পরম পবিত্র দামোদর মাস: ভক্তিলাভের অনন্য সুযোগ

আমাদের নতুন সময় : 24/11/2018

কৃষ্ণকান্ত বৈরাগী

 

দামোদর বা কার্তিক ব্রত সম্বন্ধে স্কন্দ পুরাণে ব্রহ্মা নারদকে বলেছিলেন, দুর্লভ মনুষ্য জন্ম পেয়ে যে ব্যক্তি কার্তিক ব্রত করে না, সে নিদান্ত অভাগা বলে পরিগণিত হয়। এই বৈষ্ণব ব্রত না করলে জপ তপস্যা বিফল হয়, সাত জন্মের অর্জিত পুণ্য বৃথা হয়ে যায়। সমস্ত তীর্থে স্নান ও সমস্ত বস্তু দানে যে ফল কার্তিক ব্রতে তার থেকে বেশি পুণ্য লাভ হয়। কার্তিক মাসে শ্রীহরির যা কিছু পুণ্য করা হয় তা অক্ষয় হয়ে থাকে। এই মাসে পাপ কর্মেরও ক্ষয় নেই। পদ্মপুরাণে নারদ মুনি শৌনক প্রমুখ মুনিদের বলেছিলেন, ভারতবর্ষে যে মানুষ শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় কার্তিক মাস নিয়ম ছাড়া অতিবাহিত করে, সে হাতের কাছে চিন্তামণি পেয়ে কাদাজলে নিক্ষেপ করে। দেবতা, ঋষি ও পিতৃগণ কার্তিক মাসের সেবা করেন। তাই কার্তিক ব্রত করলে অতি অল্পেও লোকের মহাফল লাভ হয়।

রাতের শেষ প্রহরে হরি জাগরণ, স্তূতি ও গান, প্রাতঃস্নান, শ্রীহরির পূজা-অর্চনা, হরিনাম জপ, গীতা অধ্যয়ন, মন্দির প্রদক্ষিণ, শ্রীহরির সম্মুখে নৃত্য গীত করা, ব্রহ্মচর্য পালন, ভূমিতে শয়ন, দিবা ভাগে একবার হবিষ্য ভোজন -এইগুলি হচ্ছে ব্রতের নিয়ম।

ভগবান শ্রী দামোদরের প্রিয় মিছরি ও ঘি যুক্ত পায়েস নৈবেদ্য প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে ভাগ করে নিজে ভোজন করতে হয়। শ্রীহরির নৈবেদ্য অপরকে দান করতে হয়। কর্পূর, অগুরু, চন্দন, ধূপ, শ্রীহরির উদ্দেশ্যে দান করতে হয়। কার্তিক মাসে দামোদর অষ্টক গান, শ্রীহরির স্তোত্র, গজেন্দ্রমোক্ষণ পাঠ করলে শ্রীহরি প্রীত হন। শ্রীহরি সম্মুখে ভক্তিভরে হরিকথা শ্রবণ করতে হয়।

একাদশীতে সূর্যের তুলারাশিতে অবস্থান অথবা পূর্ণিমাতে লক্ষ্মী সহিত ভগবান বিষ্ণুর প্রসন্নতা বিধানের জন্যই আকাশদীপ প্রদান করা উচিত।

নমো পিতৃভ্যঃ প্রেতেভ্যো নমো ধর্মায় বিষ্ণবে।

নমো যমায় রুদ্রায় কান্তারপতয়ে নমঃ ॥

“পিতৃগণকে নমস্কার, প্রেতগণকে নমস্কার, ধর্মস্বরূপ বিষ্ণুকে প্রণাম, যমরাজকে নমস্কার তথা দুর্গম পথে রক্ষাকারী ইন্দ্রকে নমস্কার।”

এ মন্ত্র উচ্চারণ করে যে মানুষ পিতৃগণের নিমিত্ত আকাশে দীপদান করেন, তার পিতৃগণ নরকে থাকলেও উত্তম গতি প্রাপ্ত হন। যে দেবালয়ে, নদীর তীরে, রাজপথে দীপদান করে সে সর্বতোভাবে লক্ষ্মীপ্রাপ্ত হয়। যে কণ্টকাকীর্ণ দুর্গম উঁচু নিচু পথে দীপ দান করে সে কখনো নরকে পতিত হয় না। পূর্বকালে রাজা ধর্মনন্দন আকাশদীপ দানের প্রভাবে বিষ্ণুলোকে প্রস্থান করেছিলেন।

যিনি কার্তিক মাসে হরিবোধিনী একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর সম্মুখে কর্পূর দিয়ে দীপ প্রজ্জ্বলন করেন তার কুলে উৎপন্ন সমস্ত মানুষ ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় ভক্ত হন তথা অন্তঃকালে মোক্ষলাভ করেন। পূর্বকালে কোনো এক গোপ অমাবস্যা তিথিতে ভগবানের মন্দিরে দীপ প্রজ্জ্বলন করে তথা বারংবার জয়ধ্বনি উচ্চারণ করে রাজরাজেশ্বর হয়েছিলেন। এইভাবে স্বয়ং ব্রহ্মা নারদ মুনির কাছে কার্তিক মাসে ভগবানের উদ্দেশ্যে নিয়মিত দীপ দান ও আকাশদীপ দানের মহিমা ব্যক্ত করেছিলেন। সকলেরই এইভাবে কার্তিক মাসে দীপদান করা উচিত।

লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]