রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম, আটক ১

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

নেহাল আহমেদ  :  গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সহযোগিতা করার নামে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গড়ে উঠেছে দালাল চক্র। এ চক্রের সদস্যরা সরকারিভাবে বিনামূল্যে সিজার হওয়া এক রোগীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার সময় হাতেনাতে আটক হয়েছে। আটককৃত দালাল নারীর নাম জনতা রানী দাস (৩৫)। জানাগেছে, জেলার প্রায় ১৪ লাখের অধিক মানুষের স্বাস্থসেবা গ্রহণের প্রধান কেন্দ্র ‘রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল’। যে কারণে এ হাসপাতালে গড়ে উঠেছে এই দালাল চক্র। যদিও এ দালাল চক্রের সাথে হাসপাতালের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর রয়েছে যোগসাজস। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় তারা একাধিকবার ওই দালালদের সতর্ক করেছেন।

তারপরও দালালরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত সোমবার হাসপাতালে আসেন সদর উপজেলার খানখানাপুরের জনৈক রুবেলের স্ত্রী সোনিয়া (২০)। সোনিয়া প্রথমবারের মতো সন্তান সম্ভাবা হওয়ায় বাবা ও স্বামীর হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা ছিলেন চিন্তিত। তাদের হাসপাতালে আসার পর থেকেই পিছু নেন দালাল জনতা রানী দাস। তিনি সোনিয়াকে হাসপাতালে ভার্তি, গাইনি চিকিৎসককে দেখানো এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সহযোগিতা করেন। সেই সাথে হাসপাতালে সিজার হতে গাইনি ডাক্তারকে চার হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান। রোগীর স্বজনরা তাকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে যখন সোনিয়ার সিজারের কাজ করছিলেন চিকিৎসকরা তখন জনতা রানী ওই টাকা পরিশোধ করার জন্য রোগীর স্বজনদের বলতে থাকেন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আলী আহসান বলেন, তিনি অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে আসার পথে জনতা রানীর টাকা দাবির কথা শুনে ফেলেন। সে কারণে তিনি সেখানে দাঁড়ান এবং জনতা রানীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তিনি বলেন, এটা সরকারি হাসপাতাল। এখানে সিজার হওয়া রোগীদের টাকা লাগে না। অথচ সহজ সরল রোগী ও তাদের স্বজনদের এলোমেলো বুঝিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় এক শ্রেণির দালালরা। ইতোপূর্বেও দালাল জনতা রানীকে তিনি সতর্ক করেছেন এ ধরণের প্রতারণা না করতে। জনতা রানীর মতো আরো কয়েকজন দালাল এ হাসপাতাল কেন্দ্রীক রয়েছে। সম্পাদনা : শাশ^ত জামান।

 

আর ওই সব দালালদের সহযোগিতা করার জন্য এ হাসপাতালে চাকরিরত একজন কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে বিষয়টি হাসপাতালের তত্ববধায়ক দীপক কুমার ও রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন রহিম বক্সকে জানানো হয়েছে।

জনতা রানী দাস বলেন, তার স্বামী একজন গ্রামপুলিশ সদস্য। আর তিনিও একটি এনজিও কর্মী হয়ে মানুষকে সহযোগিতা প্রদান করেন। তিনি সিজারিয়ান রোগী সোনিয়ার সাথে সাড়ে ৩ হাজার টাকার চুক্তি হবার কথা স্বীকার করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]