পায়ে হেঁটে ৩০ দেশ পাড়ি দিয়েছেন হাজি মহিউদ্দিন

আমাদের নতুন সময় : 09/11/2018

শাহাদৎ হোসেন শাহ

 

‘১৯৬৮ সালে হজ করার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে দিনাজপুর থেকে যাত্রা শুরু করি। দিনাজপুর থেকে রংপুর হয়ে প্রথমে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে যাই। সেখানে গিয়ে পায়ে হেঁটে হজ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করি, তৎকালীন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা আলী আকবর হেঁটে যেতে ইচ্ছুক অন্য ১১জন হাজির সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। শুরু হয় ১২জনের হজযাত্রা। চট্টগ্রাম দিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তানের করাচির মক্কি মসজিদে গিয়ে যাত্রা বিরতি দিয়ে সৌদি আরবের ভিসার জন্য আবেদন করি।

আট দিন পর সৌদি ভিসা হাতে পাই। পাসপোর্ট ও ভিসা করতে খরচ হয় ১ হজার ২০০ টাকা। এর পরে পাকিস্তানের নোকঠি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইরানের তেহরান হয়ে ইরাকের বাগদাদ ও কারবালা দিয়ে মিসর পাড়ি দিয়ে সৌদি আরব পৌঁছি। পথে ফেরাউনের মরদেহ দেখার ইচ্ছাও পূর্ণ করে দেন মহান আল্লাহ পাক। সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন শেষে আল্লাহর রাস্তার ধুলো পায়ে লাগিয়ে হেঁটে হেঁটেই ফিরে আসেন নিজ পরিবারের কাছে। এ সময় আমি মোট ৩০টি দেশ পাড়ি দিয়েছি।’ কথাগুলো বলছিলেন দিনাজপুরের মহিউদ্দিন। এই মানুষটি বাংলাদেশ থেকে হেঁটে সৌদি আরব গিয়ে পবিত্র হজ পালন করেছেন। তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলার রামসাগর দিঘীপাড়া গ্রামের মৃত ইজার পন্ডিত ও মমিরন নেছার ছেলে। সেই সাথে তিনি জাতীয় উদ্যানের বায়তুল আকসা জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ছিলেন। বর্তমানে তার দেখা পাওয়া যাবে, দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানে ঢুকে পশ্চিমের রাস্তা ধরে বামে ঘুরে কিছু দূর যেতেই চোখে পড়বে রামসাগরের পাষাণ বাঁধা ঘাট আর পশ্চিম দিকে দেখা যাবে একটি মসজিদ। সেখানেই চোখে পড়বে একেবারে বৃদ্ধ একজন মানুষ। যিনি রামসাগরে আগত সকল পর্যটককে আহ্বান জানান রামসাগর দীঘিপাড়া হাফেজিয়া ক্বারিয়ানা মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করার জন্য। অদম্য এই মানুষটি জন্ম গ্রহণ করেন ১৯১৩ সালে। বর্তমানে তার বয়স ১০৬ বছর। মহিউদ্দিন বলেন, পায়ে হেঁটে হজ করতে যেতে তার সময় লেগেছিলো আঠারো মাস। এ আঠারো মাসে পাড়ি দিয়েছি কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ। এ সময় আমি সফর করেছেন ৩০টি দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান থেকে ঘুরে আসার অনুভূতি বলে প্রকাশ করা যাবে না। এভাবে হজ করে আসতে পারার কারণে সবসময় আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আরো একটি বিষয় হচ্ছে আমি যখন হজে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলাম তখন আমাদের অনেক অভাব অনটন ছিলো। তারপরও আমার সহধর্মিনী আবেদা বেগম সব সময় আমার ইচ্ছা পূর্ণ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। এই কারণে আমি হজ করে আসতে পেরেছি। এই কারণে আমি স্ত্রীর প্রতি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। মহিউদ্দিন আরো বলেন, পাসপোর্ট ও ভিসা করতে খরচ হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। পুরো হজে এই টাকাটা আমার খরজ হয়। আমার কাছে আর ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিলো। এই টাকাটা আমার আর খরচ করতে হয়নি। আমরা মোট ১২জন হজ যাত্রী ছিলাম। আমরা যেখানেই খেতে গেছি মানুষ আমাদেরকে ভালোবেসে খেতে গিয়েছেন। কেউ আমাদের থেকে টাকা নেয়নি। এই কারণে আমাদের বেশি টাকা খরচ হয়নি। হাজি মো. মহিউদ্দিন স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বেশ ভালো আছেন। চার মেয়ে ও দুই ছেলে সবার বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারেও তেমন অভাব নেই বলেই চলে। অবশ্য বয়সের কারণে দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তি কিছুটা কমে গেছে। লাঠি ছাড়া ঠিকমত হাঁটতে পারেন না আর। কিন্তু পায়ে হেঁটে হজে যাওয়ার কোনো স্মৃতিই তিনি ভুলে যাননি। কেউ জিজ্ঞাসা করতেই মুখ থেকে ঝরতে থাকে কথার ফুলঝুরি। সকলের কাছে বলতে চান সেসব দিনের কথা। সর্বোপরি তিনি সবাইকে একবার হলেও আল্লাহর ঘর তওয়া করার করার কথা বলেন।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]