স্বৈরাচার নিপাত গেছে, গণতন্ত্র মুক্তি পাবে কি?

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2018

প্রভাষ আমিন : ১. ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরের কথা মনে আছে আপনাদের? সেদিন কি আপনারা কেউ ভেবেছিলেন স্বৈরাচার এরশাদ আবার বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে; শুধু সুযোগ পাওয়া নয়, রীতিমত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন; এরশাদ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হবেন; তার দল সংসদের প্রধান বিরোধী দল হবে? আমি অন্তত ভাবিনি। যদি জানতাম, নিজের যৌবন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ব্যয় করতাম কিনা জানি না। তবে জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যয় করতে পেরেছি, এটা আমাকে এখনও গর্বিত করে। সেই স্বৈরাচার এরশাদ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সাথে জোট করে নিজেকে জায়েজ করে নিয়েছেন। তবে সন্তুষ্টির কথা হলো, স্বৈরাচার এরশাদ রাজনীতিতে এখন ভাড়ের চেয়ে বেশি কিছু নয়। নির্বাচন এলেই তিনি রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে যান। রাজনীতির মাঠ নয়, নির্বাচনের আগে তার পছন্দ সিএমএইচ।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটলেও এ আন্দোলনে আরেকটি বড় ধাপ ছিল ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর। সেদিন নূর হোসেন বুকে ভুল বানানে ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’, পিঠে ‘গনতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে মাঠে নেমেছিল এবং পুলিশের সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছিল। নূর হোসেনের আত্মদান বৃথা যায়নি। তিনবছর পর স্বৈরাচার নিপাত গেছে। কিন্তু গণতন্ত্র পুরোপুরি মুক্তি পায়নি এখনও। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চলছে। এ লড়াইয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাড়িয়ে বাংলাদেশ। একাদশ নির্বাচনে সব দল অংশ নিচ্ছে। এখন সবার আকাঙ্খা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের।

২. সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্খায় গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। এতদিন বিএনপি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে এলেও এই প্রথম তারা কমিশনকে ধন্যবাদ জানালো। মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের প্রথম দিনেই ৮০ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএরপির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীও। প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান (কিশোরগঞ্জ-২), ব্যারিস্টার আমিনুল হক (রাজশাহী-১), শামিম তালুকদার (জামালপুর-৪), গোলামসমাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), মোরশেদ মিল্টন (বগুড়া-৭), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), তমিজউদ্দিন (ঢাকা-২০), কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট-৩), আব্দুল মজিদ ( ঝিনাইদহ-২), মোস্তফা কামাল পাশা (চট্টগ্রাম-৩)। শুরুর দিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ছোটখাটো ভুলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে না। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা তাদের সে নির্দেশ ফলো করেনি। ছোটোখাটো ভুলে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু আপিলে এসে অনেকেই ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আপিলের আরো দুদিন বাকি রয়েছে। আশা করা যায়, যোগ্য প্রার্থী যাদের মনোনয়নপত্র ছোটখাটো ভুলে বাতিল হয়েছে, তাদের সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে। তাতে নির্বাচন আরো অংশগ্রহণমূলক ও জমজমাট হবে। তাতে গণতন্ত্রের পথে যাত্রাটা আরো ত্বরান্বিত হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]