মোবাইলে ধারণ করা বিষয়ের সঙ্গে উত্তরপত্রের মিল নেই : তদন্ত কমিটি

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

তরিকুল ইসলাম সুমন : রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনাকারী হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখা প্রধান জিনাত আখতার এবং শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অরিত্রীর বাবা-মার সঙ্গে অধ্যক্ষ ও শাখা প্রধানের নির্দয় আচরণ অরিত্রীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে।

কমিটির বর্ণনায় বলা হয়, ২ ডিসেম্বর দিবা শাখায় প্রতিষ্ঠানের ১২৮ নম্বর কক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালে দুই পরিদর্শক অরিত্রীর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। অরিত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইলে ওই দিনের পরীক্ষার বিষয়ের পাঠ্যবইয়ের সিলেবাসের অংশটুকু ছবি তোলা ছিল। পরে উত্তরপত্রের সঙ্গে মোবাইলে ধারণ করা বিষয়ের কোনো মিল আছে কি না তা নিশ্চিত না হয়েই অরিত্রীকে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন ৩ ডিসেম্বর অভিভাবকসহ অধ্যক্ষ ও শাখা প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তবে কক্ষ পরিদর্শকেরা অরিত্রীকে কোনো তিরস্কারমূলক কথা বলেননি বলে ছাত্রীরা মত দেয়।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৩ ডিসেম্বর অরিত্রী অধিকারীর বাবা দিলীপ অধিকারী ও তার স্ত্রী আনুমানিক ১০টায় বিদ্যালয়ে যান এবং কিছু সময় অবস্থান করার পর অনুমতি সাপেক্ষে শাখা প্রধান জিনাত আখতারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জিনাত আখতার ইন্টারকমে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী ‘নকলকারীকে’ আর পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন এবং শিক্ষার্থীর বাবা-মার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। শুধু তাই নয়, অরিত্রীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। শাখা প্রধানের সঙ্গে অরিত্রীর বাবা-মা দেখার করার সময় বাবাকে একটি ময়লা চেয়ারে বসতে বলেন। কিন্তু অসুস্থ মাকে বসতে বলেননি। অরিত্রীর মা শাখা প্রধানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংরক্ষিত আছে।

অরিত্রীর বাবা অধ্যক্ষের কাছে হাতজোড় করে শেষবারের মতো তার মেয়েকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। প্রয়োজনে আগামী দিনে এসে মোবাইলসহ টিসি নিয়ে যেতে বলেন। এই ঘটনার সময় অরিত্রী ও তার মা অধ্যক্ষের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কখনো অসুস্থ মাকে বসতে বলেননি। অরিত্রী দাঁড়িয়ে তার বাবা-মার অনুনয়-বিনয় ও আকুতি পর্যবেক্ষণ করার পর যখন দেখতে পায় তার বাবা মায়ের আবেদন রক্ষা করা তো দূরের কথা বরং তাদের অপমান করা হচ্ছে, তখন সে বাবা-মাকে কিছু না বলে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাসায় চলে যায়। শেষ ভরসা হারিয়ে মা বাসায় চলে যান এবং বাবা পরিচালনা কমিটির সভাপতির শরণাপন্ন হয়ে বিষয়টি পুনঃবিবেচনার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেন। কিন্তু কোনো সমাধান তিনি পাননি। আনুমানিক বেলা একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বাসা থেকে ফোনে আসে। বলা হয়, অরিত্রী বাসার কক্ষে দরজা আটকে দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অরিত্রীর বাবা বাসায় ফিরে যান এবং দরজা ভাঙতে না পেরে ভেন্টিলেটর ভেঙে দেখতে পান অরিত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়েছে। তাকে দ্রুত নামিয়ে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানিয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পরীক্ষায় খাতায় যে উত্তর লিখেছে তার সঙ্গে জব্দ করা মোবাইলে ধারণ করা বিষয়ের সঙ্গে কোনো মিল আছে কি না তাও যাচাই করে দেখা হয়নি। তদন্তে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়েছে যে, উত্তরপত্রের সঙ্গে মোবাইলে ধারণ করা বিষয়ের কোনো মিল নেই।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে কাউন্সেলিং বা মতবিনিময় না করে কথা কথায় টিসি দেওয়ার ভয় দেখান। তদন্ত কমিটি ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। কমিটি মনে করে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি এই পরিস্থিতিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেনি। কমিটির মনে হয়েছে, পরিচালনা কমিটি অভিযুক্তদের রক্ষার চেষ্টা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান পরিচালনা কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা যেতে পারে বলে কমিটি মনে করে। সম্পাদনা : রেজাউল

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]