অনৈতিকতা প্রতিরোধে ইসলামের বিধান

আমাদের নতুন সময় : 09/11/2018

আহমদ আবদুল্লাহ

 

ইসলাম মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ হতে একমাত্র মনোনীত ধর্ম। মানব জীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, জাগতিক, আধ্যাত্মিক, ইহলৌকিক সব সমস্যার সমাধান রয়েছে ইসলামে। ইসলামি আদর্শ ও জীবন বিধান যথার্থ অনুসরণের মাঝেই ইহকালীন ইস্তিঞ্জার ও পরকালীন মুক্তি নিহিত। পক্ষান্তরে ইসলামি বিধানের প্রতি অবজ্ঞা- অবহেলা ও বিরুদ্ধাচারণ সকল প্রকার দুঃখ-দুর্দশা, লাঞ্ছনা ও অশান্তির মূল কারণ।

বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন দু’প্রকার বিধান নির্দেশ দিয়েছেন। কতকগুলো পালনীয়, কতকগুলো বর্জনীয়। যেসব বিষয় পালনের নির্দেশ রয়েছে, তা যথার্থরূপে পালনের মধ্যে ¯্রষ্টার সন্তুষ্টি নিহিত। আর যেসব বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা থেকে বিরত থাকা ও পূর্ণরূপে বর্জন করা ইসলামের দাবী এবং একজন মুমিনের পরিচায়ক।

ইসলামের বিধানে যৌনচারী, ব্যভিচারী অপরাধীকে শাস্তিযোগ্য গণ্য করা হয়েছে। কোরআনের ভাষ্য, ‘অবৈধ যৌন সম্ভোগের নিকটবর্তী হয়ো না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনী ইসরাইল: ৩২)

মদ্যপান ইসলামি উম্মাহর জন্য হারাম। এই বিধান অমান্য করে মদ্যপান করলে তাকে শাস্তি দিতে হবে। এ অপরাধের জন্য দু’ধরণের শাস্তি রয়েছে, ইহকালীন শাস্তি ও পরকালীন শাস্তি। ইসলামি আইনজ্ঞ ফকিহগণ হাদিসের আলোকে এর শাস্তি নির্ধারণ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে মদ্যপানকারীর শাস্তি আশি দোররা বেত্রাঘাত। ইমাম মালেক (রহ.)-এর মতানুযায়ী ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এ মতের সমর্থক।

চুরির শাস্তির বিধান সম্পর্কে আল-কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর যে পুরুষ কিংবা নারী চোর সাব্যস্ত হয়, তবে তার হাত কর্তন করো। এটা তাদের কৃতকর্মে ফল, আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি। তিনি মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা মায়িদা: ৩৮)

প্রথমবার চুরির কারণে ডান হাত কাটা হবে। এরপর দ্বিতীয়বার আবারও চুরি করে তবে বাম পা তারপর আবার যদি চুরি করে, তাহলে তাকে বন্দী করে রাখা হবে, যতক্ষণ না সে তাওবা করে। চুরিকৃত মাল যদি মওজুদ থাকে তবে তা ফেরত দেয়া ওয়াজিব। ডাকাতির শাস্তি সম্পর্কে কঠোর বিধান আরোপ করে অসামাজিক কর্মকা- প্রতিরোধে ও মুলোৎপাটনে ইসলাম যেসব আইন প্রণয়ন করেছে, তা শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক নিয়ামক শক্তি। মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, যারা আল্লাহ এবং তার রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং রাজ্যের ভেতর ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি এই যে তাদেরকে গুণে গুণে হত্যা করা হবে অথবা শূলিতে চড়ানো হবে কিংবা তাদের একদিকের হাত ও অপরদিকের পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটা দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি  এবং পরকালে তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে। (সুরা মায়িদা: ৩৩)

হত্যা ও সন্ত্রাসরোধে ইসলামি বিধান অত্যন্ত কঠোর। কোরআনের ভাষ্য, ‘নরহত্যা কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের অপরাধে ব্যক্তি ব্যতিরেকে কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেনো পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করলো আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেনো সমগ্র মানব জাতির প্রাণ রক্ষা করলো। (সুরা মায়িদা: ৩২)

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com