মোশাররফ, আপনি আমাদের ক্ষমা করুন!

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

অসীম সাহা : এটা কী হলো মোশাররফ? এভাবে চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যাওয়া কি ঠিক হলো? কোথায় পাবো আপনাকে? এমন সহস্যবদন, এমন বন্ধুবৎসল, এমন মার্জিত, এমন সহযোগিতাসম্পন্ন, এমন বঙ্গবন্ধুপ্রেমী?

কোথায় ঈশ্বর, কোথায় ভগবান? যদি ‘তিনি’ থাকেন, তা হলে ‘তাঁর’ কাছে প্রশ্ন, কেন এমন সৎ মানুষকে নিয়ে যান; আর চোর, বদমাশ, ঘুষখোর, শয়তানকে বাঁচিয়ে রাখেন?

কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না মোশাররফ। কিছুতেই না। যে-ঈশ্বর ভালো মানুষকে বাঁচিয়ে না রেখে অকালে নিয়ে যান, ‘তাঁর’ হাত থেকে আপনাকে আমরাও বাঁচাতে পারিনি, আপনি আমাদের ক্ষমা করুন!

মৃত্যু অমোঘ, মৃত্যু অনিবার্য, সব জানি, তবু মেনে নিতে কষ্ট হয়। পরিণত বয়সের মৃত্যুকে আমরা মেনেও নিই। কিন্তু এই অকালপ্রয়াণ কেন? আপনার যে বুক ছিলো সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত, যে বুকে ঠাঁই দিয়েছেন শুভানুধ্যায়ী, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে, সে বুকে কী করে বাসা বাঁধলো ক্যান্সার নামক এমন ভয়ানক ব্যাধি, যা আপনার জীবনকে কেড়ে নিয়ে গেলো? কী অপরাধ করেছিলেন আপনি? আপনি সরকারের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু অসৎ উপার্জন আপনার রক্তকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। মৃত্যুর আগ্পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে থেকেও কখনো দাম্ভিকতার অহংকারে আপনি কাউকে দূরে ঠেলে দেননি। তা হলে মৃত্যু কেন আপনাকে সকলের কাছ থেকে নিষ্ঠুরের মতো এমন করে দূরে সরিয়ে দিলো? কোনো ভাষা নেই, কোনো সান্ত¡না নেই। শুধু একরাশ কষ্টের পাথর বুকে চেপে আপনার নিষ্পাপ মুখটাকে স্মরণ করছি, আপনার হাসিমাখা মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আপনি আমাকে ‘গুরু’ বলে সম্বোধন করতেন। সেই স্থানটিকে আপনি কখনো অমর্যাদা করেননি। যতোদিন আপনার কাছে গেছি, আপনার সাথে ফোনে কথা বলেছি, সেই ‘গুরু’ সম্বোধন এখনো কানে বাজছে। আপনি আমার আইএফআইসি ব্যাংক পুরস্কারপ্রাপ্ত কাব্যগ্রন্থ ‘ম-বর্ণের শোভিত মুকুট’ নিয়ে ছিলেন উচ্ছ্বসিত। আমার বিনির্মাণকৃত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নিয়ে আপনার আগ্রহ আমাকে অভিভূত করেছিলো। আমার যে ‘বাংলা সহজ ব্যবহারিক অভিধান’ এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হবে, তা নিয়ে আপনার প্রতিনিয়ত কৌতূহল আমি কী করে ভুলি?  আমি পরকালে বিশ্বাস করি না। ইহকালে আপনাকে যে-মর্যাদা দেয়ার কথা ছিলো, তা আমরা দিতে পারিনি। সে-দুঃখ আপনার মনে ছিলো। কিন্তু কাউকে মুখ ফুটে বলেননি। নিজের ভেতরে গুমরে মরেছেন। আপনার তো এখন আর কোনো চাওয়া নেই। কোনো দুঃখ বা অভিমান আপনার হৃদয়কে আর স্পর্শ করতে পারবে না। আপনি সকল কিছুর উর্ধ্বে চলে গেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন মোশাররফ, অন্যরা ভুললেও আমি আপনাকে ভুলবো না, ভুলতে পারবো না। নিজের জীবনে অনেক অপ্রাপ্তির বেদনা আছে, কিন্তু আপনার মতোই কারো কাছে কিছু চাওয়ার নেই। কিন্তু জীবন এমনিÑযা দেয়, তারচেয়ে অনেক বেশি কেড়ে নেয়! এই নিষ্ঠুর সত্য আপনি জেনে গেছেন। আমি সেই সত্যের ওপরে দাঁড়িয়ে আপনাকে স্মরণ করবো। আমার প্রাণে, আমার লেখায় আপনি বেঁচে থাকবেন, এ-আমার স্থির বিশ্বাস। হে বন্ধু, হে ভাই, হে প্রিয় মানুষ, ইহজগতে আপনার জন্যে কিছুই করতে পারিনি আমরা। আর পরজগতে তো আমার বিশ্বাসই নেই! তাই এখন শুধু স্মৃতি হাতড়ে বেদনাকে স্পর্শ করা ছাড়া কিছুই করার নেই। তবে ইহজগতে আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষমতায় আমরা যা করতে পারিনি, তার জন্যে আপনি আমাদের ক্ষমা করুন। হে বন্ধু, হে ভাই, বিদায়! লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]