হেফাজত তুমি কার?

আমাদের নতুন সময় : 08/11/2018

শেখ মিরাজুল ইসলাম : শীতের হাওয়া শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার আগেই নির্বাচনকালীন উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে। নবগঠিত ঐক্যফ্রন্ট-যুক্তফ্রন্ট কিংবা বাম মোর্চার সাথে সরকার দলীয় পক্ষের সংলাপের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায়, এটা ছিলো নিতান্ত আনুষ্ঠানিকতা। আগামী নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক বিজয়ী ও বিজিত উভয় পক্ষ নির্বাচন পূর্বকালীন সংলাপের এই অভিজ্ঞতা এবং একে ঘিরে প্রত্যাশা-অপূর্ণতাকেই যার যার পক্ষে রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগাবেন। বর্তমান মানসিকতার এই রাজনৈতিক ধারায় যে যার অবস্থানে এখনো। বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার ক্ষত রাতারাতি শুকিয়ে যাবে সেই আশায় গুড়েবালি। কিন্তু একই সাথে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি রাজনীতিতে এক ভিন্ন মিত্রতা।  ২০১৩ সালের পাঁচ ও ছয় মে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছিলো মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উগ্র ইসলামীকরণের স্বপ্ন নিয়ে পেশ করা তেরো দফায় ‘নাস্তিক হটাও’ দাবিতে হেফাজতে ইসলামীর তা-ব। ঠিক পাঁচ বছর পর নির্বাচনি বছরে সেই কওমি মাদ্রাসার একদা বিদ্রোহীদের সাথে মিত্রতা রাজনীতির আকাশে নতুন রং যোগ করছে। হেফাজতের সেই আন্দোলনকে নিজ উদ্দেশে বিএনপি ও তার মিত্ররা তখন কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেও হাসিনা সরকার তাদের সাথে আপাত সমঝোতা করে রাজনীতির পাশা খেলায় এগিয়ে গেলেন, নাকি প্রকারান্তে প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্র ভূমি পিছিয়ে দিলেন তা সময় বলে দেবে।

অনগ্রসর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা ও পরিবর্তিত আধুনিক কাঠামোর বিশ্বের সাথে তাদের খাপ খাওয়ানোর সুযোগ দিয়ে সরকার অবশ্যই ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু একে উপজীব্য করে মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনীতির খোলা মাঠে স্বাগত জানানো যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। যেহেতু তাদের গোপন রাজনৈতিক এজে-া গুলো আর গোপন নেই। অন্তর্জালে সবকিছুই সংরক্ষিত আছে। হেফাজতের ২০১৩ সালের ঘটনাটি উইকিপিডিয়াতে আজও উল্লেখিত আছে ‘মতিঝিল ম্যাসাকার’, ‘অপারেশন শাপলা’ বিবিধ নামে। তৎকালীন র‌্যাব ও বিজিবির সশস্ত্র প্রতিরোধে পঞ্চাশ থেকে ষাট জন ব্যক্তির মৃতের সংখ্যা উল্লেখ করা আছে। যদিও গত চার নভেম্বর তারিখে সরকার প্রধানের প্রতি শোকরানা মাহফিলে হেফাজতের নেতারা সেই দিনের স্মৃতি ইচ্ছে করে এড়িয়ে গিয়েছেন। এটি যদি আক্ষরিক অর্থে সংঘাত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আন্তরিকতার চিহ্ন হয় তবে সাধুবাদ। কিন্তু পাশাপাশি এটাও দেখেছি, হেফাজতের একাংশের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ২০১৩ সালে দীর্ঘ দিন রিমান্ডে থাকা মওলানা বাবুনাগরী এই সন্ধিমিলন মেনে নেননি। প্রাক ইসলামী যুগের ইতিহাসের আলোকে বিষয়টি ঘেঁটে দেখলে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন মনে জাগে, নির্বাচনি অংকে শেষ মুহূর্তে হেফাজতের সমর্থন আসলে কে পাবে? নির্বাচন পূর্বকালীন ভিন্ন বাস্তবতায় হেফাজতের একদা নির্যাতিত বাকি আলেমরা কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে সরকারের গুণগান গাইলেন, কিংবা কোন বৃহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তাদের এই রাজনৈতিক অভিসন্ধি, তা নিশ্চয় রাষ্ট্রযন্ত্র যথার্থ বোঝেন। সমস্যা হলো, আমরা আমজনতারাই কেবল কিছু বুঝি না।

লেখক : চিকিৎসক ও লেখক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com