খাগড়াছড়িতে পিস্তলসহ ইউপিডিএফ কর্মীর আত্মসমর্পণ

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

আলমগীর হোসেন, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি জেলার মাহালছড়ি জোন কমান্ডারের নিকট গতকাল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন জেলার ইউপিডিএফ সংগঠনের বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক আনন্দ চাকমা। ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড অ্যামুনিশন নিয়ে মাহালছড়ি সেনাবাহিনী জোন কমান্ডার লে.কর্নেল মোস্তাক আহমদের নিকট আত্মসমর্পণ করার পর খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করেন।

গত বুধবার রাতে মহালছড়ি সেনা জোনের অধিনায়কের কাছে একটি ইউএসএ-র তৈরি পিস্তল, ম্যাগজিন, ৩ রাউন্ড গুলিসহ আনন্দ চাকমা অত্মসমর্পণ করেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মনরঞ্জন চাকমার ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের আনন্দ চাকমা জানান, আদর্শহীন ইউপিডিএফ-এর খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজির কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশায় অস্ত্রসমর্পণ করেছেন। সরকার ঘোষণা দিলে অনেক ইউপিডিএফ নেতাকর্মী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছে।

আনন্দ চাকমা জানান, রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের প্রধান তপন জ্যোতি ওরফে বর্মাসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। আনন্দ চাকমা জানান, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের কাছে একে-৪৭, এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল, এলএমজি, একাশি ও এম-১৬ মতো বিপুল ভারি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। রাঙামাটি জেলার নানিয়াচর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক শাখার পরিচালক আনন্দ চাকমা জানান, শান্তিবাহিনী, জনসংহতি সমিতি ও গত ৪ বছর ইউপিডিএফ (প্রসীত) হয়ে কাজ করেছে। জীবনের ৩০ বছর আমি জঙলে জঙলে ঘুরে জীবন যাপন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠির অধিকার আদায় ও তাদের উন্নতির যে লক্ষ্য নিয়ে যুবক বয়সে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম তা থেকে ইউপিডিএফ সম্পূর্ণভাবে বিচ্যূত। ইউপিডিএফ-এর কোনো নীতি ও আদর্শ নেই। তারা সকলেই রক্তের নেশা ও ক্ষমতার মোহে পড়ে আছে। চাঁদাবাজি, মানুষকে হয়রানি আর ভয়ভীতি ও অন্যায়-অত্যাচার করে সকলে নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত। গুম, খুন, হত্যা ও অপহরণই বর্তমানে তাদের কাজ। ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের কাছে স্বজাতীয় কোনো ভাই-বোনও নিরাপদ নয়। আমারও স্ত্রী, এক ছেলে ও ডিগ্রি ৩য় বর্ষে পড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে। এ কারণে অনেক ভেবে-চিন্তে অন্যায়ের পথ ছেড়ে সুস্থ্য, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মতো অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। কিন্তু ইউপিডিএফ হত্যার ভয় দেখাচ্ছে। এ জন্য তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারছে না।

আনন্দ চাকমা জানান, জঙলের অস্বাভাবিক জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত। আমার এক ছেলে সরকারি চাকরি করছে। আমার মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। আমিও এই স্বাধীন দেশের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করে আমার বাকি জীবনটা একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে সুখে-শান্তিতে অতিবাহিত করতে চাই। সম্পাদনা : মো.সবুজ, শাশ^ত জামান।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]