আগে ঘর নামক স্কুলটি ঠিক করতে হবে আর ঢেলে সাজাতে হবে শিক্ষাব্যবস্থাকে

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

কামরুল হাসান মামুন, ফেসবুক থেকে

 

আমরা অনেকেই যেটা ভুলে যাই সেটা হলো আমাদের প্রত্যেকটি পরিবারের প্রত্যেকটি ঘরই হলো তাদের নিজ নিজ ছেলেমেয়েদের জন্য একেকটি স্কুল। ওই স্কুলের বাবা-মায়েরা হলো তাদের সন্তানদের শিক্ষক। আমাদের সেই শিক্ষকরা কেমন? যেই বাবা-মা বাঁশের পরিবর্তে রড দেয়, যেই বাবা-মা ঘুষ খায়, যেই বাবা-মা জনসাধারণের ব্যাংকের টাকা লোপাট করে, যেই বাবা-মা খাদ্যে ভেজাল মেশায়, যেই বাবা-মা মাছে ফরমালিন দেয়, যেই বাবা-মা অন্যের সন্তানদের স্কুলে ইচ্ছাকৃত খারাপ পড়িয়ে সেই ছাত্রদের আবার টাকার বিনিময়ে পড়ায়Ñ তারা তাদের সন্তানদের কেমন শিক্ষক হবে? যেই বাবা-মা তার সন্তানকে টিফিন দিয়ে বলে কাউকে দিও না, যেই বাবা-মা তার ছেলেমেয়েকে বলে তার নোট যেন বন্ধুদের না দেখায়Ñ তারা কেমন শিক্ষক হবে? আপনারা কি ভেবেছেন আপনাদের সন্তানরা আপনাদের কুকর্মের কথা জানে না?

যাদের শিক্ষক হওয়ারই কথা না, তাদের যারা ঘুষের বিনিময়ে কিংবা দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক বানিয়ে দিলো; তারাওতো কারো না কারো বাবা। তারাওতো তাদের ঘর নামক স্কুলটির শিক্ষক। যাদের শিক্ষক হওয়াতো দূরের কথা, একটি দারোয়ানের চাকুরিও হওয়ার কথা না; যারা তাদের শিক্ষক বানিয়ে হাজার বাবামায়ের সন্তানদের সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে যেই সমাজ তৈরী করলো; সেই সমাজটিওতো তার সন্তানের স্কুল। একটি সমাজও যে একটি স্কুল সেটা আমরা অনেকেই জানিনা। জানলে আমরা আগে সেই স্কুলটি যেন উন্নতমানের হয় সেই চেষ্টা করতাম। এই আমাদের এমপি মন্ত্রীরা টাকার বিনিময়ে হউক আর দলীয় বিবেচনায় হউক, অযোগ্য মানুষদের তাদের নিজ স্কুলে চাকুরী দিয়ে তার সন্তানকে শহরে নামিদামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পাঠিয়ে ভেবেছেন বেঁচে গেলেন? তাহলে আপনি একটা বলদ।

আমাদের উচিত আমাদের ঘর নামক স্কুলটি ঠিক করা। সেটা করা তখনই সম্ভব যখন প্রত্যেক বাবা-মা ভালো সৎ শিক্ষক হবে। তারপর উচিত আনুষ্ঠানিক স্কুলে যথাযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেয়া। এর ফলে যেই সমাজটি তৈরি হবে, সেটিও একটি ভালো স্কুল হবে। আমি লন্ডনে যখন ছিলাম আমার অফিসের রুম যেই ঝাড়ুদার প্রতিদিন ঝাড়ু দিতে আসতো, তার সাথেও ইন্টেলেকচুয়াল আলাপ করা যেত। একদিন সে বলছিলো, ‘‘কামরুল, জানো? আমার না শিশুদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে।’’ জিজ্ঞেস করলাম কেন? সে বলল ‘‘কারণ ওদের সাথে আমার কোন রকম ভালো মানুষের অভিনয় করতে হয় না। আমি আমার মত হয়ে হেসে খেলে সময় কাটাতে পারি।’’ আর এখানে আমি অনেক শিক্ষিত এমন কী অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আছে যাদের সাথে ৫ মিনিট কথা বলতে পারি না। এত স্থুল তাদের চিন্তা ভাবনা।

অনেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে গিয়েছিলাম। তখন আমি নিয়মিত স্ত্রী কন্যাদের নিয়ে ওখানে যেতাম। একদিন টিভি রুমে ঢুকে দেখি, এক শিক্ষক জুতা খুলে দুর্গন্ধঅলা মোজাসহ পা ভাঁজ করে সোফার উপর বসে হিন্দি সিনেমা দেখছে। এটি কেবল একটি উদাহরণ। সরকারের কথা ভাবুন। তারা যদি শিক্ষকের গুরুত্ব বুঝত তাহলে কি শিক্ষকদের রাজনীতিতে নামাতো? এইভাবে রাজনীতির মধ্যে নামিয়ে দিয়ে সমাজ তথা দেশের কী ক্ষতি তারা করছে তারা কি জানে না? তারা যদি শিক্ষকের গুরুত্ব বুঝত তাহলে কি শিক্ষক নিয়োগের নাম দলীয় ক্যাডার নিয়োগে চাপ দিত? আসলে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেলে যেমন ওভারহোলিং করাতে হয়, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি ওভারহোলিং প্রয়োজন। কারণ শিক্ষাই হলো দেশের ইঞ্জিন। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]