মতুয়া দর্শনকে সূক্ষ্ম সনাতন দর্শন নামে  আখ্যায়িত করা হয় কেন?

আমাদের নতুন সময় : 24/11/2018

প্রসঞ্জিত ভক্ত

 

সত্য, প্রেম, পবিত্রতা এবং বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের উপর প্রবর্তিত ধর্ম দর্শনই ভারতের আদি ধর্ম দর্শন। যা সনাতন ধর্ম-দর্শন নামে খ্যাত। যার আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ৬৫০০ খ্রিঃ পুর্বাব্দেরও পূর্বে । সিন্ধু সভ্যতার মত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা ছিল এই ধর্ম-দর্শনের উপরেই প্রতিষ্ঠিত। সনাতনী আদি পুরাণ ছিল সনাতনী সুতদের (যুক্তি ও বিজ্ঞান ভিক্তিক সত্য, প্রেম ও পবিত্রতার বাহকদের) এযুগের গবেষ্ণণালব্ধ বিশেষ জ্ঞানভা-ার হিসেবে স্বীকৃত।

সনাতন ধর্মকে আবার ভূতের ধর্মও বলা হয়। করাণ এই ধর্ম মূলত ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম নামক পঞ্চ ভূতের বৈজ্ঞানিক সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, যা ছিল সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল। ১৯৮৫ সালের ১৪ অক্টোবর ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশ- ‘সম্প্রতি  সোভিয়েত রাশিয়ায় জাতিগত বিজ্ঞানের উপর অনুষ্ঠিত বিজ্ঞানীদের এক আলোচনাচক্রে মন্তব্য করা হয় যে, আর্যদের ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করার প্রায় ৫০০০ হাজার বৎসর আগে সিন্ধু উপত্যকায় অতি উন্নতমানের এক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। ক্ষিতি-অপ- তেজ-মরুৎ-বোম এই পঞ্চ ভূতের তত্ত্ব আর্য সভ্যতা বহিঃর্ভূত প্রাচীনতম ভারতীয় সভ্যতার অপেক্ষা অধিকতর উৎকৃষ্ট ছিল, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা একমত ছিলেন। আর্য সভ্যতা এই প্রাচীনতম সভ্যতাকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল’। পঞ্চ ভূতের এই বৈজ্ঞানিক সত্যের উপর বিশেষ জ্ঞানার্জনের দ্বারা সনাতনী আদিপুরাণকে সংস্কারের মাধ্যমে যারা আরও বিজ্ঞানভিত্তিক করে সনাতন ধর্ম-দর্শনকে সমৃদ্ধ আকারে তুলে ধরতেন তাদের বলা হত বুদ্ধ (জ্ঞানী)। কিন্তু ১৫০০ খ্রিঃ পূর্বাব্দে বৈদিক আর্য আগমণের পর বৈদিক বর্ণধর্মের প্রবর্তনের সাথে সাথেই ধীরে ধীরে পতন ঘটেতে থাকে সনাতনী এই ভূতের ধর্ম-দর্শনের।

অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া সনাতনী ভূতের ধর্ম-দর্শনের পুনর্জাগরণ ঘটান বুদ্ধ গৌতম। তবে তা সনাতন ধর্ম রূপে নয়; বৌদ্ধ ধর্ম রূপে। কারণ সনাতন ধর্ম সংস্কারকদেরই বলা হত বুদ্ধ। আর এই ‘বুদ্ধ’ শব্দ থেকেই বুদ্ধ গৌতমের বৌদ্ধ ধর্ম নামকরণ। ‘বুদ্ধ’ শব্দটি এসেছে ‘বোধি’ শব্দ থেকে। যে ‘বোধি’ অর্থ হলো জ্ঞান। বুদ্ধ গৌতম পঞ্চ ভূতের মহাসত্যের উপর ভূতের ধর্মকে সংস্কার করে তার দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করেন। যা হলো কর্ম ভিত্তিক সত্য, প্রেম ও পবিত্রতারই নিদর্শন। তাই বৌদ্ধ ধর্ম আসলে সনাতন (পুরানো) ভূতের ধর্মেরই এক সংস্কৃত রূপ।      আবার  হারিয়ে যাওয়া বৌদ্ধদর্শনের পুনর্জাগরণ ঘটান ঠাকুর হরিচাঁদ। যা বুদ্ধের কর্মভিত্তিক সত্য, প্রেম ও পবিত্রতারই নিদর্শন। বুদ্ধ গৌতম সংসাররূপ নদী পার হওয়ার ক্ষেত্রে তার দর্শনকে কার্যসিদ্ধির ভেলারূপ ব্যবহার করেছেন, যে ভেলাটি কার্যসিদ্ধির পর আর মাথায় করে বয়ে নিয়ে বেড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। অথএব বুদ্ধের কর্ম এবং বাণীর ধর্ম যেমন নির্দোষ এবং বিজ্ঞজন প্রশংসিত ঠিক তেমনি ঠাকুর হরিচাঁদের দর্শন ‘হাতে কাম (কর্ম), মুখে নামও (প্রেমের বাণী হরিবোলও), সংসাররূপ নদী পার হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দোষ এবং বিজ্ঞজন প্রশংসিত কর্যসিদ্ধির ধর্ম-দর্শন নামে প্রতিষ্ঠিত। তাই মতুয়া দর্শন আসলে বৌদ্ধ দর্শনেরই নবরূপ। অতএব বৌদ্ধদর্শন যেহেতু সনাতন ধর্ম-দর্শনেরই বিবর্তিত রূপ; আর মতুয়া দর্শন হলো বৌদ্ধ দর্শনের নবরূপ, তাই বলা যায় মতুয়া দর্শনও সনাতন দর্শনেরই নব রূপ। এ কারণে মতুয়া দর্শন ‘সূক্ষ্ম সনাতন দর্শন  নামেও আখ্যায়িত করা যায়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]