মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মামলা

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

খাদেমুল বাবুল : কবরেও ব্যবহার হয় পল্লী বিদ্যুৎ! ঘটনাটি অবিশ^াস্য হলেও এমনটাই প্রমাণ করতে চেয়েছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ। জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার বয়ড়া গ্রামের কৃষক  ওয়াজেদ আলী মারা গেছেন ১০ বছর আগে। তবুও তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মামলা করেছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ মামলা প্রমাণ করেছে কবরবাসীও অবৈধভাবে পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

জানা যায়, উপজেলার বয়ড়া গ্রামে বাসিন্দা মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে ওয়াজেদ আলী ২০০৯ সালের ১ ডিসেম্বর মারা যায়। গত ১০ বছরে সে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ৫৭ হাজার ৮শ ১০ টাকার অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। গত ১০ অক্টোবর মৃত ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি মামলাও করেছে।  মামলা সূত্রে জানা যায়, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষ ওয়াজেদ আলীকে বারবার বিল  পরিশোধের তাগাদা দিয়েছেন। কিন্তু ওয়াজেদ আলী বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বাধ্য হয়ে সরিষাবাড়ী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে একটি সি আর মামলা নং ৭৪৯৮/১৮ দায়ের করেছেন। মৃত ওয়াজেদ আলীর নামে মামলা নোটিশ গেলে প্রতিবেশীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন সম, এলাকাবাসী আব্দুর রহিম, রেজাউল করিম ও দুলাল মিয়া বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যে ব্যক্তি ১০ আগে মারাগেছে সে কি করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাদের প্রশ্ন কবরেও কি পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। তাও আবার অবৈধভাবে!  এলাকাবাসী জানায়, মৃত ওয়াজেদ আলীর ২ ছেলে বাইরে চাকরি করেন। তারা মাঝে মধ্যে গ্রামে আসেন বেড়াতে। তারা কোনো কৃষি কাজ করে না। মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ জানান, তার বাবা জীবিত থাকতে একটি সেচ লাইন  ছিলেন। তারাদের চাকরি হওয়ায় বাবা কৃষি কাজ বন্ধ করে দেন। সম্পাদনা : শাশ^ত জামান।

 

 

ওই সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আক্তারুজ্জামানের ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ তারিখের ইস্যুকৃত চিঠি মোতাবেক ২২ ফেব্রুয়ারি সংযোগ বিচ্ছিন্নের ফি জমা দেয়া হয়। পরে তৎকালীন এজিএম নিয়মানুযায়ী ৫ কেভিএ দুটি ট্রান্সফর্মার, ১টি মিটারসহ লাইনের সরমঞ্জাম খুলে অফিসে জমা করেন। এরপর ২০০৯ সালে ওয়াজেদ আলী মারা যান। মৃত্যুর ১০ বছর পর তার বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের মামলা তাদের মর্মাহত করেছে।

সরিষাবাড়ি অফিসের লাইনম্যান ফেরদৌস ও ওমর ফারুক জানান, ২০০৫ সালে ওয়াজেদ আলী এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে মালামাল অফিসে জমা করা হয়েছিলো।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী সরিষাবাড়ী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মৃত ব্যক্তির নামে পল্লী বিদ্যুতের বিল ও মামলায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]