জয়পুরহাটের জেলা ব্র্যান্ডিং ‘লতিরাজ’ রফতানির সুফল পাচ্ছেন না কৃষক

আমাদের নতুন সময় : 09/11/2018

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : পুষ্টিমানে অনন্য হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রেই সবজি হিসেবে কচুরলতি তাচ্ছিল্যের শিকার। তবে আশ্চর্যজনকভাবে জয়পুরহাটের জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগোয় যে দুটি বিষয় স্থান পেয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে এ কচুরলতি। এর কারণ, জেলার বহু কৃষক ‘লতিরাজ’ নামে এ কচুরলতি আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দেশের চাহিদা মিটিয়ে যা রফতানি করা হচ্ছে অন্তত ২৫টি দেশে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, এ রফতানির সুফল তারা ভোগ করতে পারছেন না। তাদের দাবি, সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে লতি কিনে সরাসরি রফতানি করা গেলে তারা প্রকৃত লাভবান হবেন। জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার মধ্যে পাঁচবিবির বালিঘাটা, আয়মা রসুলপুর ও ধরঞ্জী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি লতিরাজ কচু আবাদ হয়। এ উপজেলায় এ লতি আবাদ হয় প্রায় ১ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া সদর উপজেলায় ৪২০ হেক্টর জমিতে কচুরলতি চাষ করছেন কৃষকরা। এবার এ পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ৯০ হাজার টন লতি উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, অন্য সবজি আবাদের থেকে লতি আবাদে সময় ও খরচ উভয়ই কম লাগে। প্রতি বিঘা জমিতে লতি আবাদে খরচ হয় ১৮-২২ হাজার টাকা। আর এ থেকে উৎপাদিত কচুরলতি বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকার। বিঘাপ্রতি ফলন হয় তিন থেকে চার হাজার কেজি। ভালো লাভ হওয়ায় কচুরলতি আবাদে দিন দিন কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে। আর পাঁচবিবির কচুরলতি কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, কানাডা, জার্মানি, ডেনর্মাক, সুইডেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্তত ২৫টি দেশে রফতানি করা হচ্ছে। সরেজমিন কথা হলে কৃষকরা জানান, পাঁচবিবির পাটাবুকা গ্রামের কৃষক অমির উদ্দিনের উদ্ভাবিত এ লতির আবাদ শুরুতে দু-একজন কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ধীরে ধীরে এর বাণিজ্যিক আবাদ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের সফল লতিচাষী আবেদ আলী জানান, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ছয় মাস কচুরলতি আবাদের মূল মৌসুম। তবে প্রায় সারা বছরই এর ফলন হয়। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন শত শত মণ লতি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে এক কেজি লতি ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনছেন। পাঁচবিবির কচুরলতির প্রধান পাইকারি বাজার ঢাকার কারওয়ান বাজার। এছাড়া যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, বাইপাইল, টাঙ্গাইল, দৌলতপুর, রাজশাহী, নাটোর, রংপুর, ঠাকুরগাঁ, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জেও এখানকার লতি পাঠানো হচ্ছে। এদিকে আবু হাসান, নূর কুতুব উল আলম, আবু তাহেরসহ আরো বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের উৎপাদিত লতি ঢাকা থেকে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু এতে তাদের খুব একটা মুনাফা বাড়ছে না। বেশি লাভ করছেন মূলত ব্যবসায়ীরা।

যদি সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে লতি কিনে রফতানি করা হয়, তবে তাদের অনেক বেশি লাভ হতো।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম জানান, কচুরলতি বিদেশে পাঠানোর জন্য পাঁচবিবিতে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। আশা করছি এটি স্থাপন হলে এখানকার কৃষকরা তাদের লতির ন্যায্য দাম পাবেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com