• প্রচ্ছদ » » যিনি ঘুষ দিয়ে শিক্ষক হন তিনি কীভাবে ভালো শিক্ষক হবেন?


যিনি ঘুষ দিয়ে শিক্ষক হন তিনি কীভাবে ভালো শিক্ষক হবেন?

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

যাদের শিক্ষক হওয়ারই কথা না তাদের আমরা শিক্ষক বানিয়ে তাদের কর্মকা-ের ভিত্তিতে গোটা শিক্ষক সমাজকে জাতির কাছে অপমানিত করছি। যাদের শিক্ষক হওয়াতো দূরের কথা একটি দারোয়ানের চাকরিও হওয়ার কথা না, তারা শিক্ষক হয়ে গেলো কোন সিস্টেমের কারণে? আমরা সেই সিস্টেমকে ধরছি না কেন? ও.. ওরা ক্ষমতাশালী আর বিত্তবান বলে? আমরা যদি ওই সিস্টেম পরিবর্তন না করি আর দলে দলে অযোগ্য মানুষদের শিক্ষক নামক লেবাস পরিয়ে দেই তাহলে এরা কেবল শিক্ষক শিক্ষক অভিনয় করতে পারবে কিন্তু শিক্ষক হয়ে উঠতে পারবে না। আমাদের উচিত অতি শীঘ্র নিয়োগ পদ্ধতির সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের পরিবর্তন করা। আমাদের অবশ্যই নতুন কোনো পদ্ধতি বের করতে হবে যার মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্যের অবসান ঘটে। যে মানুষ ঘুষ দিয়ে শিক্ষক হতে দ্বিধা করেন না তিনি কীভাবে ভালো শিক্ষক হয়ে উঠবে? আর যারা শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ খায় তারা হলো দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এর মধ্যেও ভালো যোগ্য মানুষ শিক্ষক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ খারাপের ভিড়ে অল্প কজন ভালো শিক্ষকের পক্ষে কোনো ভালো কাজই সম্ভব না। তারা বরং অধিকাংশ খারাপ দ্বারা প্রতিনিয়ত নিগৃহীত হয়।

সত্যি বলতে কি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ঘুনে খেয়ে ফালা ফালা করে ফেলেছে। সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে জিপিএ পদ্ধতি চালু করে কি লাভ হলো? এর কোনো গবেষণা হয়েছে? সনাতন প্রশ্ন পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন চালু করে শিক্ষার মানের কি পরিবর্তন ঘটলো? আসলে কাগজ কলমে ছাড়া আমরা কি সত্যি সত্যি সৃজনশীল প্রশ্ন করতে শিখেছি? একটি প্রজ্ঞাপন জারি করলেই কি প্রশ্ন সৃজনশীল হয়ে যাবে? সৃজনশীল শিক্ষক লাগবে না? আমাদের উচিত স্কুলের প্রশ্ন যারা করবেন তাদের বাছাই করে ৩-৬ মাসের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে এসে একত্র করা। যেখানে থাকবে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা। সেই কয়দিন তারা সেখানেই থাকবেন। এই সময়ে তাদের কাজ হবে প্রত্যেকে ১০ থেকে ২০ টি প্রশ্ন করা। তাদের এই প্রশ্নগুলো নিয়ে একটি প্রশ্ন ব্যাংক করা। অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের আরেকটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ হবে যারা ওই প্রশ্নগুলোকে গভীর অনুসন্ধান করে একটি ছোট প্রশ্ন ব্যাংক বানাবে। এই অনুসন্ধান করতে গিয়ে কে কোন প্রশ্ন করেছে তা কেউ জানতে পারবে না। এইভাবে প্রশ্ন প্রণয়ন করলে ভালো মানের প্রশ্ন হতেও পারে। মনে রাখতে হবে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন তিনিই করতে পারবে যিনি ভালো শিক্ষক। শুধু ভালো শিক্ষক হলেও চলবে না। একটি সৃজনশীল প্রশ্ন মানেই একটি গবেষণা। শিক্ষককে চিন্তা করার পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। আজকে প্রশ্ন করার কথা বলে আগামী একসপ্তাহের মধ্যে প্রশ্নপত্র জমা দিতে বললে হবে না।

শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকীকরণের যে মরণ খেলা চলছে সেটা বন্ধ না করলে এই দেশে ভালো চিন্তার আর ভালো সাস্থ্যের মানুষ তৈরি হবে না। যার লক্ষণ আমরা দেখছি। চারিদিকে চোর, বাটপার, লুটেরা, ডাকাত, ভেজাল মিশ্রণকারী, পরিবেশ ধ্বংসকারী, ঘুষখোর, মিথ্যুকে সমাজ ভরে গেছে। এদেরই জয়জয়াকার। এরাই এমপি হচ্ছে, মন্ত্রী হচ্ছে, শিল্পমালিক হচ্ছে সব, সব হচ্ছে। এদের সাথে আত্মীয়তা করতে পেরে মানুষ গর্বিত হয়। ভাবা যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় হচ্ছে দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক প্রমোশন আর শিক্ষক বদলির দায়িত্ব। এই তিনটিকেই এরা বাণিজ্যের ক্ষেত্র বানিয়ে টাকাখোর হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]