা পণ্য ও সেবার মান বাড়াতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।

ভারতের এখন উচিত জ্ঞান সৃষ্টি করে তা পণ্য ও সেবায় এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে আরো ভালো পণ্য বাজারে আনতে পারে। তাতে মুনাফা বাড়বে, মানুষ উপকৃত হবে এবং পরিবেশ দূষণও কমে আসবে। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com