সুভাষ বসুর সৈনিক ৯৬ বছর বয়সের বিপ্লবী আব্বাস আলী!

আমাদের নতুন সময় : 09/11/2018

অসীম সিদ্দিকী, বুলন্দ-ভারত : ২৩শে মার্চ ১৯৩১, যেদিন ভারতের বীর সন্তান সরদার ভগৎকে ফাঁসি দেয়া হলো, সেদিন বুলন্দ শহরের ‘খুর্জ-পাঠশালা’-তে প্রতিদিনের মতো সেদিনও পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন ৯ বছরের শিশু আব্বাস আলী। প্রত্যেক ছাত্র সেদিন স্কুলে পড়াশোনা করার  বদলে, দেশাত্মবোধক সেøাগান সহকারে মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলো। গভীর রাত পর্যন্ত ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মিছিল-বিক্ষোভ চলেছিলো। সন্ধ্যায় সব ছাত্র নিজের বাড়ি ফিরে গেলেও ৯ বছরের শিশু আব্বাস তখনো বড়দের সঙ্গে ব্রিটিশ-বিরোধী সেøাগান দিয়ে চলেছে। গভীর রাতে, আব্বাসের আব্বা এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। মা কয়েকটা চড়-থাপ্পড় মেরে, আব্বাসকে বুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লেন। কিশোর আব্বাস প্রশ্ন করলো, “মা, দেশকে ভালোবাসা অপরাধ?”

মা বললেন, “না তো।”

আব্বাস জিজ্ঞেস করলো, “তা হলে মারলে কেন?”

মা কান্নাভেজা গলায় বললেন, “তুমি এখন ছোট, আগে বড়ো হও, তারপর গোরাদের মোকাবেলা করো।”

সেদিনের ৯ বছরের শিশু মনে মনে শপথ নিয়েছিলো, দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে।

তারপর খুর্জার কলেন্দরগড়ের যুবক আব্বাস, নিজের স্বপ্ন সার্থক করতে পড়াশোনা শেষ করে, ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এ যোগ দিয়েছিলেন।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ভালোবেসে যাকে ‘ক্যাপ্টেনআলী’ নামে ডাকতেন। ক্যাপ্টেন আব্বাস আলী, নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজের পক্ষে বহু লড়াই করেছিলেন।

সেদিনের কথা এখনো মনে পড়লে, কান্নায় দুচোখ ভরে যায় ৯৬ বছরের যুবক ক্যাপ্টেনের। নেতাজীর কথা মনে হলেই নিজেকে সামলাতে পারেন না। অঝোর নয়নে কাঁদতে থাকেন।

ক্যাপ্টেন আব্বাস আলীর মতে, এই স্বাধীনতার জন্য লাখো দেশভক্ত আত্মবলিদান দেননি। গোরাদের কাছে পরাধীন থাকা এবং আজকের প্রাপ্ত স্বাধীনতার মধ্যে বিশেষ কিছু তফাৎ  খুঁজে পান না ক্যাপ্টেন আলী।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com